০৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এফবিআইয়ের বিতর্কিত অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট ইরান পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, পাকিস্তানে যাচ্ছেন উইটকফ ও কুশনার সবুজ প্রতিশ্রুতির রাজনীতি: কথার চেয়ে কাজে কতটা এগোবে বাংলা? ‘জয় বাংলা’ বলা নিষিদ্ধ কোথায়—প্রশ্ন তুলে ইমির মুক্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে প্রতিবাদ কলকাতার অভিজাত রাশবিহারী কেন্দ্রে বিজেপির মতাদর্শিক মুখ বনাম তৃণমূলের অভিজ্ঞ যোদ্ধা—জমে উঠেছে লড়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ নিয়ে বিতর্ক: ১ কোটি টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার, আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার রিফাতের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাইবার প্রতারণা দমনে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া পদক্ষেপ, কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা ৩০ বছরের চুক্তির শেষ বছরে গঙ্গা ইস্যু, নতুন বাস্তবতায় সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ রাতের বাসযাত্রা থেকে নিখোঁজ, ১২ ঘণ্টা পর কুমিল্লার ফুটপাতে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৯)

পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত।

পাগলার গেলাসি

আমাদের বয়সীদের কাছে পাগলার গেলাসি এখনও বিখ্যাত। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো গ্লাসি বা গেলাসি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এটি এক ধরনের খাবার যা উদ্ভুত হয়েছিল মুঘল আমলে। ঘি, মাখন দিয়ে চাক চাক করে মশলার তৈরি মাংসে এক সের খাসি বা ভেড়ার মাংস আট টুকরো করা হতো। সাধারণত তা সিরকায় ভিজিয়ে রাখা হতো। তারপর আস্ত পেঁয়াজ, ঘি, মাখন আর গোলমরিচ ব্যবহার করে তা তৈরি হতো। মুখে দিলেই তা গলে যেত। নান বা পোলাওয়ের সঙ্গে খাওয়া হতো গেলাসি।

লায়ন সিনেমার গলিতে বেড়ার একটি ঘর ছিল পাগলার গেলাসির দোকান। আমার নানাবাড়ি লায়ন সিনেমার পাশের গলি আশেক লেনে। সুতরাং ছেলেবেলায়ও খেয়েছি পাগলার গেলাসি। প্রয়াত নাট্যকার সাঈদ আহমদ থাকতেন নানার বাড়ির পাশের বাড়িতে। তিনি লিখেছেন- “পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের
কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত। একসময় থমসন সাহেব বিলেত চলে গেলে পাগলার বাবার চাকরি চলে যায়।

ক্ষেতি খোলার কাজ কিছুদিন করা হলেও পাগলার মন সায় দিত না, তাই সবার অনুপ্রেরণায় রান্নায় চলত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সাথে শিখেন গ্লাসি তৈরি। বাবার মৃত্যুর পর পাগল জীবিকার অন্বেষণে খুপচি ঘরেই খুলে বসল গ্লাসির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে দোকানের খাদ্য রসিকদের ভিড় এবং রাত যত গভীর হয় কিছু লোক সোমরসে সিক্ত হয়ে পাগলার গেলাসি খেতে আসত।

চকবাজার থেকে লক্ষ্মীবাজার পাগলার সুখ্যাতি, তার হাতের কারিগরি দেখতে লোক আসতো। মেজাজি হলেও পাগল ছিল না পাগলা। জায়গার মালিক তার গ্যারেজ সম্প্রসারণের জন্য নোটিশ দিলেন সরে যাওয়ার জন্য। পাগলা অন্যত্র দোকান করল কিন্তু সেখানে আর জমল না। লায়ন সিনেমার গলিতে তার আর দেখা মেলেনি। হারিয়ে গেল পাগলার গেলাসি।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)

 

এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এফবিআইয়ের বিতর্কিত অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৯)

০৯:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত।

পাগলার গেলাসি

আমাদের বয়সীদের কাছে পাগলার গেলাসি এখনও বিখ্যাত। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো গ্লাসি বা গেলাসি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এটি এক ধরনের খাবার যা উদ্ভুত হয়েছিল মুঘল আমলে। ঘি, মাখন দিয়ে চাক চাক করে মশলার তৈরি মাংসে এক সের খাসি বা ভেড়ার মাংস আট টুকরো করা হতো। সাধারণত তা সিরকায় ভিজিয়ে রাখা হতো। তারপর আস্ত পেঁয়াজ, ঘি, মাখন আর গোলমরিচ ব্যবহার করে তা তৈরি হতো। মুখে দিলেই তা গলে যেত। নান বা পোলাওয়ের সঙ্গে খাওয়া হতো গেলাসি।

লায়ন সিনেমার গলিতে বেড়ার একটি ঘর ছিল পাগলার গেলাসির দোকান। আমার নানাবাড়ি লায়ন সিনেমার পাশের গলি আশেক লেনে। সুতরাং ছেলেবেলায়ও খেয়েছি পাগলার গেলাসি। প্রয়াত নাট্যকার সাঈদ আহমদ থাকতেন নানার বাড়ির পাশের বাড়িতে। তিনি লিখেছেন- “পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের
কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত। একসময় থমসন সাহেব বিলেত চলে গেলে পাগলার বাবার চাকরি চলে যায়।

ক্ষেতি খোলার কাজ কিছুদিন করা হলেও পাগলার মন সায় দিত না, তাই সবার অনুপ্রেরণায় রান্নায় চলত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সাথে শিখেন গ্লাসি তৈরি। বাবার মৃত্যুর পর পাগল জীবিকার অন্বেষণে খুপচি ঘরেই খুলে বসল গ্লাসির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে দোকানের খাদ্য রসিকদের ভিড় এবং রাত যত গভীর হয় কিছু লোক সোমরসে সিক্ত হয়ে পাগলার গেলাসি খেতে আসত।

চকবাজার থেকে লক্ষ্মীবাজার পাগলার সুখ্যাতি, তার হাতের কারিগরি দেখতে লোক আসতো। মেজাজি হলেও পাগল ছিল না পাগলা। জায়গার মালিক তার গ্যারেজ সম্প্রসারণের জন্য নোটিশ দিলেন সরে যাওয়ার জন্য। পাগলা অন্যত্র দোকান করল কিন্তু সেখানে আর জমল না। লায়ন সিনেমার গলিতে তার আর দেখা মেলেনি। হারিয়ে গেল পাগলার গেলাসি।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)