০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
তেহরানের এক বাসিন্দার জবানিতে ৩৫তম রাতের বিভীষিকা: মৃত্যু মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল ভাইভব সূর্যবংশী: ১৫ বছরেই আইপিএলের রোমাঞ্চকর নবতরকা ট্রাম্প বললেন হরমুজ খুলে তেল নেব, ম্যাক্রোঁ বললেন অবাস্তব, জাতিসংঘে ভোট আটকে দিল চীন-রাশিয়া রাশিয়ার তেল উৎপাদনে বড় ধস: ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাল রপ্তানি ইরান ‘আবুধাবিতে আমেরিকান ইস্পাত, বাহরাইনে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা এবং রাফায়েল অস্ত্র কারখানায়’ আঘাত হেনেছে বলে দাবি পশ্চিম এশিয়ার সংকটে ভারতীয় উৎপাদন: মার্চে চার বছরের ন্যূনতম স্থিতিতে ধস মার্কিন প্রাক্তন পাইলটের টিপস: বিমান গুঁড়িয়ে পড়লে কীভাবে বেঁচে থাকা যায় শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ক্যান্সার: ভারতের চিত্র উদ্বেগজনক ইউএই বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এপ্রিল ৪-এ ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে ব্রিটিশ রাজনীতিতে গ্রিন পার্টির উত্থান: জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্বে নতুন আশা

চীনে নেতিবাচক অনলাইন পোস্টের আওতা বেড়ে গেলে

প্রারম্ভিক সংক্ষিপ্ত বিবরণ
চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলি শুধু রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়, এখন সাধারণ জনমেজাজের নিরুদ্যম ভাবটিকেও নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। বিশেষ করে এমন পোস্ট-ব্লগ বা অনুপ্রেরণাহীন বক্তব্য যেখানে বলা হয়েছে কাজ করা বা বিবাহ অথবা সন্তান নেওয়ার অর্থ নেই—তেমন ধরনের ভাবনাকে এবার ‘নেতিবাচক’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।


সন্দেহভাজন অনুভূতির বিরুদ্ধে অভিযান

চীনের ব্লগার ও ইনফ্লুয়েন্সার যারা বলছেন কম কাজ, কম চাপ মানে ভালো জীবন; অথবা বিবাহ ও সন্তান গ্রহণ বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে— তাঁরা নিষিদ্ধ বা অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনা রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়, বরং “হতাশা”, “বিরতি ব্যর্থতা” অথবা “নিয়ম থেকে অনুতাপে” ভরা সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক বিবৃতি হিসেবে দেখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযান হচ্ছে “অতিরিক্ত নেতিবাচক অনুভূতির উসকানি” ও উদ্বেগ সৃষ্টিকারী পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে।


প্রচারণার সংবাদ ও রাষ্ট্র-মাধ্যমের ভূমিকা

রাষ্ট্রমালা সংবাদমাধ্যম China Media Project-র পরিচালক ডেভিড বান্দুরস্কি মন্তব্য করেছেন—“অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনাবঞ্চিত অনেক চীনা নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ জেগেছে, যা যে কোনো দেশেই সামাজিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাভাবিক।” পাশাপাশি CCTV নিউজচ্যানেল এডিটোরিয়ালে বলেছে, “ইন্টারনেট নেতিবাচকতার জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়।”


স্থানীয় প্রশাসন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ

চীনের বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। উদাহরণস্বরূপ: কেন্দ্রীয় চীনের Zhengzhou শহরে দুই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট-মালিককে শহরকে কচকচে আলোচনায় ফেলার অভিযোগে তদন্ত করা হয়েছে। Xi’an-এ পাঁচটি অ্যাকাউন্ট হাউসিং মূল্য ও রিয়েল এস্টেট নীতিকে নিয়ে “ভ্রম ভাঙা তথ্য” ছড়ানোর জন্য শাস্তি পেয়েছে। জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং সাইট Weibo এক মাসে ১,২০০-এরও বেশি অ্যাকাউন্ট “অর্থনীতি ও সরকারি কল্যাণ-প্রোগ্রাম নিয়ে গুজব” ছড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।


