০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
সুদানের ভুলে যাওয়া যুদ্ধ: শান্তির জন্য এটাই কি শেষ সুযোগ? হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের চাপ, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে কঠিন সমঝোতার পথ রোবট ভ্যাকুয়াম থেকে মহাকাশ—চীনের প্রযুক্তি নিয়ে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, এগিয়ে যাচ্ছে স্পেসএক্স ট্রাম্পের পথে কাঁটা রিপাবলিকান সিনেটররা, বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ এআইয়ের সোনালি ঢেউয়ে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, চিপ কর্মীদের হাতে লাখ লাখ ডলারের বোনাস যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে ফিলিপাইনের বিপজ্জনক পক্ষপাত: জাতীয় স্বার্থ কোথায়? আয়কর তুলে দিতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজ্যগুলো, বাড়ছে করনীতির বিভাজন ইয়ামাতো: জাপানের যুদ্ধস্মৃতি, প্রযুক্তির গর্ব এবং ফিরে আসা সামরিক শক্তির ছায়া পুঁজির নতুন পর্দা: অর্থনীতি যখন ভূরাজনীতির অস্ত্র লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই, মৃত্যুকালে বয়স ৬৮

পারমাণবিক বিদ্যুতে ‘র‍্যাডিকাল রিসেট’ চায় যুক্তরাজ্য, খরচ–বিলম্বে ক্ষুব্ধ বিশেষজ্ঞরা

নিয়ন্ত্রক জটিলতা কাটিয়ে অগ্রগতি চান নীতিনির্ধারকেরা
যুক্তরাজ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া দেশটির জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে—এমন কঠোর ভাষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার–নিযুক্ত এক স্বাধীন পর্যালোচনা প্যানেল। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, একাধিক সংস্থার দ্বৈত নজরদারি, দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে ব্রিটেন এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পারমাণবিক প্রকল্প–গন্তব্যগুলোর একটি। এই বাস্তবতায় রিপোর্টে ৪৭ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে; যার মধ্যে আছে সব অনুমোদন সমন্বয়ের জন্য “ওয়ান–স্টপ শপ” ধরনের নতুন সংস্থা গঠন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ধাপগুলো কার্যকরভাবে একীভূত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। সরকার আশা করছে, এ ধরনের পরিবর্তন পূর্ব ইংল্যান্ডে নির্মাণাধীন সাইজওয়েল সি–এর মতো বৃহৎ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ায় গতি আনবে, যেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন পাউন্ড সরকারি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্পষ্ট ও পূর্বানুমেয় নীতিমালা থাকলে ব্যক্তিখাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ হবে এবং শেষ পর্যন্ত করদাতা ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমতে পারে।

নেট–জিরো লক্ষ্য, নিরাপত্তা ও খরচের টানাপোড়েন
লেবার সরকার এই পর্যালোচনাকে তাদের ঘোষিত “নতুন পারমাণবিক যুগ” গড়ার ভিত্তি দলিল হিসেবে তুলে ধরছে, যেটি কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধীরে ধীরে বন্ধের প্রক্রিয়ায় গ্রিড স্থিতিশীল রাখার জন্য জরুরি বলে দাবি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড় কেন্দ্রের পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট ও মডুলার রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করে শিল্পাঞ্চলগুলোর কাছাকাছি কম–কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হবে। সমর্থকদের যুক্তি, আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অনিয়মিত বাতাস ও সূর্যনির্ভর জ্বালানির পাশে বেসলোড সরবরাহ করে গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখবে এবং বৈশ্বিক গ্যাস বাজারের ধাক্কা থেকে ভোক্তাকে কিছুটা সুরক্ষা দেবে। কিন্তু সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, নিয়ম সহজ বা দ্রুত করার নামে নিরাপত্তা মান শিথিল হয়ে যেতে পারে এবং প্রস্তাবিত কেন্দ্রের আশপাশের মানুষের মতামত উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। রিপোর্ট অবশ্য জোর দিয়ে বলেছে, “র‍্যাডিকাল রিসেট” মানে নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা ডিকমিশনিংয়ে ছাড় দেওয়া নয়; বরং এমন সব অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, যেগুলো প্রকল্প ব্যয়কে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। আগামী কয়েক বছর সরকার কীভাবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে, তা–ই নির্ধারণ করবে—পারমাণবিক শক্তি সত্যিই সস্তা, নির্ভরযোগ্য কম–কার্বন বিদ্যুৎ দিতে পারবে, নাকি আগের মতোই বিলম্ব আর ব্যয়ের ফাঁদে আটকে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুদানের ভুলে যাওয়া যুদ্ধ: শান্তির জন্য এটাই কি শেষ সুযোগ?

পারমাণবিক বিদ্যুতে ‘র‍্যাডিকাল রিসেট’ চায় যুক্তরাজ্য, খরচ–বিলম্বে ক্ষুব্ধ বিশেষজ্ঞরা

০৬:১৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

নিয়ন্ত্রক জটিলতা কাটিয়ে অগ্রগতি চান নীতিনির্ধারকেরা
যুক্তরাজ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া দেশটির জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে—এমন কঠোর ভাষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার–নিযুক্ত এক স্বাধীন পর্যালোচনা প্যানেল। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, একাধিক সংস্থার দ্বৈত নজরদারি, দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে ব্রিটেন এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পারমাণবিক প্রকল্প–গন্তব্যগুলোর একটি। এই বাস্তবতায় রিপোর্টে ৪৭ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে; যার মধ্যে আছে সব অনুমোদন সমন্বয়ের জন্য “ওয়ান–স্টপ শপ” ধরনের নতুন সংস্থা গঠন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ধাপগুলো কার্যকরভাবে একীভূত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। সরকার আশা করছে, এ ধরনের পরিবর্তন পূর্ব ইংল্যান্ডে নির্মাণাধীন সাইজওয়েল সি–এর মতো বৃহৎ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ায় গতি আনবে, যেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন পাউন্ড সরকারি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্পষ্ট ও পূর্বানুমেয় নীতিমালা থাকলে ব্যক্তিখাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ হবে এবং শেষ পর্যন্ত করদাতা ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমতে পারে।

নেট–জিরো লক্ষ্য, নিরাপত্তা ও খরচের টানাপোড়েন
লেবার সরকার এই পর্যালোচনাকে তাদের ঘোষিত “নতুন পারমাণবিক যুগ” গড়ার ভিত্তি দলিল হিসেবে তুলে ধরছে, যেটি কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধীরে ধীরে বন্ধের প্রক্রিয়ায় গ্রিড স্থিতিশীল রাখার জন্য জরুরি বলে দাবি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড় কেন্দ্রের পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট ও মডুলার রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করে শিল্পাