০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
উদারতাবাদের ক্লান্তি ও পুনর্জাগরণের সন্ধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনায় এখন শুধু ‘ট্যাকটিক্যাল বিরতি’,সতর্ক করল সিঙ্গাপুর

আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কী ঝুঁকি

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক নরম অবস্থাকে স্থায়ী স্বস্তি ধরে নিলে ভুল হবে। একটি আঞ্চলিক আলোচনায় তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আবার শুরু হলেও শুল্ক, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের মতোই শক্তভাবে বিদ্যমান। এই সময়টাকে তিনি তুলনা করেছেন “ভূরাজনৈতিক জলবায়ু পরিবর্তন”-এর সঙ্গে, যেখানে পুরোনো ধারণা আর কাজ করছে না। ছোট ছোট অর্থনীতি এখন হিসাব করছে, কীভাবে দুই পরাশক্তির চাপে পড়া ছাড়াই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের কাছেই নিজেকে উপকারী রাখার কৌশল নিয়েছে—বন্দর, আর্থিক কেন্দ্র ও নিরপেক্ষ আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। কিন্তু বালাকৃষ্ণনের ভাষায়, এই যুগে স্থায়ী নিরপেক্ষতা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। হঠাৎ করে নতুন শুল্ক আরোপ, রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রযুক্তি–চিপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এখন বাস্তব। এতে শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলেও ধাক্কা লাগতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যেখানে পোশাক, জাহাজ চলাচল ও খাদ্য আমদানি–রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে মালবাহী নৌরুট বা বীমা খরচ সামান্য বদলালেও তা দ্রুত ভোক্তা-দামের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রস্তুতির সময় এখনই

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের কোনো পক্ষ ভুল হিসাব করলে প্রথম ধাক্কা খাবে আসিয়ান ও আশপাশের ছোট অর্থনীতিগুলো। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, চিপ কারখানা বা ডেটা কেবল যেসব দেশে আছে, তারা বিশেষভাবে চাপের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে অনেকে এখনই বন্দর আধুনিকায়ন, ডিজিটাল নীতি কড়া করা ও বিকল্প বাজার তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে। কেউ কেউ নীরবে আফ্রিকা, গালফ ও ভারতীয় বাজারে নতুন অংশীদার খুঁজছে।

দক্ষিণ এশিয়াও এই পুনর্বিন্যাসের বাইরে নয়। ভারত ইতিমধ্যে “চায়না-প্লাস-ওয়ান” কৌশলের অংশ হিসেবে নতুন বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে। যে সব অর্ডার আগে একচেটিয়াভাবে চীনে যেত, ধীরে ধীরে তার কিছু অংশ সরছে ভারত বা ভিয়েতনামের দিকে। বাংলাদেশও তার একাংশ ধরতে পারে—বিশেষ করে পোশাক ও হালকা শিল্পে। তবে একই সঙ্গে ঝুঁকিও আছে: নতুন শুল্কযুদ্ধ বা বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেলে প্রথম আঘাত আসবে রফতানি–নির্ভর অর্থনীতির ওপরেই। সিঙ্গাপুরের বার্তা স্পষ্ট—সময় থাকতে অবকাঠামো, আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি ও সংযোগ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, নইলে বিরতির পরের ধাপ হবে আরও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

উদারতাবাদের ক্লান্তি ও পুনর্জাগরণের সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনায় এখন শুধু ‘ট্যাকটিক্যাল বিরতি’,সতর্ক করল সিঙ্গাপুর

০২:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কী ঝুঁকি

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক নরম অবস্থাকে স্থায়ী স্বস্তি ধরে নিলে ভুল হবে। একটি আঞ্চলিক আলোচনায় তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আবার শুরু হলেও শুল্ক, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের মতোই শক্তভাবে বিদ্যমান। এই সময়টাকে তিনি তুলনা করেছেন “ভূরাজনৈতিক জলবায়ু পরিবর্তন”-এর সঙ্গে, যেখানে পুরোনো ধারণা আর কাজ করছে না। ছোট ছোট অর্থনীতি এখন হিসাব করছে, কীভাবে দুই পরাশক্তির চাপে পড়া ছাড়াই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের কাছেই নিজেকে উপকারী রাখার কৌশল নিয়েছে—বন্দর, আর্থিক কেন্দ্র ও নিরপেক্ষ আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। কিন্তু বালাকৃষ্ণনের ভাষায়, এই যুগে স্থায়ী নিরপেক্ষতা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। হঠাৎ করে নতুন শুল্ক আরোপ, রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রযুক্তি–চিপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এখন বাস্তব। এতে শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলেও ধাক্কা লাগতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যেখানে পোশাক, জাহাজ চলাচল ও খাদ্য আমদানি–রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে মালবাহী নৌরুট বা বীমা খরচ সামান্য বদলালেও তা দ্রুত ভোক্তা-দামের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রস্তুতির সময় এখনই

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের কোনো পক্ষ ভুল হিসাব করলে প্রথম ধাক্কা খাবে আসিয়ান ও আশপাশের ছোট অর্থনীতিগুলো। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, চিপ কারখানা বা ডেটা কেবল যেসব দেশে আছে, তারা বিশেষভাবে চাপের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে অনেকে এখনই বন্দর আধুনিকায়ন, ডিজিটাল নীতি কড়া করা ও বিকল্প বাজার তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে। কেউ কেউ নীরবে আফ্রিকা, গালফ ও ভারতীয় বাজারে নতুন অংশীদার খুঁজছে।

দক্ষিণ এশিয়াও এই পুনর্বিন্যাসের বাইরে নয়। ভারত ইতিমধ্যে “চায়না-প্লাস-ওয়ান” কৌশলের অংশ হিসেবে নতুন বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে। যে সব অর্ডার আগে একচেটিয়াভাবে চীনে যেত, ধীরে ধীরে তার কিছু অংশ সরছে ভারত বা ভিয়েতনামের দিকে। বাংলাদেশও তার একাংশ ধরতে পারে—বিশেষ করে পোশাক ও হালকা শিল্পে। তবে একই সঙ্গে ঝুঁকিও আছে: নতুন শুল্কযুদ্ধ বা বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেলে প্রথম আঘাত আসবে রফতানি–নির্ভর অর্থনীতির ওপরেই। সিঙ্গাপুরের বার্তা স্পষ্ট—সময় থাকতে অবকাঠামো, আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি ও সংযোগ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, নইলে বিরতির পরের ধাপ হবে আরও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।