০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -৩২)

বোর্ডের আদেশমত জেলার মধ্য ও প্রাথমিক শিক্ষাকার্য নির্বাহিত হইতে লাগিল। জেলার “পুরস্কার প্রথা” রহিত করা এবং “বৃত্তি প্রথা” প্রচলিত করা গবর্ণমেন্টের নিয়মের বহির্ভূত বলিয়া, পুনরায় এক বৎসর পরেই “পুরস্কার প্রথা” প্রচলিত হইল এবং উচ্চ প্রাথমিক পাঠশালার “বৃত্তি প্রথাই” রহিল। “পুরস্কার প্রথা” প্রচলিত হওয়ায় আবার স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি হইল। ১৮৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাজসাহী জেলার স্কুল ৬১২ এবং ছাত্র সংখ্যা ১৯৭২৪। মোট ৬১২ স্কুলের মধ্যে ৫৬৫টি পাঠশালা। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ হইতে এই ৬৫ বৎসরে স্কুলের সংখ্যা যেরূপ বৃদ্ধি হইয়াছে, তাহা পূর্ব লিখিত বিবরণ পাঠেই জানা যাইবে।
রাজসাহী জেলা অপেক্ষা বর্ধমান, হুগলি প্রভৃতি জেলায় প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা অনেক বেশি এবং দেশীয় শিক্ষা অনেক ভালরূপে হয়; কিন্তু বর্ধমান, হুগলি প্রভৃতি জেলা অপেক্ষা রাজসাহীর অনেক নিম্ন প্রাথমিক পাঠশালায় ইউরোপীয় প্রণালীর শিক্ষা উৎকৃষ্ট হয়। এ বিভিন্নতার কারণ এই যে রাজসাহীতে যে সকল গুরুমহাশয় দেখা যায়, তাহাদের অধিকাংশ ইউরোপীয় প্রণালীর স্কুলের ছাত্র এবং দেশীয় মতের শিক্ষায় নিতান্ত অনভিজ্ঞ। পুরাতন গুরুমহাশয় ইউরোপীয় প্রণালীতে শিক্ষিত হইলে বা ইউরোপীয় প্রণালীর স্কুলের ছাত্রেরা দেশীয় প্রণালী মতে রীতিমত শিক্ষিত হইলে বঙ্গদেশের উপযুক্ত গুরুমহাশয় হইতে পারে। দেশীয় প্রণালীতে উত্তমরূপ শিক্ষা দিতে না পারিলে প্রকৃত কৃষকদের পাঠশালায় সন্তান পাঠাইতে অগ্রসর হইতে দেখা যায় না। কৃষকদের প্রয়োজনমত পাঠশালায় শিক্ষাপ্রদান করিলে প্রাথমিক স্কুলের যথেষ্ট উন্নতি হইবে তাহার আর সন্দেহ নাই।
জনপ্রিয় সংবাদ

মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -৩২)

০৩:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বোর্ডের আদেশমত জেলার মধ্য ও প্রাথমিক শিক্ষাকার্য নির্বাহিত হইতে লাগিল। জেলার “পুরস্কার প্রথা” রহিত করা এবং “বৃত্তি প্রথা” প্রচলিত করা গবর্ণমেন্টের নিয়মের বহির্ভূত বলিয়া, পুনরায় এক বৎসর পরেই “পুরস্কার প্রথা” প্রচলিত হইল এবং উচ্চ প্রাথমিক পাঠশালার “বৃত্তি প্রথাই” রহিল। “পুরস্কার প্রথা” প্রচলিত হওয়ায় আবার স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি হইল। ১৮৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাজসাহী জেলার স্কুল ৬১২ এবং ছাত্র সংখ্যা ১৯৭২৪। মোট ৬১২ স্কুলের মধ্যে ৫৬৫টি পাঠশালা। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ হইতে এই ৬৫ বৎসরে স্কুলের সংখ্যা যেরূপ বৃদ্ধি হইয়াছে, তাহা পূর্ব লিখিত বিবরণ পাঠেই জানা যাইবে।
রাজসাহী জেলা অপেক্ষা বর্ধমান, হুগলি প্রভৃতি জেলায় প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা অনেক বেশি এবং দেশীয় শিক্ষা অনেক ভালরূপে হয়; কিন্তু বর্ধমান, হুগলি প্রভৃতি জেলা অপেক্ষা রাজসাহীর অনেক নিম্ন প্রাথমিক পাঠশালায় ইউরোপীয় প্রণালীর শিক্ষা উৎকৃষ্ট হয়। এ বিভিন্নতার কারণ এই যে রাজসাহীতে যে সকল গুরুমহাশয় দেখা যায়, তাহাদের অধিকাংশ ইউরোপীয় প্রণালীর স্কুলের ছাত্র এবং দেশীয় মতের শিক্ষায় নিতান্ত অনভিজ্ঞ। পুরাতন গুরুমহাশয় ইউরোপীয় প্রণালীতে শিক্ষিত হইলে বা ইউরোপীয় প্রণালীর স্কুলের ছাত্রেরা দেশীয় প্রণালী মতে রীতিমত শিক্ষিত হইলে বঙ্গদেশের উপযুক্ত গুরুমহাশয় হইতে পারে। দেশীয় প্রণালীতে উত্তমরূপ শিক্ষা দিতে না পারিলে প্রকৃত কৃষকদের পাঠশালায় সন্তান পাঠাইতে অগ্রসর হইতে দেখা যায় না। কৃষকদের প্রয়োজনমত পাঠশালায় শিক্ষাপ্রদান করিলে প্রাথমিক স্কুলের যথেষ্ট উন্নতি হইবে তাহার আর সন্দেহ নাই।