০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ইন্টারনেট: টেলিগ্রাম বন্ধের চেষ্টা জ্বালিয়ে দিলো জনরোষ ইরান–আমেরিকা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান, কূটনীতি প্রশ্নবিদ্ধ থাইল্যান্ডে ৩০০ সচিব পাঠানোর খবর মিথ্যা — সরকার বলছে প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর BCS স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১ হাজার ৮২১ কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান, শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে ফ্রান্সে মুসলিমদের সমাবেশ নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত আইপিওতে নতুন খেলা: সূচক নীতিমালা বদলে ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগকারীরা ইরান যুদ্ধে কুয়েতে আটকা বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াল ঢাকা, মানবিক সহায়তার প্রস্তাব হাঙ্গেরির নির্বাচন: ক্ষমতার দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনরায়ের লড়াই ৫২ বছর পর মানুষ চাঁদের পথে — আর্টেমিস-২ মহাকাশযান সফলভাবে চন্দ্রকক্ষের দিকে রওনা

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকুর দাবি—পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও ওয়াশিংটনের হাতে

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু দাবি করেছেনযুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে পারভেজ মুশাররাফ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলফলে কার্যত মুশাররাফকে কেনা’ হয়। কিরিয়াকুর ভাষ্যএক পর্যায়ে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও অনানুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের হাতে চলে গিয়েছিল। তিনি দেশে গভীর দুর্নীতি ও রাজনৈতিক শ্রেণির বিলাসবহুল জীবনের কথাও তুলে ধরেন।

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু বলেছেনযুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কয়েক মিলিয়ন ডলার ঢেলে প্রাক্তন পাকিস্তান রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশাররাফকে কার্যত কিনে নিয়েছিল এবং এমনকি পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণও ওয়াশিংটনের কাছে চলে গিয়েছিল।

কিরিয়াকুযিনি সিআইএতে বিশ্লেষক হিসেবে পনেরো বছর কাজ করেছেন এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী দায়িত্বে ছিলেনএএনআই (ANI)–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেনপাকিস্তানে দুর্নীতি দেশজুড়ে ছিল। তার ভাষ্যসে সময় কট্টর রাজনীতিক ও তৎকালীন শীর্ষ নেতারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেনআর সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছিল।

আমরা মূলত মুশাররাফকে কিনে নিয়েছিলাম,” বলেন কিরিয়াকু। তিনি জানানযুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন মুশাররাফ সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তার ভাষায়, “আমাদের পাকিস্তানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল খুব ভালো। তখন দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল পারভেজ মুশাররাফ। আসলে সত্যটা বলা যাকযুক্তরাষ্ট্র স্বৈরশাসকদের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেকারণ তখন জনমত বা মিডিয়ার বিষয়ে উদ্বেগ কম থাকে। আর তাই আমরা মূলত মুশাররাফকে কিনে ফেলেছিলাম।

কিরিয়াকু আরও বলেনওয়াশিংটন মুশাররাফ সরকারকে মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার” সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল এবং মুশাররাফের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করত। তার ভাষ্য, “আমরা মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিচাই সেটা সামরিক হোক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়তা হোক। এবং আমরা মুশাররাফের সঙ্গে নিয়মিতসপ্তাহে কয়েকবার দেখা করতাম। মূলত তিনি আমাদের কাজকর্মে বাধা দিতেন না। তবে মুশাররাফেরও নিজের কিছু লোক ছিলযাদের সঙ্গে তাকে মোকাবিলা করতেই হতো।

কিরিয়াকু আরও দাবি করেনমুশাররাফ অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ দিতে রাজি ছিলেন। ২০০২ সালে যখন আমি পাকিস্তানে দায়িত্বে ছিলামতখন অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাকে বলা হয়েছিল যে পেন্টাগন পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের নিয়ন্ত্রণ দেখভাল করছিলমুশাররাফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছিলেনকারণ তিনি যে ধরনের আশঙ্কার কথা আপনি বলছেনপারমাণবিক অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে পড়ে যাওয়াতা নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিলেন,” এএনআইকে বলেন কিরিয়াকু।

সন্ত্রাসবিরোধের নামে দ্বৈত কৌশলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কিরিয়াকুর ভাষ্যমুশাররাফ সেনাবাহিনীর একটি অংশকে সন্তুষ্ট রাখতে এবং কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে শান্ত রাখতে বাইরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার ভান করা হতোকিন্তু অন্তরে ভারতের বিরুদ্ধে কিছু গোষ্ঠীর তৎপরতা মেনে নেওয়া হতো। তাকে সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখতে হয়েছিল। সেনাবাহিনী আল-কায়দা নিয়ে ততটা পরোয়া করত নাতারা ভারতের দিকে বেশি মনোযোগী ছিল। তাই সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে এবং কিছু উগ্রপন্থীকে সন্তুষ্ট রাখতে তাকে এই দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হয়েছেবাইরে আমেরিকানদের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার অভিনয়আর বাস্তবে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস পরিচালনা চলতে দেওয়া,” বলেন তিনি।

কিরিয়াকু যোগ করেন, “২০০২ সালে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের প্রান্তে ছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে সংসদে আক্রমণ হয়েছিলতখনই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বেনজির ভুট্টো ও তার নির্বাসন জীবনের কথা স্মরণ করে বলেনবেনজির যে বিলাসবহুল জীবনডুবাইয়ে উপসাগরের ধারে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলারের প্রাসাদেতা সাধারণ পাকিস্তানিদের বাস্তবতার সঙ্গে বিস্তরভাবে ভিন্ন। কিরিয়াকু আরও উল্লেখ করেনবেনজিরের নির্বাসনের সময় তিনি একবার সেখানে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় বিলাসী জীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

বেনজিরসংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নেযদি আসিফ আলি জারদারির কথা বোঝানো হয়কিরিয়াকু বলেন, “হ্যাঁতার স্বামী।” তিনি প্রশ্ন তোলেন: দেশে এত দারিদ্র্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা পাকিস্তানে ফিরে এসে সাধারণ মানুষের মুখ দেখবেন?

