০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার জ্বালানি বাজারে সাময়িক শান্তি, সামনে কি আরও বড় বৈশ্বিক তেলের সংকট? ইন্দোনেশিয়াকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও? কঙ্গোর যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ, কিন্তু শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশা, জিন নয় ‘এপিজেনেটিক’ সমস্যার দিকেই নজর দিচ্ছেন গবেষকরা ট্রাম্পের নতুন কৌশলে তাইওয়ান অস্ত্রচুক্তি অনিশ্চয়তায়, চীনের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার ওয়াশিংটন বিদেশে জাপানের হারানো স্বাদ: ‘হ্যালো পান্ডা’ আমাদের কী শেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই অর্থনীতির সংকট কমাবে? কানাডার ‘চীন কার্ড’: কৌশল, সংকট নাকি বাধ্যতার নতুন ভূরাজনীতি? কারিনার মৃত্যু, গণভবন লুট ও ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

সৌদি হস্তক্ষেপেই রক্ষা পেয়েছিলেন পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান

মার্কিন সিদ্ধান্তে সৌদি প্রভাব
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির মূল স্থপতি আবদুল কাদির খানকে হত্যা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র—আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল সৌদি আরবের সরাসরি হস্তক্ষেপ।
এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু। তাঁর দাবি, রিয়াদই ওয়াশিংটনকে বাধ্য করেছিল খানকে “অক্ষত” রাখতে।

কিরিয়াকুর ভাষায়, “আমরা জানতাম তিনি কোথায় থাকেন, কীভাবে দিন কাটান—সব কিছুই জানা ছিল। চাইলে ইসরায়েলি ধরনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সৌদিরা এসে অনুরোধ করেছিল—‘তাকে একা ছেড়ে দিন, আমরা তাঁর সঙ্গে কাজ করছি, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।’”

সৌদির পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত
কিরিয়াকুর মতে, সৌদি আরবের এই সুরক্ষা হয়তো তাদের নিজস্ব পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই ভাবতাম, হয়তো সৌদিরাও নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।”

তিনি আরও জানান, পরে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে কাজ করছিলেন, তখনও সিআইএ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছিলেন—হোয়াইট হাউসের নির্দেশেই খানকে হত্যার পরিকল্পনা বাতিল হয়।
কিরিয়াকুর মতে, “এর পেছনে একমাত্র কারণ ছিল সৌদিদের দাবি ও চাপ।”

আবদুল কাদির খান: এক বিতর্কিত বিজ্ঞানীর উত্তরাধিকার
আবদুল কাদির খান ১৯৩৬ সালে অবিভক্ত ভারতের ভোপালে জন্ম নেন। ১৯৫২ সালে পরিবারসহ পাকিস্তানে চলে যান।
তাঁকে পাকিস্তানের পরমাণু বোমা কর্মসূচির জনক বলা হয়—যা দেশটিকে বিশ্বের প্রথম ‘ইসলামিক নিউক্লিয়ার পাওয়ার’-এ পরিণত করেছিল।

তিনি ২০২১ সালে ইসলামাবাদে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁকে সবচেয়ে কুখ্যাত পরমাণু প্রযুক্তি পাচারকারীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি উত্তর কোরিয়া, ইরান ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোকে প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষণ: রিয়াদ-ইসলামাবাদ পারমাণবিক সংযোগ
এই তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তোলে—সৌদি আরব কি পাকিস্তানের সঙ্গে গোপনে কোনো পারমাণবিক সহযোগিতা করেছিল?
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি শুরু থেকেই সৌদি আরবের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। রিয়াদ হয়তো ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় ইসলামাবাদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে চেয়েছিল।

কিরিয়াকুর সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির নেপথ্যে থাকা জটিল জোট সম্পর্কের এক ঝলক দেখায়।
একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও পরমাণু বিস্তার রোধের কথা বললেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের অনুরোধে অনেক সময় কঠোর পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে — আবদুল কাদির খানের ঘটনায় সেই বাস্তবতাই আবারও স্পষ্ট হলো।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার

সৌদি হস্তক্ষেপেই রক্ষা পেয়েছিলেন পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান

০৭:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন সিদ্ধান্তে সৌদি প্রভাব
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির মূল স্থপতি আবদুল কাদির খানকে হত্যা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র—আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল সৌদি আরবের সরাসরি হস্তক্ষেপ।
এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু। তাঁর দাবি, রিয়াদই ওয়াশিংটনকে বাধ্য করেছিল খানকে “অক্ষত” রাখতে।

কিরিয়াকুর ভাষায়, “আমরা জানতাম তিনি কোথায় থাকেন, কীভাবে দিন কাটান—সব কিছুই জানা ছিল। চাইলে ইসরায়েলি ধরনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সৌদিরা এসে অনুরোধ করেছিল—‘তাকে একা ছেড়ে দিন, আমরা তাঁর সঙ্গে কাজ করছি, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।’”

সৌদির পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত
কিরিয়াকুর মতে, সৌদি আরবের এই সুরক্ষা হয়তো তাদের নিজস্ব পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই ভাবতাম, হয়তো সৌদিরাও নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।”

তিনি আরও জানান, পরে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে কাজ করছিলেন, তখনও সিআইএ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছিলেন—হোয়াইট হাউসের নির্দেশেই খানকে হত্যার পরিকল্পনা বাতিল হয়।
কিরিয়াকুর মতে, “এর পেছনে একমাত্র কারণ ছিল সৌদিদের দাবি ও চাপ।”

আবদুল কাদির খান: এক বিতর্কিত বিজ্ঞানীর উত্তরাধিকার
আবদুল কাদির খান ১৯৩৬ সালে অবিভক্ত ভারতের ভোপালে জন্ম নেন। ১৯৫২ সালে পরিবারসহ পাকিস্তানে চলে যান।
তাঁকে পাকিস্তানের পরমাণু বোমা কর্মসূচির জনক বলা হয়—যা দেশটিকে বিশ্বের প্রথম ‘ইসলামিক নিউক্লিয়ার পাওয়ার’-এ পরিণত করেছিল।

তিনি ২০২১ সালে ইসলামাবাদে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁকে সবচেয়ে কুখ্যাত পরমাণু প্রযুক্তি পাচারকারীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি উত্তর কোরিয়া, ইরান ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোকে প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষণ: রিয়াদ-ইসলামাবাদ পারমাণবিক সংযোগ
এই তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তোলে—সৌদি আরব কি পাকিস্তানের সঙ্গে গোপনে কোনো পারমাণবিক সহযোগিতা করেছিল?
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি শুরু থেকেই সৌদি আরবের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। রিয়াদ হয়তো ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় ইসলামাবাদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে চেয়েছিল।

কিরিয়াকুর সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির নেপথ্যে থাকা জটিল জোট সম্পর্কের এক ঝলক দেখায়।
একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও পরমাণু বিস্তার রোধের কথা বললেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের অনুরোধে অনেক সময় কঠোর পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে — আবদুল কাদির খানের ঘটনায় সেই বাস্তবতাই আবারও স্পষ্ট হলো।