০১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
শেভ্রোলেটের দখলে উজবেকিস্তান, চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাপে বদলাচ্ছে ‘শেভ্রোলেটস্তান’ এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনীতিতে নতুন বাস্তবতা: পরিবর্তনের চাপে নীতি ও বাজারের লড়াই ভরপুর বাজার, তবু সংকটে চীনের খামার শিল্প ব্রাজিলের বায়োফুয়েল শক্তি: জ্বালানি সংকটে এক গোপন ঢাল হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ আখচাষিদের বকেয়া ৩২ গুণ বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা আটকে—চাপ বাড়ছে কৃষকের জীবনে উত্তরাখণ্ডে ভাঙন, ছয় নেতা বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে ৮ জেলায় তেল সংকট: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে জ্বালানি সরবরাহ থমকে গেছে জনসংখ্যা বদল থামাতে বিজেপিই শেষ ভরসা, তৃণমূলকে ঘিরে শাহের বিস্ফোরক চার্জশিট থাইল্যান্ডে নতুন জীবন খুঁজছেন মিয়ানমারের লাখো মানুষ, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের লড়াই তীব্রতর

কোয়েটায় বিএনপি সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ল ১৫

হামলার ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা

কোয়েটার সারিয়াব এলাকার শাহওয়ানি স্টেডিয়ামের কাছে বিএনপি (বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গল) আয়োজিত এক সমাবেশ শেষে মঙ্গলবার রাতে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বাড়ল ১৫ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন।

এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রয়াত নেতা সারদার আতাউল্লাহ মেঙ্গলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে। উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।


প্রশাসনের বক্তব্য

অতিরিক্ত প্রধান সচিব (হোম) মোহাম্মদ হামজা শফকাত জানান, হামলাটি রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন-এলাকায়ঘটে, যা সমাবেশস্থলের প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এবং একটি কবরস্থানের পাশে ছিল।

তিনি বলেন, সমাবেশ শেষ হয়ে যাওয়ায় হামলাকারী মূল ভিড়ে প্রবেশ করতে পারেনি। ১২০ জন পুলিশ সদস্যের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কারণে সে বাধ্য হয়ে বাইরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। হামলাকারীর বয়স ৩০ বছরের নিচে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৮ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।

সরকার নিহতদের পরিবারকে ১৫ লাখ রুপি, আহতদের ৫ লাখ রুপি এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

সারা বেলুচিস্তানে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বিশেষ করে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে।


মুখ্যমন্ত্রী বুগটির প্রতিক্রিয়া

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগটি বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রদেশের শান্তি নষ্ট করতে পারবে না।

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, জনগণ ও গণমাধ্যমকে যাচাই করা তথ্য জানাতে হবে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে সরকারি বিমানে করে করাচি নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি ঐক্যের সময়। সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেন তিনি।

বুগটি সিভিল হাসপাতাল ও সিএমএইচ কোয়েটা সফর করে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি বর্তমানে বেইজিং সফরে আছেন, এই হামলাকে নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি সন্ত্রাসীদের একটি ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য বেলুচিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা।

শাহবাজ শরিফ বলেন, নিরীহ ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা কাপুরুষোচিত এবং বরদাশতযোগ্য নয়। তিনি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।


কোয়েটার এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে সন্ত্রাসবাদ এখনও বেলুচিস্তানের শান্তি ও উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের প্রতিশ্রুতি ও উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা দেখাচ্ছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেভ্রোলেটের দখলে উজবেকিস্তান, চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাপে বদলাচ্ছে ‘শেভ্রোলেটস্তান’

কোয়েটায় বিএনপি সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ল ১৫

০২:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হামলার ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা

কোয়েটার সারিয়াব এলাকার শাহওয়ানি স্টেডিয়ামের কাছে বিএনপি (বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গল) আয়োজিত এক সমাবেশ শেষে মঙ্গলবার রাতে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বাড়ল ১৫ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন।

এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রয়াত নেতা সারদার আতাউল্লাহ মেঙ্গলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে। উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।


প্রশাসনের বক্তব্য

অতিরিক্ত প্রধান সচিব (হোম) মোহাম্মদ হামজা শফকাত জানান, হামলাটি রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন-এলাকায়ঘটে, যা সমাবেশস্থলের প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এবং একটি কবরস্থানের পাশে ছিল।

তিনি বলেন, সমাবেশ শেষ হয়ে যাওয়ায় হামলাকারী মূল ভিড়ে প্রবেশ করতে পারেনি। ১২০ জন পুলিশ সদস্যের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কারণে সে বাধ্য হয়ে বাইরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। হামলাকারীর বয়স ৩০ বছরের নিচে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৮ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।

সরকার নিহতদের পরিবারকে ১৫ লাখ রুপি, আহতদের ৫ লাখ রুপি এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

সারা বেলুচিস্তানে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বিশেষ করে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে।


মুখ্যমন্ত্রী বুগটির প্রতিক্রিয়া

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগটি বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রদেশের শান্তি নষ্ট করতে পারবে না।

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, জনগণ ও গণমাধ্যমকে যাচাই করা তথ্য জানাতে হবে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে সরকারি বিমানে করে করাচি নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি ঐক্যের সময়। সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেন তিনি।

বুগটি সিভিল হাসপাতাল ও সিএমএইচ কোয়েটা সফর করে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি বর্তমানে বেইজিং সফরে আছেন, এই হামলাকে নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি সন্ত্রাসীদের একটি ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য বেলুচিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা।

শাহবাজ শরিফ বলেন, নিরীহ ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা কাপুরুষোচিত এবং বরদাশতযোগ্য নয়। তিনি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।


কোয়েটার এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে সন্ত্রাসবাদ এখনও বেলুচিস্তানের শান্তি ও উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের প্রতিশ্রুতি ও উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা দেখাচ্ছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।