#পাকিস্তান #মুশাররাফ #পারমাণবিক_অস্ত্র #CIA #ANI

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ইন্টারনেট: টেলিগ্রাম বন্ধের চেষ্টা জ্বালিয়ে দিলো জনরোষ

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকুর দাবি—পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও ওয়াশিংটনের হাতে

০১:২৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু দাবি করেছেনযুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে পারভেজ মুশাররাফ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলফলে কার্যত মুশাররাফকে কেনা’ হয়। কিরিয়াকুর ভাষ্যএক পর্যায়ে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও অনানুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের হাতে চলে গিয়েছিল। তিনি দেশে গভীর দুর্নীতি ও রাজনৈতিক শ্রেণির বিলাসবহুল জীবনের কথাও তুলে ধরেন।

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু বলেছেনযুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কয়েক মিলিয়ন ডলার ঢেলে প্রাক্তন পাকিস্তান রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশাররাফকে কার্যত কিনে নিয়েছিল এবং এমনকি পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণও ওয়াশিংটনের কাছে চলে গিয়েছিল।

কিরিয়াকুযিনি সিআইএতে বিশ্লেষক হিসেবে পনেরো বছর কাজ করেছেন এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী দায়িত্বে ছিলেনএএনআই (ANI)–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেনপাকিস্তানে দুর্নীতি দেশজুড়ে ছিল। তার ভাষ্যসে সময় কট্টর রাজনীতিক ও তৎকালীন শীর্ষ নেতারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেনআর সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছিল।

আমরা মূলত মুশাররাফকে কিনে নিয়েছিলাম,” বলেন কিরিয়াকু। তিনি জানানযুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন মুশাররাফ সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তার ভাষায়, “আমাদের পাকিস্তানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল খুব ভালো। তখন দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল পারভেজ মুশাররাফ। আসলে সত্যটা বলা যাকযুক্তরাষ্ট্র স্বৈরশাসকদের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেকারণ তখন জনমত বা মিডিয়ার বিষয়ে উদ্বেগ কম থাকে। আর তাই আমরা মূলত মুশাররাফকে কিনে ফেলেছিলাম।

কিরিয়াকু আরও বলেনওয়াশিংটন মুশাররাফ সরকারকে মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার” সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল এবং মুশাররাফের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করত। তার ভাষ্য, “আমরা মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিচাই সেটা সামরিক হোক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়তা হোক। এবং আমরা মুশাররাফের সঙ্গে নিয়মিতসপ্তাহে কয়েকবার দেখা করতাম। মূলত তিনি আমাদের কাজকর্মে বাধা দিতেন না। তবে মুশাররাফেরও নিজের কিছু লোক ছিলযাদের সঙ্গে তাকে মোকাবিলা করতেই হতো।

কিরিয়াকু আরও দাবি করেনমুশাররাফ অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ দিতে রাজি ছিলেন। ২০০২ সালে যখন আমি পাকিস্তানে দায়িত্বে ছিলামতখন অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাকে বলা হয়েছিল যে পেন্টাগন পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের নিয়ন্ত্রণ দেখভাল করছিলমুশাররাফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছিলেনকারণ তিনি যে ধরনের আশঙ্কার কথা আপনি বলছেনপারমাণবিক অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে পড়ে যাওয়াতা নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিলেন,” এএনআইকে বলেন কিরিয়াকু।

সন্ত্রাসবিরোধের নামে দ্বৈত কৌশলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কিরিয়াকুর ভাষ্যমুশাররাফ সেনাবাহিনীর একটি অংশকে সন্তুষ্ট রাখতে এবং কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে শান্ত রাখতে বাইরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার ভান করা হতোকিন্তু অন্তরে ভারতের বিরুদ্ধে কিছু গোষ্ঠীর তৎপরতা মেনে নেওয়া হতো। তাকে সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখতে হয়েছিল। সেনাবাহিনী আল-কায়দা নিয়ে ততটা পরোয়া করত নাতারা ভারতের দিকে বেশি মনোযোগী ছিল। তাই সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে এবং কিছু উগ্রপন্থীকে সন্তুষ্ট রাখতে তাকে এই দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হয়েছেবাইরে আমেরিকানদের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার অভিনয়আর বাস্তবে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস পরিচালনা চলতে দেওয়া,” বলেন তিনি।

কিরিয়াকু যোগ করেন, “২০০২ সালে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের প্রান্তে ছিল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে সংসদে আক্রমণ হয়েছিলতখনই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বেনজির ভুট্টো ও তার নির্বাসন জীবনের কথা স্মরণ করে বলেনবেনজির যে বিলাসবহুল জীবনডুবাইয়ে উপসাগরের ধারে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলারের প্রাসাদেতা সাধারণ পাকিস্তানিদের বাস্তবতার সঙ্গে বিস্তরভাবে ভিন্ন। কিরিয়াকু আরও উল্লেখ করেনবেনজিরের নির্বাসনের সময় তিনি একবার সেখানে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় বিলাসী জীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

বেনজিরসংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নেযদি আসিফ আলি জারদারির কথা বোঝানো হয়কিরিয়াকু বলেন, “হ্যাঁতার স্বামী।” তিনি প্রশ্ন তোলেন: দেশে এত দারিদ্র্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা পাকিস্তানে ফিরে এসে সাধারণ মানুষের মুখ দেখবেন?

#পাকিস্তান #মুশাররাফ #পারমাণবিক_অস্ত্র #CIA #ANI