প্রথম ভারতীয় গণিতবিদ যিনি এই একমাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণের পরিবর্তে একটি পারিভাষিক শব্দ প্রয়োগ করেছেন
যাই হোক গোবিন্দস্বামী এক মাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণ সম্পর্কে যে আলোচনা করেছেন তাথেকে স্পষ্টই দু ধরণের সমীকরণ পেতে পারি। যেমন
![]()
N=ax+R₁=by+R……. (2)
(1) নং তিনি দুভাগে ভাগ করেছেন যথা (ক) যখন ৫ ধনাত্মক অর্থাৎ ক্ষেপ ধনাত্মক তখন এটিকে গন্তব্য বলা হয়।
(খ) যখন ঋণাত্মক অর্থাৎ ক্ষেপ ঋণাত্মক তখন এটিকে গত বলা হয়।
যাই হোক এবার আমরা একমাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণের ব্যুৎপত্তি পরিভাষা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছি।
পরিভাষা, ব্যুৎপত্তি ইত্যাদি
প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদরা একমাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণের পরিবর্তে কুটুক। কুট্টকার, কুট্টিকার অথবা কুট ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতেন। যদিও প্রথম আর্যভট
একমাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তবে তিনি এই সমীকরণটির কোন নামকরণ করেন নি।
প্রথম ভাস্করাচার্যই (৬০০ খ্রীঃ) প্রথম ভারতীয় গণিতবিদ যিনি এই একমাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণের পরিবর্তে একটি পারিভাষিক শব্দ প্রয়োগ করেছেন। তিনি এই সমীকরণকে কুট্টকার বা ফুট বলেছেন। এরপর ব্রহ্মগুপ্ত বলেছেন কুট্রট, কুট্টকার, কুটুক, মহাবীরাচার্য বলেছেন কুট্টিকার।
সাধারণত N = ax +R1 = by + R2 এই সমীকরণে ৫, ৬ কে ভাগহার, ভাজক, ছেদ ইত্যাদি বলা হয়। R1 R2 কে অগ্র, শেষ ইত্যাদি বলা হয়।

ß’কে ভাজক, α’কে ক্ষেপ, ক্ষেপক ইত্যাদি এবং y’কে ভাজ্য বলা হয়। অজ্ঞাত রাশি x’কে গুণক, গুণকার ইত্যাদি বলা হয়। y’কে ফল বলা যায়। অবশ্য মহাবীর x’কে রাশি বলেছেন।
হিংসার্থক কুট ধাতুর উত্তর কর্তৃবাচ্যে ণক্ প্রত্যয় দ্বারা কুটুক পদ নিষ্পন্ন হয়েছে। গণিতশাস্ত্রে হিংসার্থক ধাতু নিষ্পন্ন হনন, ঘাত ইত্যাদি পদে গুণন করা বুঝায়, এজন্য কুট্টক শব্দের অর্থ গুণক। নির্দিষ্ট কোন রাশিকে যে গুণক দ্বারা গুণ করে প্রশ্নোদ্দিষ্ট ক্ষেপ যোগ ও প্রশ্নোক্ত হর দ্বারা ভাগ করলে নিঃশেষ হয়, সেই গুণক কুট্টক নামে অভিহিত।
(চলবে)
প্রদীপ কুমার মজুমদার 



















