১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুতে এগোচ্ছে জাপান

ফুকুশিমার পর আরেক বড় মোড়

জাপানের নিগাতো প্রিফেকচারের গভর্নর বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার পুনরায় চালুতে সম্মতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ডের আওতায় নানা সংস্কার করা হয়েছে। জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বেশ আগে এসব নতুন মানদণ্ডে প্ল্যান্টটিকে অনুমোদন দিলেও স্থানীয় রাজনৈতিক আপত্তি আর জনমতের উদ্বেগের কারণে এতদিন চালু করা যায়নি। গভর্নরের অনুমোদন মানে জাপানের জ্বালানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন—পারমাণবিক শক্তিকে আবারও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে দেখার ইঙ্গিত।

এখনই যে সব রিঅ্যাক্টর চালু হয়ে যাবে, তা নয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্ণাঙ্গ পুনরায় চালুর আগে আরও পরিদর্শন, টেস্ট ও স্থানীয় পর্যায়ে মতামত নেওয়ার ধাপ আছে। সমর্থকদের যুক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল এবং জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমাতে সহায়তা করে—যা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি দোলাচলের সময়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাদের মতে, নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়াতে হলেও বেসলোড হিসেবে নির্ভরযোগ্য উৎস থাকা দরকার, না হলে ঝড়-তাপপ্রবাহে গ্রিড ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। সমালোচকেরা পাল্টা বলেন, এত বড় প্ল্যান্টে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতির মাত্রা কল্পনাতীত হবে; নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ও উচ্চ–স্তরের তত্ত্বাবধান এখনো অনেক প্রশ্নের মুখে।

এশিয়ার জ্বালানি ভবিষ্যতের সাথে যোগসূত্র

এশিয়ার অনেক দেশই দ্রুত উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা আর জলবায়ু প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। কেউ পারমাণবিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ভাবছে, কেউ আবার সোলার–উইন্ড ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। জাপানের নিগাতো সিদ্ধান্ত তাই পুরো অঞ্চলের জন্য এক ধরনের টেস্টকেস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ভেতরে জনমত, নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও স্বচ্ছতা কীভাবে সামলে তারা পুনরায় চালু করে—সেই অভিজ্ঞতা থেকে অন্য রাষ্ট্রগুলো শিখতে চাইবে।

বাংলাদেশের মতো দেশে বড় জ্বালানি প্রকল্প—হোক তা পারমাণবিক বা কয়লাভিত্তিক—নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে: দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। জাপানের এই পদক্ষেপ জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের তাগিদ কতটা চাপ সৃষ্টি করছে, আর তার বিপরীতে নিরাপত্তা-আতঙ্ক কতটা প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট করে দেখাবে। শেষ পর্যন্ত, নিগাতোর এক উপকূলীয় প্রিফেকচারের সিদ্ধান্তই বৈশ্বিক জ্বালানি–আলোচনায় নতুন সুর যোগ করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুতে এগোচ্ছে জাপান

০৪:০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

ফুকুশিমার পর আরেক বড় মোড়

জাপানের নিগাতো প্রিফেকচারের গভর্নর বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার পুনরায় চালুতে সম্মতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ডের আওতায় নানা সংস্কার করা হয়েছে। জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বেশ আগে এসব নতুন মানদণ্ডে প্ল্যান্টটিকে অনুমোদন দিলেও স্থানীয় রাজনৈতিক আপত্তি আর জনমতের উদ্বেগের কারণে এতদিন চালু করা যায়নি। গভর্নরের অনুমোদন মানে জাপানের জ্বালানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন—পারমাণবিক শক্তিকে আবারও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে দেখার ইঙ্গিত।

এখনই যে সব রিঅ্যাক্টর চালু হয়ে যাবে, তা নয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্ণাঙ্গ পুনরায় চালুর আগে আরও পরিদর্শন, টেস্ট ও স্থানীয় পর্যায়ে মতামত নেওয়ার ধাপ আছে। সমর্থকদের যুক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল এবং জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমাতে সহায়তা করে—যা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি দোলাচলের সময়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাদের মতে, নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়াতে হলেও বেসলোড হিসেবে নির্ভরযোগ্য উৎস থাকা দরকার, না হলে ঝড়-তাপপ্রবাহে গ্রিড ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। সমালোচকেরা পাল্টা বলেন, এত বড় প্ল্যান্টে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতির মাত্রা কল্পনাতীত হবে; নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ও উচ্চ–স্তরের তত্ত্বাবধান এখনো অনেক প্রশ্নের মুখে।

এশিয়ার জ্বালানি ভবিষ্যতের সাথে যোগসূত্র

এশিয়ার অনেক দেশই দ্রুত উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা আর জলবায়ু প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। কেউ পারমাণবিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ভাবছে, কেউ আবার সোলার–উইন্ড ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। জাপানের নিগাতো সিদ্ধান্ত তাই পুরো অঞ্চলের জন্য এক ধরনের টেস্টকেস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ভেতরে জনমত, নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও স্বচ্ছতা কীভাবে সামলে তারা পুনরায় চালু করে—সেই অভিজ্ঞতা থেকে অন্য রাষ্ট্রগুলো শিখতে চাইবে।

বাংলাদেশের মতো দেশে বড় জ্বালানি প্রকল্প—হোক তা পারমাণবিক বা কয়লাভিত্তিক—নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে: দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। জাপানের এই পদক্ষেপ জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের তাগিদ কতটা চাপ সৃষ্টি করছে, আর তার বিপরীতে নিরাপত্তা-আতঙ্ক কতটা প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট করে দেখাবে। শেষ পর্যন্ত, নিগাতোর এক উপকূলীয় প্রিফেকচারের সিদ্ধান্তই বৈশ্বিক জ্বালানি–আলোচনায় নতুন সুর যোগ করতে পারে।