০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন স্মৃতি, শহর আর আত্মঅন্বেষণের অনন্য যাত্রা: অনন্যা বাজপেয়ীর বইয়ে বিশ্ব নগরের অন্তরঙ্গ মানচিত্র সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই–অক্সাইড থেকে পেট্রোলের উপাদান তৈরির নতুন পথ দেখালেন চীনা বিজ্ঞানীরা কঠোর প্রাণীকল্যাণ আইন দাবি, হংকংয়ে পুকুরে মিলল আক্রমণাত্মক কচ্ছপ দুবাইয়ে ৩৮ বিলিয়ন দিরহামের নতুন আবাসন প্রকল্পে আলদার–দুবাই হোল্ডিং জোটের বড় সম্প্রসারণ বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম পাখির ফ্লু আতঙ্কে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ুর সংক্রমণ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

বেইজিং বৈঠকের পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান আরও কঠোর করলেন পুতিন

পশ্চিমা সেনা মোতায়েনে হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার দূর প্রাচ্যে এক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে কোনো বিদেশি সেনা— এমনকি শান্তিরক্ষীও— পাঠানো হলে রুশ সেনারা তাদের বৈধ টার্গেট হিসেবে ধ্বংস করবে।

এই বক্তব্যের পরপরই ফোরামে উপস্থিত রুশ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা করতালিতে ফেটে পড়েন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া ছিল শীতল ও ভীতিজনক। ঘটনাটি ঘটল এমন সময়, যখন কিয়েভের মিত্ররা ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর নামে যুদ্ধ-পরবর্তী এক আশ্বাসবাহী নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রস্তাব

বক্তৃতায় পুতিন বলেন, তিনি চাইলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, তবে সেটি হবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। তিনি মস্কোকে “হিরো সিটি” হিসেবে উল্লেখ করেন। রাশিয়ার বাইরে অবশ্য এই প্রস্তাবকে গুরুত্বহীন, কেবল রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শান্তি কিন্তু রাশিয়ার শর্তে

ক্রেমলিনের অবস্থান এখন স্পষ্ট: শান্তি চাইলে তা কেবল রাশিয়ার শর্তে সম্ভব। শর্ত মানা না হলে শান্তির প্রশ্নই নেই।

এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

  • ইউক্রেনের যুদ্ধে রুশ সেনাদের হাতে এখন উদ্যোগ আছে বলে বিশ্বাস করছে ক্রেমলিন।
  • কূটনৈতিক সাফল্যও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ে পুতিনের সঙ্গে চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে রাশিয়ার শক্তিশালী মিত্র আছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রকেও তারা একধরনের সুযোগ হিসেবে দেখছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি আলটিমেটাম ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেও সেগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এ কারণে রাশিয়ার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। একই সময়ে ট্রাম্প পুতিনকে আলাস্কায় সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানান। রাশিয়ার পক্ষে থাকা বিশ্লেষকরা এটিকে পশ্চিমাদের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের ভূমিকা ও রাশিয়ার আত্মবিশ্বাস

পুতিন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও তিনি কোনো অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব মানতে রাজি নন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ছাড় দেওয়ারও ইচ্ছা দেখাচ্ছেন না।

শান্তির সম্ভাবনা কোথায়?

সম্প্রতি পুতিন বলেছেন, তিনি “সুরঙ্গের শেষে আলো দেখতে পাচ্ছেন”। তবে বাস্তবে রাশিয়া এক পথে, আর ইউক্রেন ও ইউরোপ ভিন্ন পথে হাঁটছে।

  • ইউক্রেন ও ইউরোপের লক্ষ্য যুদ্ধ থামানো, কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আরেকটি হামলা ঠেকানোর মতো শক্তি গড়ে তোলা।
  • অন্যদিকে, পুতিনের চোখে “সুরঙ্গের আলো” মানেই ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয় এবং দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়ার জন্য অনুকূল নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা তৈরি হওয়া।

এই দুই ভিন্ন পথ কবে বা কোথায় এসে মিশবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন

বেইজিং বৈঠকের পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান আরও কঠোর করলেন পুতিন

০৩:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পশ্চিমা সেনা মোতায়েনে হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার দূর প্রাচ্যে এক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে কোনো বিদেশি সেনা— এমনকি শান্তিরক্ষীও— পাঠানো হলে রুশ সেনারা তাদের বৈধ টার্গেট হিসেবে ধ্বংস করবে।

এই বক্তব্যের পরপরই ফোরামে উপস্থিত রুশ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা করতালিতে ফেটে পড়েন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া ছিল শীতল ও ভীতিজনক। ঘটনাটি ঘটল এমন সময়, যখন কিয়েভের মিত্ররা ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর নামে যুদ্ধ-পরবর্তী এক আশ্বাসবাহী নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রস্তাব

বক্তৃতায় পুতিন বলেন, তিনি চাইলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, তবে সেটি হবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। তিনি মস্কোকে “হিরো সিটি” হিসেবে উল্লেখ করেন। রাশিয়ার বাইরে অবশ্য এই প্রস্তাবকে গুরুত্বহীন, কেবল রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শান্তি কিন্তু রাশিয়ার শর্তে

ক্রেমলিনের অবস্থান এখন স্পষ্ট: শান্তি চাইলে তা কেবল রাশিয়ার শর্তে সম্ভব। শর্ত মানা না হলে শান্তির প্রশ্নই নেই।

এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

  • ইউক্রেনের যুদ্ধে রুশ সেনাদের হাতে এখন উদ্যোগ আছে বলে বিশ্বাস করছে ক্রেমলিন।
  • কূটনৈতিক সাফল্যও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ে পুতিনের সঙ্গে চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে রাশিয়ার শক্তিশালী মিত্র আছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রকেও তারা একধরনের সুযোগ হিসেবে দেখছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি আলটিমেটাম ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেও সেগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এ কারণে রাশিয়ার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। একই সময়ে ট্রাম্প পুতিনকে আলাস্কায় সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানান। রাশিয়ার পক্ষে থাকা বিশ্লেষকরা এটিকে পশ্চিমাদের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের ভূমিকা ও রাশিয়ার আত্মবিশ্বাস

পুতিন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও তিনি কোনো অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব মানতে রাজি নন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ছাড় দেওয়ারও ইচ্ছা দেখাচ্ছেন না।

শান্তির সম্ভাবনা কোথায়?

সম্প্রতি পুতিন বলেছেন, তিনি “সুরঙ্গের শেষে আলো দেখতে পাচ্ছেন”। তবে বাস্তবে রাশিয়া এক পথে, আর ইউক্রেন ও ইউরোপ ভিন্ন পথে হাঁটছে।

  • ইউক্রেন ও ইউরোপের লক্ষ্য যুদ্ধ থামানো, কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আরেকটি হামলা ঠেকানোর মতো শক্তি গড়ে তোলা।
  • অন্যদিকে, পুতিনের চোখে “সুরঙ্গের আলো” মানেই ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয় এবং দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়ার জন্য অনুকূল নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা তৈরি হওয়া।

এই দুই ভিন্ন পথ কবে বা কোথায় এসে মিশবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।