সামাজিক উদ্বেগ ও বাস্তবতা

চীন-যুব সমাজের মধ্যে গত বছর থেকে একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে—“হু ডাকোয়ার মতো জীবন” (lying flat) বা “সব হারিয়ে ফেলার মানসিকতা”। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চাকরির কমতি, বাড়ি কেনা-বেচায় অনিশ্চয়তা এসবের প্রেক্ষিতে এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে এবছর ১২.২ মিলিয়ন নতুন স্নাতক চাকরির বাজারে আসছেন—কিন্তু যুবেকারী (youth unemployment) এখনও জোরালো।


এক অভিনেতার মৃত্যুর পর বিশৃঙ্খলা

চীনে এক অভিনেতা Yu Menglong’র মৃত্যুকে ঘিরে অনলাইন আলোচনায় এক বিশাল ঝড় উঠেছে। তাঁর শরীর বহুতল ভবনের বাইরে পাওয়া গিয়েছিল, পুলিশ বলেছে ‘পড়েও পড়ে মৃত্যু হয়েছে’—মাও তার মা ওই যুক্তি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অজানা কারণে ধর্ষণ, আত্মহত্যা, দুর্নীতি—সব ধরনের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। Weibo ওই বিষয়ে ১,৫০০+ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করেছে।


মনোবল বাড়ানোর প্রচেষ্টা এবং সীমাবদ্ধতা

চীনের সরকার ইতিমধ্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে—সামাজিক নিরাপত্তা জাল উন্নয়ন করা, শিশুপ্রাপ্ত পরিবার-ভিত্তিক ভর্তুকি প্রদান, ভোক্তা ট্রেড-ইন প্রোগ্রাম চালু করা। কিন্তু বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, “অনলাইন নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, কারণ বাস্তবতা ইতিমধ্যে ভিন্ন।” (কাটজ্যা দ্রিনহাউসেন, Mercator Institute for China Studies)


যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন ও ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি

অনেক মানুষ অভিযোগ করছেন—মজুরির স্থিতিশীলতা নেই, নতুন ভিসা নীতি কি চীনা নাগরিকদের জন্য চাকরি কমাবে? সামাজিক মিডিয়ায় শুধুই “নেতিবাচকতা” বন্ধ করার চেষ্টা কি যথেষ্ট? সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা, যোগাযোগ—এসব নিয়েই বড় প্রশ্ন।


সারাংশে, চীনের অনলাইন নিয়ন্ত্রণকারীরা ইতিমধ্যে “হতাশা”, “নিরুৎসাহ” ও “বিরতির মনোভাব”কে অন্যায় বা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়—বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও ততটাই গুরুত্ব বহন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেহরানের এক বাসিন্দার জবানিতে ৩৫তম রাতের বিভীষিকা: মৃত্যু মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল

চীনে নেতিবাচক অনলাইন পোস্টের আওতা বেড়ে গেলে

১১:২০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

প্রারম্ভিক সংক্ষিপ্ত বিবরণ
চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলি শুধু রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়, এখন সাধারণ জনমেজাজের নিরুদ্যম ভাবটিকেও নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। বিশেষ করে এমন পোস্ট-ব্লগ বা অনুপ্রেরণাহীন বক্তব্য যেখানে বলা হয়েছে কাজ করা বা বিবাহ অথবা সন্তান নেওয়ার অর্থ নেই—তেমন ধরনের ভাবনাকে এবার ‘নেতিবাচক’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।


সন্দেহভাজন অনুভূতির বিরুদ্ধে অভিযান

চীনের ব্লগার ও ইনফ্লুয়েন্সার যারা বলছেন কম কাজ, কম চাপ মানে ভালো জীবন; অথবা বিবাহ ও সন্তান গ্রহণ বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে— তাঁরা নিষিদ্ধ বা অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনা রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়, বরং “হতাশা”, “বিরতি ব্যর্থতা” অথবা “নিয়ম থেকে অনুতাপে” ভরা সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক বিবৃতি হিসেবে দেখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযান হচ্ছে “অতিরিক্ত নেতিবাচক অনুভূতির উসকানি” ও উদ্বেগ সৃষ্টিকারী পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে।


