০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি আইডাহোর ব্যস্ত বিপণি এলাকায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৭ হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত? ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের পার্লামেন্ট ঘেরাওয়ের পরও ছয় দিন ধরে চলেছে পাথর নিক্ষেপ, দিল্লিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক সরকারি সরঞ্জাম গুপ্তচরের ছায়াযুদ্ধ আবারও বিশ্বমঞ্চে, মৃত্যুকে সঙ্গী করে ফিরলেন জো সালদানা—শুরু ‘লায়নেস’-এর সবচেয়ে বিস্ফোরক মৌসুম পাতলা গড়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তি—আইফোন এয়ার ২-এ বড় পরিবর্তনের আভাস মৃত্যুর খেলায় কিশোরেরা! ইউরোপ কাঁপাচ্ছে ‘ফক্সট্রট’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই চলছে খুনি নিয়োগের গোপন অভিযান ট্রাম্প আপাতত ইরানে নতুন হামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য সমঝোতার দাবি বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন মেসি, জয় পেল না ইন্টার মায়ামি ‘লাভ আইল্যান্ড ইউকে’ কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? দর্শকদের অভিযোগ—‘প্রেমের চেয়ে নাটকই বেশি’

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৯)

পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত।

পাগলার গেলাসি

আমাদের বয়সীদের কাছে পাগলার গেলাসি এখনও বিখ্যাত। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো গ্লাসি বা গেলাসি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এটি এক ধরনের খাবার যা উদ্ভুত হয়েছিল মুঘল আমলে। ঘি, মাখন দিয়ে চাক চাক করে মশলার তৈরি মাংসে এক সের খাসি বা ভেড়ার মাংস আট টুকরো করা হতো। সাধারণত তা সিরকায় ভিজিয়ে রাখা হতো। তারপর আস্ত পেঁয়াজ, ঘি, মাখন আর গোলমরিচ ব্যবহার করে তা তৈরি হতো। মুখে দিলেই তা গলে যেত। নান বা পোলাওয়ের সঙ্গে খাওয়া হতো গেলাসি।

লায়ন সিনেমার গলিতে বেড়ার একটি ঘর ছিল পাগলার গেলাসির দোকান। আমার নানাবাড়ি লায়ন সিনেমার পাশের গলি আশেক লেনে। সুতরাং ছেলেবেলায়ও খেয়েছি পাগলার গেলাসি। প্রয়াত নাট্যকার সাঈদ আহমদ থাকতেন নানার বাড়ির পাশের বাড়িতে। তিনি লিখেছেন- “পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের
কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত। একসময় থমসন সাহেব বিলেত চলে গেলে পাগলার বাবার চাকরি চলে যায়।

ক্ষেতি খোলার কাজ কিছুদিন করা হলেও পাগলার মন সায় দিত না, তাই সবার অনুপ্রেরণায় রান্নায় চলত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সাথে শিখেন গ্লাসি তৈরি। বাবার মৃত্যুর পর পাগল জীবিকার অন্বেষণে খুপচি ঘরেই খুলে বসল গ্লাসির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে দোকানের খাদ্য রসিকদের ভিড় এবং রাত যত গভীর হয় কিছু লোক সোমরসে সিক্ত হয়ে পাগলার গেলাসি খেতে আসত।

চকবাজার থেকে লক্ষ্মীবাজার পাগলার সুখ্যাতি, তার হাতের কারিগরি দেখতে লোক আসতো। মেজাজি হলেও পাগল ছিল না পাগলা। জায়গার মালিক তার গ্যারেজ সম্প্রসারণের জন্য নোটিশ দিলেন সরে যাওয়ার জন্য। পাগলা অন্যত্র দোকান করল কিন্তু সেখানে আর জমল না। লায়ন সিনেমার গলিতে তার আর দেখা মেলেনি। হারিয়ে গেল পাগলার গেলাসি।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৯)

০৯:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত।

পাগলার গেলাসি

আমাদের বয়সীদের কাছে পাগলার গেলাসি এখনও বিখ্যাত। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো গ্লাসি বা গেলাসি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। এটি এক ধরনের খাবার যা উদ্ভুত হয়েছিল মুঘল আমলে। ঘি, মাখন দিয়ে চাক চাক করে মশলার তৈরি মাংসে এক সের খাসি বা ভেড়ার মাংস আট টুকরো করা হতো। সাধারণত তা সিরকায় ভিজিয়ে রাখা হতো। তারপর আস্ত পেঁয়াজ, ঘি, মাখন আর গোলমরিচ ব্যবহার করে তা তৈরি হতো। মুখে দিলেই তা গলে যেত। নান বা পোলাওয়ের সঙ্গে খাওয়া হতো গেলাসি।

লায়ন সিনেমার গলিতে বেড়ার একটি ঘর ছিল পাগলার গেলাসির দোকান। আমার নানাবাড়ি লায়ন সিনেমার পাশের গলি আশেক লেনে। সুতরাং ছেলেবেলায়ও খেয়েছি পাগলার গেলাসি। প্রয়াত নাট্যকার সাঈদ আহমদ থাকতেন নানার বাড়ির পাশের বাড়িতে। তিনি লিখেছেন- “পাগলার বাবা ছিল ইংরেজ থমসন সাহেবের
কুক। ওরা বংশ পরম্পরায় রান্নার কাজ করত। একসময় থমসন সাহেব বিলেত চলে গেলে পাগলার বাবার চাকরি চলে যায়।

ক্ষেতি খোলার কাজ কিছুদিন করা হলেও পাগলার মন সায় দিত না, তাই সবার অনুপ্রেরণায় রান্নায় চলত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সাথে শিখেন গ্লাসি তৈরি। বাবার মৃত্যুর পর পাগল জীবিকার অন্বেষণে খুপচি ঘরেই খুলে বসল গ্লাসির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে দোকানের খাদ্য রসিকদের ভিড় এবং রাত যত গভীর হয় কিছু লোক সোমরসে সিক্ত হয়ে পাগলার গেলাসি খেতে আসত।

চকবাজার থেকে লক্ষ্মীবাজার পাগলার সুখ্যাতি, তার হাতের কারিগরি দেখতে লোক আসতো। মেজাজি হলেও পাগল ছিল না পাগলা। জায়গার মালিক তার গ্যারেজ সম্প্রসারণের জন্য নোটিশ দিলেন সরে যাওয়ার জন্য। পাগলা অন্যত্র দোকান করল কিন্তু সেখানে আর জমল না। লায়ন সিনেমার গলিতে তার আর দেখা মেলেনি। হারিয়ে গেল পাগলার গেলাসি।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৮)