০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বেগুনি রঙের জাদুতে বিশ্বজয়: খাবারের দুনিয়ায় উবের উত্থানের গল্প সময়ের নতুন ভাষা: আধুনিক ঘড়িতে ফিরে এলো ইতিহাসের স্পন্দন স্মৃতির শহর হারিয়ে যাচ্ছে: বোম্বে নিয়ে ডিএজি প্রদর্শনীতে উঠে এল বিস্মৃত ইতিহাস তারকার ঝলক ছাপিয়ে গয়নার জাদু: রেড কার্পেটে নতুন ট্রেন্ডের গল্প ডিলান–লেননের লিমুজিন আলাপ: সঙ্গীতের বন্ধুত্ব, দ্বন্দ্ব আর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রোটিন আতঙ্ক নাকি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন? স্মার্ট শহরের পথে বাংলাদেশ: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নগরজীবন ক্যাটওয়াক শেখার নতুন ট্রেন্ড: হাঁটার ভঙ্গিতেই বদলে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাস বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও শেয়ারবাজারে চমক, বিনিয়োগকারীদের আয়ে বড় ধাক্কা নয় বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডে বিল ফাঁকিতে গেট বন্ধ রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ — দুই বছর পর তদন্তে চমক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৯)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • 121

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থি ছাত্রদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে সামরিক ইনটেলিজেন্স তাঁকে নিশ্চয় চোখে চোখে রাখছে।

আনাতোল একবার কোনোরকমে তিনদিনের ছুটির ব্যবস্থা করেন এবং প্রফেসর বিজয়ারাঘবনের সঙ্গে মাদ্রাজে যান। সেখানে, মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি “গ্যালোয় ভন্ড (Galois theory)-এর উপর একটি ভাষণ দেন। দর্শকের সারিতে দুই ক্যাথলিক “নান”কে দেখে আনাতোল ভারী চমৎকৃত হয়েছিলেন।

পাশ্চাত্যের বস্তুবাদের উপরে বক্তৃতা দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও আনাতোল’কে নিমন্ত্রণ করেছিল। একবার তো আনাতোল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের সদস্য ও ছাত্রদেরকে “দুই ট্রাক ভর্তি করে কুর্মিটোলায় নিয়ে আসেন তাঁর পিয়ানো বাজানো শোনাতে।

আনাতোল অত্যন্ত সজাগ ছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থি ছাত্রদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে সামরিক ইনটেলিজেন্স তাঁকে নিশ্চয় চোখে চোখে রাখছে। একবার, এক নিরাপত্তা অফিসার বন্ধ মাতাল অবস্থায় আনাতোলকে তো বলেই দেয় যে “ঢাকা শহরের ‘লাল’-দের সঙ্গে ‘মাখামাখি’-র কথা সবাই খুব ভালো জানে এবং সময় এলে সময়মতো দিনের আলোয় স-ব বেরিয়ে আসবে হে।”

চট্টগ্রামের কাছে ছিল “সারভাইভাল ট্রেনিং ক্যাম্প”, অর্থাৎ যৎসামান্য মৌলিক সম্বল নিয়ে টিকে থাকার ট্রেনিং ক্যাম্প। আনাতোলকে সপ্তাহে একবার কখনোবা দুইবার সেই ক্যাম্পে সাপ্লাই পৌছে দিতে হতো। এই ট্রেনিং-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল- জওয়ানদের জঙ্গলের কাছে ছেড়ে দেয়া হতো এবং জওয়ানদের কাজ ছিল নথ খুঁজে বের করে জঙ্গলের ভেতর থেকে বাইরে চলে আসা।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৮)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৮)

জনপ্রিয় সংবাদ

বেগুনি রঙের জাদুতে বিশ্বজয়: খাবারের দুনিয়ায় উবের উত্থানের গল্প

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৯)

০৯:০০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থি ছাত্রদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে সামরিক ইনটেলিজেন্স তাঁকে নিশ্চয় চোখে চোখে রাখছে।

আনাতোল একবার কোনোরকমে তিনদিনের ছুটির ব্যবস্থা করেন এবং প্রফেসর বিজয়ারাঘবনের সঙ্গে মাদ্রাজে যান। সেখানে, মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি “গ্যালোয় ভন্ড (Galois theory)-এর উপর একটি ভাষণ দেন। দর্শকের সারিতে দুই ক্যাথলিক “নান”কে দেখে আনাতোল ভারী চমৎকৃত হয়েছিলেন।

পাশ্চাত্যের বস্তুবাদের উপরে বক্তৃতা দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও আনাতোল’কে নিমন্ত্রণ করেছিল। একবার তো আনাতোল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের সদস্য ও ছাত্রদেরকে “দুই ট্রাক ভর্তি করে কুর্মিটোলায় নিয়ে আসেন তাঁর পিয়ানো বাজানো শোনাতে।

আনাতোল অত্যন্ত সজাগ ছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থি ছাত্রদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে সামরিক ইনটেলিজেন্স তাঁকে নিশ্চয় চোখে চোখে রাখছে। একবার, এক নিরাপত্তা অফিসার বন্ধ মাতাল অবস্থায় আনাতোলকে তো বলেই দেয় যে “ঢাকা শহরের ‘লাল’-দের সঙ্গে ‘মাখামাখি’-র কথা সবাই খুব ভালো জানে এবং সময় এলে সময়মতো দিনের আলোয় স-ব বেরিয়ে আসবে হে।”

চট্টগ্রামের কাছে ছিল “সারভাইভাল ট্রেনিং ক্যাম্প”, অর্থাৎ যৎসামান্য মৌলিক সম্বল নিয়ে টিকে থাকার ট্রেনিং ক্যাম্প। আনাতোলকে সপ্তাহে একবার কখনোবা দুইবার সেই ক্যাম্পে সাপ্লাই পৌছে দিতে হতো। এই ট্রেনিং-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল- জওয়ানদের জঙ্গলের কাছে ছেড়ে দেয়া হতো এবং জওয়ানদের কাজ ছিল নথ খুঁজে বের করে জঙ্গলের ভেতর থেকে বাইরে চলে আসা।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৮)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৮)