০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিদেশে নতুন জীবন, ক্যামেরায় গল্প: ফিলিপিনো নারীদের ভাইরাল যাত্রা ও ভাঙছে পুরনো ধারণা সাংহাইয়ে বয়স্কদের কাজে ফেরানোর উদ্যোগ, জনসংখ্যা সংকটে নতুন পথ খুঁজছে চীন আশা ভোঁসলেকে নিয়ে রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ: আমার প্রিয় আশা দিদি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ফিরছে লাখো অভিবাসী শ্রমিক ভেনেজুয়েলা: মাদুরো-পরবর্তী পরিবর্তনের আশাবাদ, বাস্তবতায় রয়ে গেছে বড় অনিশ্চয়তা জ্বালানি সংকটে অ-ভর্তুকিযুক্ত তেলের দাম হঠাৎ লাফিয়ে বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চাপে বাড়ছে উদ্বেগ কাতার: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মাঝে আটকে পড়া এক অর্থনৈতিক ধাক্কার গল্প জ্বালানি সংকটে সরকারের দেরি নিয়ে সংসদে তোপ, দীর্ঘ লাইনের চিত্র তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা এআই যুগে বদলে যাচ্ছে তথ্যের অর্থনীতি, মানুষের বদলে ‘মেশিন শ্রোতা’—নতুন বাস্তবতা বিডার ওএসএস প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হলো ৫ বেসরকারি ব্যাংক, বিনিয়োগ সেবায় আসছে বড় পরিবর্তন

লুসি গুও: ৩০ বছরেই বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নারী বিলিয়নিয়ার

বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী স্বনির্মিত নারী বিলিয়নিয়ার লুসি গুও সম্প্রতি ফোর্বস তালিকায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে আলোচনায় আসেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সিরিয়াল উদ্যোক্তা হিসেবে। গুও জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রম ও মিতব্যয়ী জীবনধারাই তার উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা।

গুওর প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল স্কেল এআই (Scale AI), যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা লেবেলিং সেবা দিত। কোম্পানিটি দ্রুতই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনায় আসে এবং পরে মেটা প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে এটি অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে গুও ২০২২ সালে চালু করা পাসেস (Passes) নামের কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনিটাইজেশন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২০১৯ সালে তিনি ব্যাকএন্ড ভেঞ্চারস (Backend Ventures) প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে।

চীনা অভিবাসী বাবা-মায়ের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্টে বেড়ে ওঠা গুও ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও অর্থের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি বলেন, বাবা-মা তাকে অ্যাবাকাস প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাধ্য করতেন এবং পড়াশোনায় ভালো করার জন্য নিরন্তর চাপ দিতেন।

উচ্চশিক্ষায় তিনি ভর্তি হন কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কম্পিউটার সায়েন্স ও হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তবে মাত্র দুই বছর পর, ডিগ্রি শেষ হওয়ার এক বছর বাকি থাকতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। গুওর মতে, এ সিদ্ধান্ত তার বাবা-মায়ের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তিনি পরে থিয়েল ফেলোশিপে যোগ দেন, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তাদের ২ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয় নতুন কোম্পানি গড়ে তোলার জন্য।

লুসি গুও ছোটবেলা থেকেই অর্থ উপার্জনের অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতেই তিনি পোকেমন কার্ড, রঙিন পেন্সিলসহ নানা জিনিস বিক্রি করে টাকা কামাতেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি হোম ডিপো থেকে একটি ডেবিট কার্ড সংগ্রহ করেন এবং পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের সঞ্চয় শুরু করেন।

ইন্টারনেটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুও নীওপেটস (Neopets) নামের একটি অনলাইন গেমে বিরল ভার্চুয়াল পোষা প্রাণী বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। পরে কোডিং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে গেমে ব্যবহারের জন্য বট তৈরি করেন এবং সেগুলো বিক্রি করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট বানানো, গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং টুল তৈরি করে তিনি নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন। গুও বলেন, “একটার পর একটা উদ্যোগ যেন নিজেই তৈরি হয়ে যাচ্ছিল।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে নতুন জীবন, ক্যামেরায় গল্প: ফিলিপিনো নারীদের ভাইরাল যাত্রা ও ভাঙছে পুরনো ধারণা

লুসি গুও: ৩০ বছরেই বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নারী বিলিয়নিয়ার

০৩:৩৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী স্বনির্মিত নারী বিলিয়নিয়ার লুসি গুও সম্প্রতি ফোর্বস তালিকায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে আলোচনায় আসেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সিরিয়াল উদ্যোক্তা হিসেবে। গুও জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রম ও মিতব্যয়ী জীবনধারাই তার উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা।

গুওর প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল স্কেল এআই (Scale AI), যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা লেবেলিং সেবা দিত। কোম্পানিটি দ্রুতই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনায় আসে এবং পরে মেটা প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে এটি অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে গুও ২০২২ সালে চালু করা পাসেস (Passes) নামের কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনিটাইজেশন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২০১৯ সালে তিনি ব্যাকএন্ড ভেঞ্চারস (Backend Ventures) প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে।

চীনা অভিবাসী বাবা-মায়ের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্টে বেড়ে ওঠা গুও ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও অর্থের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি বলেন, বাবা-মা তাকে অ্যাবাকাস প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাধ্য করতেন এবং পড়াশোনায় ভালো করার জন্য নিরন্তর চাপ দিতেন।

উচ্চশিক্ষায় তিনি ভর্তি হন কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কম্পিউটার সায়েন্স ও হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তবে মাত্র দুই বছর পর, ডিগ্রি শেষ হওয়ার এক বছর বাকি থাকতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। গুওর মতে, এ সিদ্ধান্ত তার বাবা-মায়ের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তিনি পরে থিয়েল ফেলোশিপে যোগ দেন, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তাদের ২ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয় নতুন কোম্পানি গড়ে তোলার জন্য।

লুসি গুও ছোটবেলা থেকেই অর্থ উপার্জনের অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতেই তিনি পোকেমন কার্ড, রঙিন পেন্সিলসহ নানা জিনিস বিক্রি করে টাকা কামাতেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি হোম ডিপো থেকে একটি ডেবিট কার্ড সংগ্রহ করেন এবং পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের সঞ্চয় শুরু করেন।

ইন্টারনেটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুও নীওপেটস (Neopets) নামের একটি অনলাইন গেমে বিরল ভার্চুয়াল পোষা প্রাণী বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। পরে কোডিং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে গেমে ব্যবহারের জন্য বট তৈরি করেন এবং সেগুলো বিক্রি করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট বানানো, গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং টুল তৈরি করে তিনি নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন। গুও বলেন, “একটার পর একটা উদ্যোগ যেন নিজেই তৈরি হয়ে যাচ্ছিল।”