০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

দি ডনের সম্পাদকীয়ঃ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা

শাসন ও দুর্নীতি নিয়ে আইএমএফের বহুল প্রতীক্ষিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্রনিক ব্যর্থতার এক কঠোর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব, বিশেষ কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং সরকারি লেনদেনে অদক্ষতা—এসবই দেশের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ডিসেম্বরে আইএমএফের পরবর্তী ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কিস্তি অনুমোদনের পূর্বশর্ত হিসেবে এই নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য একগুচ্ছ সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধিকে ৫ থেকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের অদক্ষ ও অস্বচ্ছ কর ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবস্থাপনা, অচল ও সেকেলে আইনব্যবস্থার কারণে বিচারব্যবস্থায় চুক্তি বাস্তবায়ন ও সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা, রাজনৈতিক প্রভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার দুর্বলতা—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ বিনিয়োগ সহায়তা কাউন্সিল (এসআইএফসি)-এর কার্যপ্রণালী ও সেখানে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে সরকার একাধিকবার আইএমএফের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও এতদিন এই প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব করেছিল।

জিসিডিএ-র মূল বক্তব্য হলো—পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে অস্বচ্ছতা ও ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতির গভীর সংযোগ রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার ফলাফলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তাই তথ্যের সহজপ্রাপ্যতার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিয়মভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন না এলে এসব দুর্বলতা প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতেই থাকবে।

এই প্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ১৫ দফা সংস্কার এজেন্ডা বিষয়টিকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে। সামগ্রিকভাবে সুপারিশগুলোতে শাসনব্যবস্থা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন কাঠামো শক্তিশালীকরণ, ব্যবসায়িক বিধিনিষেধ সংস্কার, এবং বৈদেশিক বাণিজ্য তদারকিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—যা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা উন্মোচনে অত্যাবশ্যক। প্রস্তাবগুলো মূলত সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকেই লক্ষ্য করে, যা ইচ্ছাধীন ক্ষমতার সুযোগ বাড়ায় এবং বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করে। এর লক্ষ্য হলো প্রভাবশালী সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা বন্ধ করা; এসআইএফসি-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্বাচিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া ছাড়-সুবিধায় স্বচ্ছতা আনা; সংসদের তদারকি বাড়িয়ে আর্থিক কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করা; সরকারি লেনদেনে বাধ্যতামূলক ই-প্রকিউরমেন্ট চালু করা; এবং দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করা।

সংক্ষেপে, জিসিডিএ বলছে—অস্বচ্ছতা, ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত, বিশেষ সুবিধা, আইন ও প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়, এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর দাঁড়ানো বর্তমান শাসনব্যবস্থা দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ। সমস্যাটি হলো—পাকিস্তানের ক্ষমতাকেন্দ্র, নীতিনির্ধারক এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহল এখনো তাদের বিশেষ সুবিধাগুলো ছাড়তে বা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। অথচ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এবং সামনে হয়তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ভাগ্য নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইএমএফের এই মূল্যায়ন কি তাদের অবস্থান বদলাতে পারবে? এর উত্তর সময়ই দেবে।

প্রকাশিত: ডন, ২১ নভেম্বর ২০২৫

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

দি ডনের সম্পাদকীয়ঃ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা

০৯:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

শাসন ও দুর্নীতি নিয়ে আইএমএফের বহুল প্রতীক্ষিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্রনিক ব্যর্থতার এক কঠোর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব, বিশেষ কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং সরকারি লেনদেনে অদক্ষতা—এসবই দেশের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ডিসেম্বরে আইএমএফের পরবর্তী ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কিস্তি অনুমোদনের পূর্বশর্ত হিসেবে এই নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য একগুচ্ছ সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধিকে ৫ থেকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের অদক্ষ ও অস্বচ্ছ কর ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবস্থাপনা, অচল ও সেকেলে আইনব্যবস্থার কারণে বিচারব্যবস্থায় চুক্তি বাস্তবায়ন ও সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা, রাজনৈতিক প্রভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার দুর্বলতা—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ বিনিয়োগ সহায়তা কাউন্সিল (এসআইএফসি)-এর কার্যপ্রণালী ও সেখানে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে সরকার একাধিকবার আইএমএফের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও এতদিন এই প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব করেছিল।

জিসিডিএ-র মূল বক্তব্য হলো—পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে অস্বচ্ছতা ও ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতির গভীর সংযোগ রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার ফলাফলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তাই তথ্যের সহজপ্রাপ্যতার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিয়মভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন না এলে এসব দুর্বলতা প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতেই থাকবে।

এই প্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ১৫ দফা সংস্কার এজেন্ডা বিষয়টিকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে। সামগ্রিকভাবে সুপারিশগুলোতে শাসনব্যবস্থা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন কাঠামো শক্তিশালীকরণ, ব্যবসায়িক বিধিনিষেধ সংস্কার, এবং বৈদেশিক বাণিজ্য তদারকিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—যা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা উন্মোচনে অত্যাবশ্যক। প্রস্তাবগুলো মূলত সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকেই লক্ষ্য করে, যা ইচ্ছাধীন ক্ষমতার সুযোগ বাড়ায় এবং বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করে। এর লক্ষ্য হলো প্রভাবশালী সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা বন্ধ করা; এসআইএফসি-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্বাচিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া ছাড়-সুবিধায় স্বচ্ছতা আনা; সংসদের তদারকি বাড়িয়ে আর্থিক কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করা; সরকারি লেনদেনে বাধ্যতামূলক ই-প্রকিউরমেন্ট চালু করা; এবং দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করা।

সংক্ষেপে, জিসিডিএ বলছে—অস্বচ্ছতা, ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত, বিশেষ সুবিধা, আইন ও প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়, এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর দাঁড়ানো বর্তমান শাসনব্যবস্থা দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ। সমস্যাটি হলো—পাকিস্তানের ক্ষমতাকেন্দ্র, নীতিনির্ধারক এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহল এখনো তাদের বিশেষ সুবিধাগুলো ছাড়তে বা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। অথচ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এবং সামনে হয়তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ভাগ্য নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইএমএফের এই মূল্যায়ন কি তাদের অবস্থান বদলাতে পারবে? এর উত্তর সময়ই দেবে।

প্রকাশিত: ডন, ২১ নভেম্বর ২০২৫