০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জনপ্রিয় সাপ্লিমেন্ট কি সত্যিই প্রয়োজন? খাদ্য থেকেই কতটা পাওয়া যায় জানুন ইউএই-এর স্কুলে ভর্তির বয়স নিয়ম পরিবর্তনে মা-বাবাদের জন্য নমনীয়তার দাবি পশ্চিম তীরের বসতি কাজ বন্ধ করুন: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি ঘোড়ার বছরে একাত্মতার উৎসব, এক্সপো সিটিতে ৩ হাজারের বেশি শিল্পীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ভারতে ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা বজায়, ফিলিপ মরিসের লবিংয়ের পরেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদ্যালয় সময়সূচি সমন্বয় কানাডার স্কুলে রক্তাক্ত হামলা, নিহত অন্তত ৯: স্তব্ধ জাতি, শোকে বিশ্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘রেড লাইন’, কোনো সমঝোতা নয়: ইরান নির্বাচিত হলে আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়েই দেশ চালাতে চাই: তারেক রহমান আফগান মাটিতে জঙ্গি ছায়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের দাবা খেলার গৌরবময় ইতিহাস

প্রাচীন শিকড় ও সূচনা

বাংলাদেশে দাবার শিকড় প্রাচীনকাল থেকেই দৃশ্যমান। ধারণা করা হয়, ভারতবর্ষেই দাবার জন্ম এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলায় খেলার প্রসার ঘটে। প্রাচীন পাল ও সেন আমলে রাজদরবারে দাবা ছিল অভিজাতদের বিনোদন। গ্রামীণ বাংলাতেও চৌকাঠে আঁকা বোর্ডে গুটি সাজিয়ে দাবার আসর বসত। এভাবেই দাবা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও জনপ্রিয়তা

গ্রামবাংলার হাট-বাজারে এবং জমিদার বাড়ির উঠোনে দাবার প্রতিযোগিতা হতো। খেলোয়াড়রা মুখে মুখে চাল ঘোষণা করতেন, যা ছিল এক ধরনের মৌখিক ঐতিহ্য। স্থানীয় বিজয়ীরা প্রায়ই পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, ফলে দাবা ধীরে ধীরে কেবল বিনোদন নয়, প্রতিযোগিতামূলক খেলায় রূপ নেয়।

দাবার বোর্ড পরিচিতি

পাকিস্তান আমলে অগ্রযাত্রা

১৯৪৭ সালের পর পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে দাবার সংগঠনমূলক কাঠামো তৈরি হতে শুরু করে। ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে দাবার ক্লাব গড়ে ওঠে। স্থানীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে তৎকালীন সময়ে সীমিত অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অভাবে অগ্রগতি মন্থর ছিল।

স্বাধীনতার পর নবযাত্রা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দাবা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবাকে জাতীয় খেলার অঙ্গনে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির পথ খুলে যায়।

আন্তর্জাতিক সাফল্য

বাংলাদেশি দাবাড়ুরা ১৯৮০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের পরিচয় দিতে শুরু করেন। নিয়াজ মোরশেদ ১৯৮৭ সালে এশিয়ার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান, এনামুল হক রাসেল, রেফাত বিন সত্তার, আবদুল্লাহ আল রাকিবসহ আরও অনেকেই আন্তর্জাতিক খেতাব অর্জন করেন। নারী দাবাড়ুদের মধ্যেও রোমানা সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শারমিন সুলতানা সিমি প্রমুখ সাফল্য অর্জন করেছেন।

দলগত অর্জন

বাংলাদেশ দাবা দল একাধিকবার অলিম্পিয়াড ও এশিয়ান টিম চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মিত গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ফলে দেশের দাবা বিশ্ব মানচিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমানে বাংলাদেশে দাবা কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও জনপ্রিয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তরুণরা দাবায় আগ্রহী হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের ফলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্প এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সমন্বয়ে বাংলাদেশের দাবা ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রাখে

জনপ্রিয় সংবাদ

জনপ্রিয় সাপ্লিমেন্ট কি সত্যিই প্রয়োজন? খাদ্য থেকেই কতটা পাওয়া যায় জানুন

বাংলাদেশের দাবা খেলার গৌরবময় ইতিহাস

০৬:১১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

প্রাচীন শিকড় ও সূচনা

বাংলাদেশে দাবার শিকড় প্রাচীনকাল থেকেই দৃশ্যমান। ধারণা করা হয়, ভারতবর্ষেই দাবার জন্ম এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলায় খেলার প্রসার ঘটে। প্রাচীন পাল ও সেন আমলে রাজদরবারে দাবা ছিল অভিজাতদের বিনোদন। গ্রামীণ বাংলাতেও চৌকাঠে আঁকা বোর্ডে গুটি সাজিয়ে দাবার আসর বসত। এভাবেই দাবা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও জনপ্রিয়তা

গ্রামবাংলার হাট-বাজারে এবং জমিদার বাড়ির উঠোনে দাবার প্রতিযোগিতা হতো। খেলোয়াড়রা মুখে মুখে চাল ঘোষণা করতেন, যা ছিল এক ধরনের মৌখিক ঐতিহ্য। স্থানীয় বিজয়ীরা প্রায়ই পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, ফলে দাবা ধীরে ধীরে কেবল বিনোদন নয়, প্রতিযোগিতামূলক খেলায় রূপ নেয়।

দাবার বোর্ড পরিচিতি

পাকিস্তান আমলে অগ্রযাত্রা

১৯৪৭ সালের পর পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে দাবার সংগঠনমূলক কাঠামো তৈরি হতে শুরু করে। ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে দাবার ক্লাব গড়ে ওঠে। স্থানীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে তৎকালীন সময়ে সীমিত অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অভাবে অগ্রগতি মন্থর ছিল।

স্বাধীনতার পর নবযাত্রা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দাবা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবাকে জাতীয় খেলার অঙ্গনে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির পথ খুলে যায়।

আন্তর্জাতিক সাফল্য

বাংলাদেশি দাবাড়ুরা ১৯৮০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের পরিচয় দিতে শুরু করেন। নিয়াজ মোরশেদ ১৯৮৭ সালে এশিয়ার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান, এনামুল হক রাসেল, রেফাত বিন সত্তার, আবদুল্লাহ আল রাকিবসহ আরও অনেকেই আন্তর্জাতিক খেতাব অর্জন করেন। নারী দাবাড়ুদের মধ্যেও রোমানা সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শারমিন সুলতানা সিমি প্রমুখ সাফল্য অর্জন করেছেন।

দলগত অর্জন

বাংলাদেশ দাবা দল একাধিকবার অলিম্পিয়াড ও এশিয়ান টিম চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মিত গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ফলে দেশের দাবা বিশ্ব মানচিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমানে বাংলাদেশে দাবা কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও জনপ্রিয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তরুণরা দাবায় আগ্রহী হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের ফলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্প এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সমন্বয়ে বাংলাদেশের দাবা ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রাখে