০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন করে উত্তেজনা নতুন ‘অক্ষশক্তি’ নয়, তবু কেন আরও বিপজ্জনক এই নীরব স্বৈরশাসক জোট ট্রাম্পের নতুন নিশানায় সাংবাদিকরা, বাড়ছে জেলের শঙ্কা বাংলাদেশের উপহার পৌঁছাল পশ্চিমবঙ্গে, শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ১০০ কেজিসহ পাঠানো হলো ৫০০ কেজি আম পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম চালু, গাঢ় নীল শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলেন সদস্যরা অন্ধকার সময়েও স্বাধীনতার আলো নিভে যায় না জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ইন্দোনেশিয়ায় মূল্যস্ফীতি ৩.৩৪ শতাংশে ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা, চাহিদা কমে কারখানাগুলো সংকোচনে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল নাকি আইনের আড়ালে বিশেষ সুবিধা? ডানান্তারা বন্ডের বিতর্ক বিশ্বব্যবস্থার নতুন বাস্তবতা: ভূখণ্ড নয়, ক্ষমতার জালেই টিকে আছে মার্কিন আধিপত্য

ক্ষমতায় ফিরলে সংবিধানে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস’ ফেরানোর ঘোষণা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন যে, তাদের দল ক্ষমতায় ফিরলে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা’—এই বাক্যটি পুনর্বহাল করবে।

এই ঘোষণা তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুত্ত (সা.) গ্র্যান্ড কাউন্সিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেন।


সংবিধানে জিয়াউর রহমানের করা পরিবর্তন

সালাহউদ্দিন জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” যুক্ত করেন। রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও এটি আজও বহাল আছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা’ যোগ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি বাদ দেওয়া হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বাতিল হওয়া ৫ম সংশোধনী অকার্যকর ঘোষিত হওয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনরায় রাষ্ট্রের মূলনীতির মর্যাদা দেওয়া হয়।


বক্তৃতায় বিএনপির অবস্থান

সালাহউদ্দিন জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন—এই নীতি পুনর্বহাল করতে চান কি না। তিনি বলেন,
“ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাদের ভোট দিলে আমরা এটি ফিরিয়ে আনব।”


আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবিসহ অন্যান্য ইস্যু

অনুষ্ঠানে ইসলামি দল ও আলেমদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তোলা হয়, যার মধ্যে ছিল আহমদিয়া (কাদিয়ানি) সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা

সালাহউদ্দিন প্রতিশ্রুতি দেন—
যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, এবং জনগণ ও আলেমসমাজ সহযোগিতা করে, তাহলে এসব দাবি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে


ধর্মীয় ঐক্যের আহ্বান

তিনি বলেন,
“এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে—জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে দেশের সব মুসলমানকে।”

তিনি আরও বলেন,
“যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর পক্ষের নয়, তারা মুসলমান হতে পারে না।”


আহমদিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রেক্ষাপট

আহমদিয়া মুসলিম জামাত ১৮৮৯ সালে মির্জা গুলাম আহমদের হাতে প্রতিষ্ঠিত।
তারা তাকে পরবর্তী যুগের প্রতিশ্রুত মসিহা হিসেবে মানেন।
তারা বিশ্বাস করেন নবী মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী—তবে তাঁর পর সংস্কারক বা অপ্রকাশিত নবী আসতে পারেন।


খতমে নবুত্ত্ব বিষয়ে সালাহউদ্দিনের অবস্থান

সালাহউদ্দিন বলেন,
নবী মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করে গেছেন যে তিনি শেষ নবী

সুতরাং তাঁর পরে কেউ নবুওয়াত দাবি করলে তা ইসলামের মূল শিক্ষার বাইরে পড়ে।
তিনি বলেন,
“আমরা নবুওয়তের চূড়ান্ততার বিশ্বাসে মুসলমান হয়েছি। জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই আমাদের শক্তি।”


ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গাসহ বৈশ্বিক সঙ্কটের প্রসঙ্গ

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন,
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে—বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন— মুসলিম বিশ্বের বিভাজন ও দুর্বলতার ফল।

তার বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে জানান—ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি ঐক্য ও খতমে নবুত্ত্ব রক্ষা প্রশ্নে বিএনপি জনগণের সমর্থন পেলে সংবিধানে সংশোধনীসহ আইনগত সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।


#রাজনীতি #বিএনপি #বাংলাদেশসংবিধান #ধর্মনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন করে উত্তেজনা

ক্ষমতায় ফিরলে সংবিধানে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস’ ফেরানোর ঘোষণা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের

০৬:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন যে, তাদের দল ক্ষমতায় ফিরলে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা’—এই বাক্যটি পুনর্বহাল করবে।

এই ঘোষণা তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুত্ত (সা.) গ্র্যান্ড কাউন্সিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেন।


সংবিধানে জিয়াউর রহমানের করা পরিবর্তন

সালাহউদ্দিন জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” যুক্ত করেন। রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও এটি আজও বহাল আছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা’ যোগ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি বাদ দেওয়া হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বাতিল হওয়া ৫ম সংশোধনী অকার্যকর ঘোষিত হওয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনরায় রাষ্ট্রের মূলনীতির মর্যাদা দেওয়া হয়।


বক্তৃতায় বিএনপির অবস্থান

সালাহউদ্দিন জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন—এই নীতি পুনর্বহাল করতে চান কি না। তিনি বলেন,
“ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাদের ভোট দিলে আমরা এটি ফিরিয়ে আনব।”


আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবিসহ অন্যান্য ইস্যু

অনুষ্ঠানে ইসলামি দল ও আলেমদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তোলা হয়, যার মধ্যে ছিল আহমদিয়া (কাদিয়ানি) সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা

সালাহউদ্দিন প্রতিশ্রুতি দেন—
যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, এবং জনগণ ও আলেমসমাজ সহযোগিতা করে, তাহলে এসব দাবি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে


ধর্মীয় ঐক্যের আহ্বান

তিনি বলেন,
“এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে—জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে দেশের সব মুসলমানকে।”

তিনি আরও বলেন,
“যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর পক্ষের নয়, তারা মুসলমান হতে পারে না।”


আহমদিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রেক্ষাপট

আহমদিয়া মুসলিম জামাত ১৮৮৯ সালে মির্জা গুলাম আহমদের হাতে প্রতিষ্ঠিত।
তারা তাকে পরবর্তী যুগের প্রতিশ্রুত মসিহা হিসেবে মানেন।
তারা বিশ্বাস করেন নবী মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী—তবে তাঁর পর সংস্কারক বা অপ্রকাশিত নবী আসতে পারেন।


খতমে নবুত্ত্ব বিষয়ে সালাহউদ্দিনের অবস্থান

সালাহউদ্দিন বলেন,
নবী মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করে গেছেন যে তিনি শেষ নবী

সুতরাং তাঁর পরে কেউ নবুওয়াত দাবি করলে তা ইসলামের মূল শিক্ষার বাইরে পড়ে।
তিনি বলেন,
“আমরা নবুওয়তের চূড়ান্ততার বিশ্বাসে মুসলমান হয়েছি। জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই আমাদের শক্তি।”


ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গাসহ বৈশ্বিক সঙ্কটের প্রসঙ্গ

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন,
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে—বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন— মুসলিম বিশ্বের বিভাজন ও দুর্বলতার ফল।

তার বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে জানান—ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি ঐক্য ও খতমে নবুত্ত্ব রক্ষা প্রশ্নে বিএনপি জনগণের সমর্থন পেলে সংবিধানে সংশোধনীসহ আইনগত সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।


#রাজনীতি #বিএনপি #বাংলাদেশসংবিধান #ধর্মনীতি