প্রচারণার সংবাদ ও রাষ্ট্র-মাধ্যমের ভূমিকা

রাষ্ট্রমালা সংবাদমাধ্যম China Media Project-র পরিচালক ডেভিড বান্দুরস্কি মন্তব্য করেছেন—“অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনাবঞ্চিত অনেক চীনা নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ জেগেছে, যা যে কোনো দেশেই সামাজিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাভাবিক।” পাশাপাশি CCTV নিউজচ্যানেল এডিটোরিয়ালে বলেছে, “ইন্টারনেট নেতিবাচকতার জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়।”


স্থানীয় প্রশাসন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ

চীনের বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। উদাহরণস্বরূপ: কেন্দ্রীয় চীনের Zhengzhou শহরে দুই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট-মালিককে শহরকে কচকচে আলোচনায় ফেলার অভিযোগে তদন্ত করা হয়েছে। Xi’an-এ পাঁচটি অ্যাকাউন্ট হাউসিং মূল্য ও রিয়েল এস্টেট নীতিকে নিয়ে “ভ্রম ভাঙা তথ্য” ছড়ানোর জন্য শাস্তি পেয়েছে। জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং সাইট Weibo এক মাসে ১,২০০-এরও বেশি অ্যাকাউন্ট “অর্থনীতি ও সরকারি কল্যাণ-প্রোগ্রাম নিয়ে গুজব” ছড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।


সামাজিক উদ্বেগ ও বাস্তবতা

চীন-যুব সমাজের মধ্যে গত বছর থেকে একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে—“হু ডাকোয়ার মতো জীবন” (lying flat) বা “সব হারিয়ে ফেলার মানসিকতা”। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চাকরির কমতি, বাড়ি কেনা-বেচায় অনিশ্চয়তা এসবের প্রেক্ষিতে এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে এবছর ১২.২ মিলিয়ন নতুন স্নাতক চাকরির বাজারে আসছেন—কিন্তু যুবেকারী (youth unemployment) এখনও জোরালো।


এক অভিনেতার মৃত্যুর পর বিশৃঙ্খলা

চীনে এক অভিনেতা Yu Menglong’র মৃত্যুকে ঘিরে অনলাইন আলোচনায় এক বিশাল ঝড় উঠেছে। তাঁর শরীর বহুতল ভবনের বাইরে পাওয়া গিয়েছিল, পুলিশ বলেছে ‘পড়েও পড়ে মৃত্যু হয়েছে’—মাও তার মা ওই যুক্তি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অজানা কারণে ধর্ষণ, আত্মহত্যা, দুর্নীতি—সব ধরনের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। Weibo ওই বিষয়ে ১,৫০০+ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করেছে।


মনোবল বাড়ানোর প্রচেষ্টা এবং সীমাবদ্ধতা

চীনের সরকার ইতিমধ্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে—সামাজিক নিরাপত্তা জাল উন্নয়ন করা, শিশুপ্রাপ্ত পরিবার-ভিত্তিক ভর্তুকি প্রদান, ভোক্তা ট্রেড-ইন প্রোগ্রাম চালু করা। কিন্তু বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, “অনলাইন নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, কারণ বাস্তবতা ইতিমধ্যে ভিন্ন।” (কাটজ্যা দ্রিনহাউসেন, Mercator Institute for China Studies)


যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন ও ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি

অনেক মানুষ অভিযোগ করছেন—মজুরির স্থিতিশীলতা নেই, নতুন ভিসা নীতি কি চীনা নাগরিকদের জন্য চাকরি কমাবে? সামাজিক মিডিয়ায় শুধুই “নেতিবাচকতা” বন্ধ করার চেষ্টা কি যথেষ্ট? সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা, যোগাযোগ—এসব নিয়েই বড় প্রশ্ন।


সারাংশে, চীনের অনলাইন নিয়ন্ত্রণকারীরা ইতিমধ্যে “হতাশা”, “নিরুৎসাহ” ও “বিরতির মনোভাব”কে অন্যায় বা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়—বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও ততটাই গুরুত্ব বহন করছে।