০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

হারিকেন মেলিসার পর জ্যামাইকায় লেপটোস্পাইরোসিসে প্রাণহানি

হারিকেন মেলিসার ধ্বংসযজ্ঞের পর জ্যামাইকা এখন লেপটোস্পাইরোসিসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে ইতোমধ্যেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যা দেশব্যাপী উদ্বেগ তৈরি করেছে।

লেপটোস্পাইরোসিস কী
লেপটোস্পাইরোসিস একটি ব্যাকটেরিয়া-সংক্রমিত রোগ, যা সাধারণত ইঁদুরসহ বিভিন্ন সংক্রমিত প্রাণীর মূত্রের মাধ্যমে পানি বা মাটি দূষিত করে ছড়ায়। এই দূষিত পানি বা মাটির সংস্পর্শ ত্বকের ক্ষতস্থানের মাধ্যমে অথবা চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ ফ্লুর মতো—জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা। কিন্তু চিকিৎসা না করলে রোগটি দ্রুত জটিল হয়ে কিডনি বিকল, লিভারের ক্ষতি, মেনিনজাইটিস এবং মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।

হারিকেন মেলিসার ধ্বংসযজ্ঞ
করুণ পরিস্থিতির সূত্রপাত অক্টোবরের শেষ দিকে, যখন ক্যাটাগরি-৫ হারিকেন মেলিসা জ্যামাইকার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ২৮ অক্টোবরের ভয়াবহ ঝড়টি দ্বীপজুড়ে বড় ধরনের বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করে। প্রায় ৩০ ইঞ্চি (৭৬ সেমি) বৃষ্টিপাতের কারণে দেশব্যাপী পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয় এবং বহু এলাকায় জমে থাকা স্থবির ও দূষিত পানি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। সরকারি হিসাবে, হারিকেনটি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি করেছে। দেশের মূল অর্থনৈতিক খাত—পর্যটন ও কৃষি—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় দুই লাখ ভবন নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে।

সরকারের ঘোষণা ও পরিস্থিতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার টাফটন সংবাদ সম্মেলনে জানান যে ৩০ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯টি লেপটোস্পাইরোসিস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ২৮টি সন্দেহভাজন ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ঝড়ের পর সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দূষিত পানি এবং মাটির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর সতর্কতা অনুযায়ী, যে কেউ বন্যার পানির সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, বিশেষ করে কৃষক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জরুরি সেবাদানকারী এবং বন্যাকবলিত এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিতে বেশি আছেন।

হারিকেন মেলিসার পরবর্তী পরিবেশ জ্যামাইকায় লেপটোস্পাইরোসিসের বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে স্থবির দূষিত পানি অপসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে সচেতন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

#জ্যামাইকা #লেপটোস্পাইরোসিস #হারিকেনমেলিসা #স্বাস্থ্যসংকট #আন্তর্জাতিক সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

হারিকেন মেলিসার পর জ্যামাইকায় লেপটোস্পাইরোসিসে প্রাণহানি

০৩:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

হারিকেন মেলিসার ধ্বংসযজ্ঞের পর জ্যামাইকা এখন লেপটোস্পাইরোসিসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে ইতোমধ্যেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যা দেশব্যাপী উদ্বেগ তৈরি করেছে।

লেপটোস্পাইরোসিস কী
লেপটোস্পাইরোসিস একটি ব্যাকটেরিয়া-সংক্রমিত রোগ, যা সাধারণত ইঁদুরসহ বিভিন্ন সংক্রমিত প্রাণীর মূত্রের মাধ্যমে পানি বা মাটি দূষিত করে ছড়ায়। এই দূষিত পানি বা মাটির সংস্পর্শ ত্বকের ক্ষতস্থানের মাধ্যমে অথবা চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ ফ্লুর মতো—জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা। কিন্তু চিকিৎসা না করলে রোগটি দ্রুত জটিল হয়ে কিডনি বিকল, লিভারের ক্ষতি, মেনিনজাইটিস এবং মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।

হারিকেন মেলিসার ধ্বংসযজ্ঞ
করুণ পরিস্থিতির সূত্রপাত অক্টোবরের শেষ দিকে, যখন ক্যাটাগরি-৫ হারিকেন মেলিসা জ্যামাইকার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ২৮ অক্টোবরের ভয়াবহ ঝড়টি দ্বীপজুড়ে বড় ধরনের বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করে। প্রায় ৩০ ইঞ্চি (৭৬ সেমি) বৃষ্টিপাতের কারণে দেশব্যাপী পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয় এবং বহু এলাকায় জমে থাকা স্থবির ও দূষিত পানি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। সরকারি হিসাবে, হারিকেনটি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি করেছে। দেশের মূল অর্থনৈতিক খাত—পর্যটন ও কৃষি—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় দুই লাখ ভবন নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে।

সরকারের ঘোষণা ও পরিস্থিতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার টাফটন সংবাদ সম্মেলনে জানান যে ৩০ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯টি লেপটোস্পাইরোসিস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ২৮টি সন্দেহভাজন ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ঝড়ের পর সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দূষিত পানি এবং মাটির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর সতর্কতা অনুযায়ী, যে কেউ বন্যার পানির সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, বিশেষ করে কৃষক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জরুরি সেবাদানকারী এবং বন্যাকবলিত এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিতে বেশি আছেন।

হারিকেন মেলিসার পরবর্তী পরিবেশ জ্যামাইকায় লেপটোস্পাইরোসিসের বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে স্থবির দূষিত পানি অপসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে সচেতন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

#জ্যামাইকা #লেপটোস্পাইরোসিস #হারিকেনমেলিসা #স্বাস্থ্যসংকট #আন্তর্জাতিক সংবাদ