০১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ন্যাটোর ভাঙন বাড়তে দেখে উল্লসিত রাশিয়া ২০২৬ সালে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের সময় হাসিনা আপার কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকব : মির্জা ফখরুল ভয়াবহ শীতঝড়ে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, তুষার ও বরফে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে কোটি মানুষ ময়মনসিংহে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, পুড়ে গেছে নথি ও আসবাব দিল্লিতে প্রথমবার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য একটি দল ভারতের সঙ্গে আপস করে বাংলাদেশকে বিক্রি করতে চায়: তাহের কুমারখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিহত যশোর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ মুন্সিগঞ্জ–৩ আসনে নির্বাচনী মিছিলে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ছয়জন

বাংলাদেশে স্লোগানের আলো ও অন্ধকার : ইতিহাস মনে রাখে যে ধ্বনি

  • Sarakhon Report
  • ০৮:২৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 122

স্লোগান পারে ইতিহাস বদলে দিতে, পারে অশ্রু ভেজা রাতকে পরিণত করতে বিজয়ের প্রভাতে। মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ, স্বপ্ন আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা একসময় স্লোগান হয়েই ঝড় তোলে রাস্তায়, শহরে, গ্রামে।

গণতন্ত্রের মিছিল

সময়ের পরতে পরতে স্লোগান হয়ে উঠেছে গণতন্ত্রের শ্বাস। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর শহিদ নূর হোসেনের বুকে লেখা “স্বৈরাচার নিপাত যাক” আর পিঠে “গণতন্ত্র মুক্তি পাক”—আজও ইতিহাসের বুক চিড়ে বাজে। ১৯৯০-এর আন্দোলনে সেই স্লোগানই রাস্তায় রাস্তায়, গ্রামে গ্রামে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল।

আধুনিক স্লোগান: ন্যায়বিচার ও বিদ্রোহ

২০১৩-র গণজাগরণ মঞ্চে কেঁপে উঠেছিল শাহবাগ “ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই, “রাজাকারের ঠিকানা, সোনার বাংলায় হবে না”—এইসব স্লোগানে। অন্যদিকে হেফাজতের সমাবেশে শোনা গিয়েছিল “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর”, “নাস্তিকদের ফাঁসি চাই” ইত্যাদি স্লোগান।

২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মুখে শোনা গেল অন্যরকম স্লোগান—কখনো শ্লেষ, কখনো ব্যঙ্গ, কখনো বুকফাটা কান্না। “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে, “আমার মা কাঁদছে, নৌমন্ত্রী হাসছে”—এইসব ধ্বনি রাস্তায় রাস্তায় বয়ে এনেছিল অগ্নিগর্ভ এক সময়।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্থানের প্রতীক হিসেবে মানুষ হেলিকপ্টার আকৃতির বেলুন ধরে আছে।
“একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার”৷

২০২৪: ‘একাত্তরের হাতিয়ার’ আবার

চব্বিশের জুলাই ফিরে এলো ১৯৭১-এর স্পৃহা। শিক্ষার্থীরা ধ্বনি তুলল—”একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার”। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন বদলে গেল গণঅভ্যুত্থানে। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো—

“আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম”,

“দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ”,

“লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছাইড়া দে”,

“জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো”।

আবু সাঈদের মৃত্যু সেই আন্দোলনে ঢেলে দিলো নতুন আগুন।

বিকৃত স্লোগানের অন্ধকার

কিন্তু সব স্লোগান আলো আনে না। কিছু কিছু স্লোগান, জন্মমুহূর্তেই ইতিহাসের আবর্জনায় স্থান করে নেয়। যেমন—”একটা একটা ..….. ধর, ধইরা ধইরা জ…বাই কর” কিংবা “একটা দুইটা ….. ধর, সকাল-বিকাল নাশতা কর”—যা প্রতিবাদ নয়, বরং বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন। একইভাবে এখন শোনা যায় এর উল্টো স্লোগান। সেটাও কাম্য নয়।

২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলনে শোনা গিয়েছিল—”আমার ভাইয়ের রক্তে লাল, পুলিশ কোন চ্যা…র…বা…ল। পুরান ঢাকায় এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করার পর এক সভায় উচ্চারিত হয়েছিল—”এক দুই তিন চার, তা…জি…মার”।

সাম্প্রতিককালে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে তরুণ-তরুণীদের স্লোগান—”টিনের চালের কাউয়া, ফজলু আমার…..”—লজ্জিত করেছে জাতিকে।

এমন স্লোগান ইতিহাসে টেকে না। মানুষ ভুলে যায় স্লোগানটিকে, কিন্তু বিকৃতকারীর নাম হয়ে যায় ঘৃণার ট্রেডমার্ক।

শেষকথা

স্লোগান জাতির প্রতিবাদের হাতিয়ার, জনমানুষের মনের ভাষা। কোনো কোনো স্লোগান শত বছর পরেও উজ্জীবিত করে মানুষকে, আবার কিছু স্লোগান জন্ম মুহূর্তেই ধ্বংস ডেকে আনে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র নির্মাতা। তাদের হাতে যদি থাকে ইতিবাচক ভাষা, বিশ্বমানের স্লোগান, তবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে আলোর পথে। কারণ, তরুণরা ঠিক থাকলে দেশও ঠিক থাকবে। স্লোগান হবে প্রেরণার, ঐক্যের, সংগ্রামের—কখনোই বিভেদ আর বিকৃতির নয়।

