০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা: অপতৎপরতা রুখতে আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা, তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য রবিন হুডের অন্ধকার অধ্যায়: কিংবদন্তিকে নতুনভাবে দেখাল ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ প্লেভের সাফল্যে উজ্জীবিত দক্ষিণ কোরিয়ার ভার্চুয়াল আইডল বাজার, একের পর এক নতুন গ্রুপের আত্মপ্রকাশ

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৪)

ভাওয়ালের রাজার ঢাকার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কামরাঙ্গির চর, ফুলবাড়িয়া প্রভৃতি স্থানে গভীর গর্ত হয়ে গিয়েছিল।’

পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী যেসব ইমারত ক্ষতিগ্রস্তজ হয়েছিল, সেগুলো হলো-সেন্ট থমাস গীর্জা, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ ভবন, ইডেন ফিমেল স্কুল, ইম্পিরিয়াল সেমিনারি, নওয়াব বাড়ি, কালীপ্রসন্ন ঘোষ (বান্ধব কুটির), নন্দলাল মুন্সী, চন্দ্রকান্ত গাঙ্গুলির বাড়ির অংশ। “জজ ম্যাজিস্ট্রেট প্রভৃতি সাহেবদিগের অধিকাংশ বাড়ি বাসের অনুপযুক্ত হইয়াছে। নবাবপুরের শাহীন মেডিকেল হল নামক ঔষধালয়টি একেবারে চূর্ণ হইয়াছে।

তাহার দ্বিতলে হাইকোজানি নামধেয় আম্মানী সাহেবেরা সপরিবারে ছিলেন। ১টি সাহেব ও ১টি মেম তখনই মরিয়াছেন। ৩টি মেম মুমূর্ষ, একটি মেমের জীবনের কোনো আশঙ্খা নাই। নাজিরের মঠের পতনে জন্মধ্যে স্থিত একটি বেশধারী ও দুইটি ধোবার মৃত্যু হইয়াছে, প্রায় পাঁচশত বাড়ি একেবারে নষ্ট ও আট হাজার বাড়ির কোনো না কোনো ক্ষতি হইয়াছে…”। আহত এক মহিলা পরে মারা যান। ভাওয়ালের রাজার ঢাকার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কামরাঙ্গির চর, ফুলবাড়িয়া প্রভৃতি স্থানে গভীর গর্ত হয়ে গিয়েছিল।’

ক্ষতির বিবরণটি সংবাদপত্রে যা ছাপা হয়েছে তা সঠিক। মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে পাঁচজন, বেসরকারি হিসাবে ছয়জন। তবে, ক্ষতির পরিমাণ সরকার যে দেড় লক্ষ রুপি বলেছেন তা খানিকটা কম। আবার সংবাদপত্র বিশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে যে দাবি করেছে তাও খুব বেশি বলে মনে হয়।

স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার মানুষজন এ ভূমিকম্পে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। নওয়াব আহসান উল্লাহ ডায়েরিতে লিখেছিলেন-“একটু পরেই ভূমিকম্প শুরু হলো। আমি বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম, রবার গাছের কাছে পৌঁছলে দালানের কার্নিশ ভেঙে পড়তে লাগল। আমি সেখানেই সেজদায় পড়ে গেলাম এবং স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের আগমন পর্যন্ত ওখানে সেজদায় রইলাম। এত ভূমিকম্প আজ পর্যন্ত আর হয় নি।

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৪)

০৭:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভাওয়ালের রাজার ঢাকার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কামরাঙ্গির চর, ফুলবাড়িয়া প্রভৃতি স্থানে গভীর গর্ত হয়ে গিয়েছিল।’

পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী যেসব ইমারত ক্ষতিগ্রস্তজ হয়েছিল, সেগুলো হলো-সেন্ট থমাস গীর্জা, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ ভবন, ইডেন ফিমেল স্কুল, ইম্পিরিয়াল সেমিনারি, নওয়াব বাড়ি, কালীপ্রসন্ন ঘোষ (বান্ধব কুটির), নন্দলাল মুন্সী, চন্দ্রকান্ত গাঙ্গুলির বাড়ির অংশ। “জজ ম্যাজিস্ট্রেট প্রভৃতি সাহেবদিগের অধিকাংশ বাড়ি বাসের অনুপযুক্ত হইয়াছে। নবাবপুরের শাহীন মেডিকেল হল নামক ঔষধালয়টি একেবারে চূর্ণ হইয়াছে।

তাহার দ্বিতলে হাইকোজানি নামধেয় আম্মানী সাহেবেরা সপরিবারে ছিলেন। ১টি সাহেব ও ১টি মেম তখনই মরিয়াছেন। ৩টি মেম মুমূর্ষ, একটি মেমের জীবনের কোনো আশঙ্খা নাই। নাজিরের মঠের পতনে জন্মধ্যে স্থিত একটি বেশধারী ও দুইটি ধোবার মৃত্যু হইয়াছে, প্রায় পাঁচশত বাড়ি একেবারে নষ্ট ও আট হাজার বাড়ির কোনো না কোনো ক্ষতি হইয়াছে…”। আহত এক মহিলা পরে মারা যান। ভাওয়ালের রাজার ঢাকার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কামরাঙ্গির চর, ফুলবাড়িয়া প্রভৃতি স্থানে গভীর গর্ত হয়ে গিয়েছিল।’

ক্ষতির বিবরণটি সংবাদপত্রে যা ছাপা হয়েছে তা সঠিক। মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে পাঁচজন, বেসরকারি হিসাবে ছয়জন। তবে, ক্ষতির পরিমাণ সরকার যে দেড় লক্ষ রুপি বলেছেন তা খানিকটা কম। আবার সংবাদপত্র বিশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে যে দাবি করেছে তাও খুব বেশি বলে মনে হয়।

স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার মানুষজন এ ভূমিকম্পে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। নওয়াব আহসান উল্লাহ ডায়েরিতে লিখেছিলেন-“একটু পরেই ভূমিকম্প শুরু হলো। আমি বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম, রবার গাছের কাছে পৌঁছলে দালানের কার্নিশ ভেঙে পড়তে লাগল। আমি সেখানেই সেজদায় পড়ে গেলাম এবং স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের আগমন পর্যন্ত ওখানে সেজদায় রইলাম। এত ভূমিকম্প আজ পর্যন্ত আর হয় নি।

(চলবে)