০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

গাজা যুদ্ধবিরতি মানতে ইসরায়েলকে চাপ দিন, আঙ্কারার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে

তুরস্কের দাবি: যুদ্ধবিরতি ভাঙছে ইসরায়েল

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভিযোগ তুলেছেন যে গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল নিজের মতো লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেছেন, হামাস চুক্তির শর্ত মানছে, কিন্তু ইসরায়েল এখনো হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি নষ্ট করছে। এরদোয়ান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, শুধু বিবৃতি দিয়ে হবে না; যদি যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে অস্ত্রচুক্তি স্থগিত করা বা নিষেধাজ্ঞা ধরার মতো বাস্তব চাপ দিতে হবে। এই অবস্থান তুরস্ককে আলোচনার প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন এমন এক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে, যিনি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছেন আর অন্যদিকে ইসরায়েলকেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কথা বলছে, যা গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ধ্বংসস্তূপে পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ তদারক করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট বলেছেন, সেই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে শুধু “ইসরায়েল যে দেশগুলোকে আরামদায়ক মনে করে” তারাই থাকবে। ইসরায়েলের অবস্থান দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছে তুরস্ক কার্যত তালিকার বাইরে। এরদোয়ান প্রথমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তুরস্ক মাটিতে লোক পাঠাতে রাজি, কিন্তু পরে সুর নরম করে জানালেন, কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে গাজা পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজার পরবর্তী মানচিত্র কে আঁকবে

পাশাপাশি চলছে আরেকটি টানাপোড়েন: গাজা কে শাসন করবে। ওয়াশিংটন চাইছে এমন এক অন্তর্বর্তী প্রশাসন, যেখানে হামাস নেই। ইসরায়েল বলছে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। তুরস্ক বলছে, গাজা পুনর্গঠনে তাকে বাইরে রাখা অন্যায় হবে, বিশেষত যখন মানবিক সঙ্কট এখনো ভয়াবহ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ভেতরে ত্রাণের প্রবেশ ও বণ্টন এখনো সীমিত, আর লাখো মানুষ এখনো টিকে থাকার মতো সহায়তা পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন যে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও মানবিক চাপ ভাঙলে সংঘাত হঠাৎ আবার জ্বলে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজার নিরাপত্তা কাঠামোয় আঙ্কারার কোনো নেতৃত্ব তিনি চান না। রুবিওও বলছেন, যে কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীকে আগে ইসরায়েলের “কমফোর্ট লেভেল” পেরোতে হবে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, গাজার পরবর্তী নিরাপত্তা আর্কিটেকচার — যদি তা গড়েই ওঠে — তা মূলত ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের সমন্বয়ে তৈরি হবে, আঙ্কারার শর্তে নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

গাজা যুদ্ধবিরতি মানতে ইসরায়েলকে চাপ দিন, আঙ্কারার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে

০২:৫১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

তুরস্কের দাবি: যুদ্ধবিরতি ভাঙছে ইসরায়েল

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভিযোগ তুলেছেন যে গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল নিজের মতো লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেছেন, হামাস চুক্তির শর্ত মানছে, কিন্তু ইসরায়েল এখনো হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি নষ্ট করছে। এরদোয়ান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, শুধু বিবৃতি দিয়ে হবে না; যদি যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে অস্ত্রচুক্তি স্থগিত করা বা নিষেধাজ্ঞা ধরার মতো বাস্তব চাপ দিতে হবে। এই অবস্থান তুরস্ককে আলোচনার প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন এমন এক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে, যিনি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছেন আর অন্যদিকে ইসরায়েলকেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কথা বলছে, যা গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ধ্বংসস্তূপে পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ তদারক করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট বলেছেন, সেই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে শুধু “ইসরায়েল যে দেশগুলোকে আরামদায়ক মনে করে” তারাই থাকবে। ইসরায়েলের অবস্থান দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছে তুরস্ক কার্যত তালিকার বাইরে। এরদোয়ান প্রথমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তুরস্ক মাটিতে লোক পাঠাতে রাজি, কিন্তু পরে সুর নরম করে জানালেন, কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে গাজা পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজার পরবর্তী মানচিত্র কে আঁকবে

পাশাপাশি চলছে আরেকটি টানাপোড়েন: গাজা কে শাসন করবে। ওয়াশিংটন চাইছে এমন এক অন্তর্বর্তী প্রশাসন, যেখানে হামাস নেই। ইসরায়েল বলছে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। তুরস্ক বলছে, গাজা পুনর্গঠনে তাকে বাইরে রাখা অন্যায় হবে, বিশেষত যখন মানবিক সঙ্কট এখনো ভয়াবহ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ভেতরে ত্রাণের প্রবেশ ও বণ্টন এখনো সীমিত, আর লাখো মানুষ এখনো টিকে থাকার মতো সহায়তা পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন যে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও মানবিক চাপ ভাঙলে সংঘাত হঠাৎ আবার জ্বলে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজার নিরাপত্তা কাঠামোয় আঙ্কারার কোনো নেতৃত্ব তিনি চান না। রুবিওও বলছেন, যে কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীকে আগে ইসরায়েলের “কমফোর্ট লেভেল” পেরোতে হবে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, গাজার পরবর্তী নিরাপত্তা আর্কিটেকচার — যদি তা গড়েই ওঠে — তা মূলত ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের সমন্বয়ে তৈরি হবে, আঙ্কারার শর্তে নয়।