০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

ভারত–কানাডা–অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রযুক্তি জোট ঘোষণা

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি–২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকের পর তিন দেশ মিলে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। এই নতুন জোট উদীয়মান প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিন দেশের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।

নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অংশীদারিত্ব
মোদি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া–কানাডা–ভারত টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (ACITI) পার্টনারশিপের মাধ্যমে তিন মহাদেশ ও তিন মহাসাগরে বিস্তৃত গণতান্ত্রিক অংশীদারদের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে সমন্বয় আরও গভীর হবে। এই জোটের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ উদীয়মান প্রযুক্তির উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যৌথ বিবৃতির মূল দিক
শনিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়:
– গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তিন দেশ সমমনা পদক্ষেপ নেবে।
– গ্রিন এনার্জি ইনোভেশনকে প্রধান করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করার লক্ষ্য থাকবে।
– নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জন এবং ভবিষ্যতের নিরাপদ প্রযুক্তিগত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে প্রধান উদ্দেশ্য।

তিন দেশ সম্মত হয়েছে যে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন এবং উদ্যোগের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন। কানাডা আরও জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহারের দিকটিও বিবেচনা করা হবে।

ভারত–কানাডা সম্পর্কের পুনরুত্থান
কার্নি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত–কানাডা সম্পর্কের উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুলাই মাসে কানানাস্কিসে জি-৭ বৈঠকের সময় মোদি ও কার্নির আলোচনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সম্প্রতি ভারতকে “গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভারত–অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
শুক্রবার মোদি এবং আলবানিজের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই জোরদার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারত–যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অগ্রগতি
শনিবার মোদি জোহানেসবার্গে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় দেশ ২০২৫ সালে সিইটিএ (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং ‘ইন্ডিয়া–ইউকে ভিশন ২০৩৫’ স্বাক্ষর করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড় পরিবর্তন আনবে। এই চুক্তির ফলে ভারতের টেক্সটাইল, লেদার ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়বে, আর ব্রিটিশ হুইস্কি, গাড়ি ও চিকিৎসা যন্ত্রে কর কমবে।

অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মোদির সাক্ষাৎ
জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে–মিয়ংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। মোদি জানান, ভারত–ফ্রান্স সম্পর্ক বিশ্ব স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি
একই সময়ে ভারত শিগগিরই ফরাসি প্রতিষ্ঠান সাফরান এবং ভারতের গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE)-এর যৌথ প্রকল্প অনুমোদন করতে পারে। এর লক্ষ্য হলো ভারতের ভবিষ্যৎ স্টেলথ ফাইটার জেট এএমসিএ–র জন্য ১২০ কিলোনিউটন ক্ষমতার ইঞ্জিন তৈরি ও উৎপাদন করা।

এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তি সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে ভারত, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

ভারত–কানাডা–অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রযুক্তি জোট ঘোষণা

০৮:০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি–২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকের পর তিন দেশ মিলে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। এই নতুন জোট উদীয়মান প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিন দেশের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।

নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অংশীদারিত্ব
মোদি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া–কানাডা–ভারত টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (ACITI) পার্টনারশিপের মাধ্যমে তিন মহাদেশ ও তিন মহাসাগরে বিস্তৃত গণতান্ত্রিক অংশীদারদের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে সমন্বয় আরও গভীর হবে। এই জোটের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ উদীয়মান প্রযুক্তির উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যৌথ বিবৃতির মূল দিক
শনিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়:
– গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তিন দেশ সমমনা পদক্ষেপ নেবে।
– গ্রিন এনার্জি ইনোভেশনকে প্রধান করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করার লক্ষ্য থাকবে।
– নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জন এবং ভবিষ্যতের নিরাপদ প্রযুক্তিগত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে প্রধান উদ্দেশ্য।

তিন দেশ সম্মত হয়েছে যে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন এবং উদ্যোগের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন। কানাডা আরও জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহারের দিকটিও বিবেচনা করা হবে।

ভারত–কানাডা সম্পর্কের পুনরুত্থান
কার্নি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত–কানাডা সম্পর্কের উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুলাই মাসে কানানাস্কিসে জি-৭ বৈঠকের সময় মোদি ও কার্নির আলোচনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সম্প্রতি ভারতকে “গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভারত–অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
শুক্রবার মোদি এবং আলবানিজের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই জোরদার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারত–যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অগ্রগতি
শনিবার মোদি জোহানেসবার্গে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় দেশ ২০২৫ সালে সিইটিএ (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং ‘ইন্ডিয়া–ইউকে ভিশন ২০৩৫’ স্বাক্ষর করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড় পরিবর্তন আনবে। এই চুক্তির ফলে ভারতের টেক্সটাইল, লেদার ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়বে, আর ব্রিটিশ হুইস্কি, গাড়ি ও চিকিৎসা যন্ত্রে কর কমবে।

অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মোদির সাক্ষাৎ
জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে–মিয়ংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। মোদি জানান, ভারত–ফ্রান্স সম্পর্ক বিশ্ব স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি
একই সময়ে ভারত শিগগিরই ফরাসি প্রতিষ্ঠান সাফরান এবং ভারতের গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE)-এর যৌথ প্রকল্প অনুমোদন করতে পারে। এর লক্ষ্য হলো ভারতের ভবিষ্যৎ স্টেলথ ফাইটার জেট এএমসিএ–র জন্য ১২০ কিলোনিউটন ক্ষমতার ইঞ্জিন তৈরি ও উৎপাদন করা।

এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তি সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে ভারত, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।