আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১) আগামী ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রথম রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে।
রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ
বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল—চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী—এই তারিখ ঠিক করেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবেও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলায় আসামি যোগ
প্রথমে মামলায় একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। পরে গত ১৬ মার্চ প্রসিকিউশন সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামি হিসেবে যুক্ত করার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।

ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আইসিটি পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা ছিল গত বছরের জুলাই মাসের আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা হাসিনা মামলা।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
তদন্ত ও অভিযোগ গঠন
বহুবার সময় বাড়ানোর পর তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের ১২ মে প্রধান প্রসিকিউটরের দপ্তরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
১ জুন শেখ হাসিনা ও অন্য দুইজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগগুলো হলো:
• ১৪ জুলাই ২০২৪ গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন উসকে দেওয়া
• হেলিকপ্টার, ড্রোন ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নির্দেশ দেওয়া
• রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা
• ঢাকার চানখারপুলে ছয় বিক্ষোভকারীকে হত্যা
• আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা
ট্রাইব্যুনাল ১০ জুলাই এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করে।
কার অবস্থান কোথায়
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান এখনও পলাতক। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সাবেক আইজিপি মামুনকেই ধরা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের দিন তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন।

যুক্তিতর্ক ও শাস্তির দাবি
১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়।
প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের জন্য মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের অব্যাহতি চেয়েছেন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার মক্কেলের অব্যাহতি দাবি করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