DW

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটোর ভাঙন বাড়তে দেখে উল্লসিত রাশিয়া

বাংলাদেশে স্লোগানের আলো ও অন্ধকার : ইতিহাস মনে রাখে যে ধ্বনি

০৮:২৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

স্লোগান পারে ইতিহাস বদলে দিতে, পারে অশ্রু ভেজা রাতকে পরিণত করতে বিজয়ের প্রভাতে। মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ, স্বপ্ন আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা একসময় স্লোগান হয়েই ঝড় তোলে রাস্তায়, শহরে, গ্রামে।

গণতন্ত্রের মিছিল

সময়ের পরতে পরতে স্লোগান হয়ে উঠেছে গণতন্ত্রের শ্বাস। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর শহিদ নূর হোসেনের বুকে লেখা “স্বৈরাচার নিপাত যাক” আর পিঠে “গণতন্ত্র মুক্তি পাক”—আজও ইতিহাসের বুক চিড়ে বাজে। ১৯৯০-এর আন্দোলনে সেই স্লোগানই রাস্তায় রাস্তায়, গ্রামে গ্রামে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল।

আধুনিক স্লোগান: ন্যায়বিচার ও বিদ্রোহ

২০১৩-র গণজাগরণ মঞ্চে কেঁপে উঠেছিল শাহবাগ “ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই, “রাজাকারের ঠিকানা, সোনার বাংলায় হবে না”—এইসব স্লোগানে। অন্যদিকে হেফাজতের সমাবেশে শোনা গিয়েছিল “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর”, “নাস্তিকদের ফাঁসি চাই” ইত্যাদি স্লোগান।

২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মুখে শোনা গেল অন্যরকম স্লোগান—কখনো শ্লেষ, কখনো ব্যঙ্গ, কখনো বুকফাটা কান্না। “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে, “আমার মা কাঁদছে, নৌমন্ত্রী হাসছে”—এইসব ধ্বনি রাস্তায় রাস্তায় বয়ে এনেছিল অগ্নিগর্ভ এক সময়।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্থানের প্রতীক হিসেবে মানুষ হেলিকপ্টার আকৃতির বেলুন ধরে আছে।
“একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার”৷

২০২৪: ‘একাত্তরের হাতিয়ার’ আবার

চব্বিশের জুলাই ফিরে এলো ১৯৭১-এর স্পৃহা। শিক্ষার্থীরা ধ্বনি তুলল—”একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার”। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন বদলে গেল গণঅভ্যুত্থানে। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো—

“আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম”,

“দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ”,

“লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছাইড়া দে”,

“জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো”।

আবু সাঈদের মৃত্যু সেই আন্দোলনে ঢেলে দিলো নতুন আগুন।

বিকৃত স্লোগানের অন্ধকার

কিন্তু সব স্লোগান আলো আনে না। কিছু কিছু স্লোগান, জন্মমুহূর্তেই ইতিহাসের আবর্জনায় স্থান করে নেয়। যেমন—”একটা একটা ..….. ধর, ধইরা ধইরা জ…বাই কর” কিংবা “একটা দুইটা ….. ধর, সকাল-বিকাল নাশতা কর”—যা প্রতিবাদ নয়, বরং বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন। একইভাবে এখন শোনা যায় এর উল্টো স্লোগান। সেটাও কাম্য নয়।

২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলনে শোনা গিয়েছিল—”আমার ভাইয়ের রক্তে লাল, পুলিশ কোন চ্যা…র…বা…ল। পুরান ঢাকায় এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করার পর এক সভায় উচ্চারিত হয়েছিল—”এক দুই তিন চার, তা…জি…মার”।

সাম্প্রতিককালে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে তরুণ-তরুণীদের স্লোগান—”টিনের চালের কাউয়া, ফজলু আমার…..”—লজ্জিত করেছে জাতিকে।

এমন স্লোগান ইতিহাসে টেকে না। মানুষ ভুলে যায় স্লোগানটিকে, কিন্তু বিকৃতকারীর নাম হয়ে যায় ঘৃণার ট্রেডমার্ক।

শেষকথা

স্লোগান জাতির প্রতিবাদের হাতিয়ার, জনমানুষের মনের ভাষা। কোনো কোনো স্লোগান শত বছর পরেও উজ্জীবিত করে মানুষকে, আবার কিছু স্লোগান জন্ম মুহূর্তেই ধ্বংস ডেকে আনে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র নির্মাতা। তাদের হাতে যদি থাকে ইতিবাচক ভাষা, বিশ্বমানের স্লোগান, তবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে আলোর পথে। কারণ, তরুণরা ঠিক থাকলে দেশও ঠিক থাকবে। স্লোগান হবে প্রেরণার, ঐক্যের, সংগ্রামের—কখনোই বিভেদ আর বিকৃতির নয়।

DW