০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
এশীয় রান্নাঘরের আট অপরিহার্য সস, স্বাদের গভীরে ইতিহাসের ছোঁয়া উচ্চ অ্যাপার্টমেন্টের গল্প ভবিষ্যতের হাঁটু সুরক্ষায় আজই প্রস্তুতি নিন, ছোট অভ্যাসেই বড় স্বস্তির পথ বীজের তেল নিয়ে ভয় কতটা সত্য, কতটা ভুল: বিজ্ঞান কী বলছে ডিজনির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক অ্যানিমেশন দুনিয়ায় রেকর্ড গড়ল জুটোপিয়া টু চীনের কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, আট মাসের মন্দা ভেঙে ডিসেম্বরে উৎপাদন বাড়ল তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের বার্তা ধান রপ্তানিতে ভারতের আধিপত্য, নীরবে গভীর হচ্ছে পানির সংকট সিগারেটে নতুন করের ধাক্কা, ধসে ভারতের তামাক শেয়ার বাজার মার্কিন শ্রমবাজারে বছরের শেষে স্বস্তির ইঙ্গিত, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

১৯ বছরে দৃষ্টিসেবায় ব্র্যাকের অগ্রযাত্রা: সারা দেশে পৌঁছেছে ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষ

বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে ১৯ বছর ধরে কাজ করছে ব্র্যাক। ‘দৃষ্টি সবার জন্য’ প্রতিশ্রুতিতে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষের কাছে চক্ষু সেবা পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে সংস্থাটি বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।


দৃষ্টি দিবসে ব্র্যাকের বিশেষ কর্মসূচি

ব্র্যাক তাদের চক্ষু সেবা কার্যক্রমের ১৯ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে ৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সংস্থাটি বিশেষ চক্ষু সেবা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
২০০৬ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে গত ১৯ বছরে সারা দেশের প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষ ব্র্যাকের সেবা গ্রহণ করেছেন।
এই বছর ব্র্যাক প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান করছে। ‘দৃষ্টি সবার জন্য’ স্লোগানে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএপি-বি, প্রতি বছর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন করে।

সারা দেশে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় ব্র্যাকের চক্ষু সেবা কার্যক্রম চলছে। এ বছর দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে ৩৫০টিরও বেশি বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা এবং ৫০টিরও বেশি সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
ব্র্যাক জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চশমা ও চোখের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


১৯ বছরে সেবার পরিধি ও অর্জন

চক্ষু সেবা কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্র্যাক ১ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি মানুষকে সেবা দিয়েছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা বিনামূল্যে প্রাথমিক চোখের পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ প্রাথমিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং ২২ লাখেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে চশমা পেয়েছেন।
২০২৪ সালেই এক বছরে ১৭ হাজার ৭৪১টি চোখের অপারেশন এবং ১৩ হাজার ১৯১টি চশমা সরবরাহ করা হয়েছে।

অংশীদার সংস্থাগুলোর সহযোগিতা

ব্র্যাকের এই দীর্ঘমেয়াদি চক্ষু সেবা কর্মসূচিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে ‘ভিশনস্প্রিং’ ও ‘সাইটসেভার্স’। ১৯ বছর ধরে তারা একসঙ্গে কাজ করছে যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষ কম খরচে চশমা ও বিশেষায়িত চক্ষু সেবা পেতে পারে।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দুই উপজেলায় শুরু হওয়া কর্মসূচি এখন ৬১টি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে।


ব্র্যাকের অবস্থান ও অঙ্গীকার

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কমপ্রোগ্রামের ঊর্ধ্বতন পরিচালক অধ্যাপক ড. আকরামুল ইসলাম বলেন,
“চক্ষু সেবার সুযোগ সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্র্যাক দুই দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে আমরা আবারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—কেউ যেন প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বে ভোগে না, সবাই যেন দৃষ্টিশক্তির আনন্দ ফিরে পায়।”


বাংলাদেশে দৃষ্টিশক্তি সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭.৫ লাখ মানুষ অন্ধত্বে ভুগছে, যার মূল কারণ চিকিৎসাহীন ছানি। বাংলাদেশেও ছানি, রিফ্রাকটিভ ত্রুটি ও অন্যান্য চক্ষু রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান।


গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনোভাবে দৃষ্টিশক্তি সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।


টেকসই দৃষ্টি সেবায় ব্র্যাকের ভূমিকা

ব্র্যাক, তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করছে চক্ষু সেবা প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিটি মানুষ যেন সহজে, সাশ্রয়ীভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পান।


#ব্র্যাক #চক্ষু_সেবা #বিশ্ব_দৃষ্টি_দিবস #দৃষ্টিশক্তি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় রান্নাঘরের আট অপরিহার্য সস, স্বাদের গভীরে ইতিহাসের ছোঁয়া

১৯ বছরে দৃষ্টিসেবায় ব্র্যাকের অগ্রযাত্রা: সারা দেশে পৌঁছেছে ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষ

০৮:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে ১৯ বছর ধরে কাজ করছে ব্র্যাক। ‘দৃষ্টি সবার জন্য’ প্রতিশ্রুতিতে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষের কাছে চক্ষু সেবা পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে সংস্থাটি বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।


দৃষ্টি দিবসে ব্র্যাকের বিশেষ কর্মসূচি

ব্র্যাক তাদের চক্ষু সেবা কার্যক্রমের ১৯ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে ৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সংস্থাটি বিশেষ চক্ষু সেবা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
২০০৬ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে গত ১৯ বছরে সারা দেশের প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ মানুষ ব্র্যাকের সেবা গ্রহণ করেছেন।
এই বছর ব্র্যাক প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান করছে। ‘দৃষ্টি সবার জন্য’ স্লোগানে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএপি-বি, প্রতি বছর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন করে।

সারা দেশে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় ব্র্যাকের চক্ষু সেবা কার্যক্রম চলছে। এ বছর দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে ৩৫০টিরও বেশি বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা এবং ৫০টিরও বেশি সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
ব্র্যাক জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চশমা ও চোখের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


১৯ বছরে সেবার পরিধি ও অর্জন

চক্ষু সেবা কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্র্যাক ১ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি মানুষকে সেবা দিয়েছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা বিনামূল্যে প্রাথমিক চোখের পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ প্রাথমিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং ২২ লাখেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে চশমা পেয়েছেন।
২০২৪ সালেই এক বছরে ১৭ হাজার ৭৪১টি চোখের অপারেশন এবং ১৩ হাজার ১৯১টি চশমা সরবরাহ করা হয়েছে।

অংশীদার সংস্থাগুলোর সহযোগিতা

ব্র্যাকের এই দীর্ঘমেয়াদি চক্ষু সেবা কর্মসূচিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে ‘ভিশনস্প্রিং’ ও ‘সাইটসেভার্স’। ১৯ বছর ধরে তারা একসঙ্গে কাজ করছে যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষ কম খরচে চশমা ও বিশেষায়িত চক্ষু সেবা পেতে পারে।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দুই উপজেলায় শুরু হওয়া কর্মসূচি এখন ৬১টি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে।


ব্র্যাকের অবস্থান ও অঙ্গীকার

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কমপ্রোগ্রামের ঊর্ধ্বতন পরিচালক অধ্যাপক ড. আকরামুল ইসলাম বলেন,
“চক্ষু সেবার সুযোগ সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্র্যাক দুই দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে আমরা আবারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—কেউ যেন প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বে ভোগে না, সবাই যেন দৃষ্টিশক্তির আনন্দ ফিরে পায়।”


বাংলাদেশে দৃষ্টিশক্তি সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭.৫ লাখ মানুষ অন্ধত্বে ভুগছে, যার মূল কারণ চিকিৎসাহীন ছানি। বাংলাদেশেও ছানি, রিফ্রাকটিভ ত্রুটি ও অন্যান্য চক্ষু রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান।


গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনোভাবে দৃষ্টিশক্তি সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।


টেকসই দৃষ্টি সেবায় ব্র্যাকের ভূমিকা

ব্র্যাক, তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করছে চক্ষু সেবা প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিটি মানুষ যেন সহজে, সাশ্রয়ীভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পান।


#ব্র্যাক #চক্ষু_সেবা #বিশ্ব_দৃষ্টি_দিবস #দৃষ্টিশক্তি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট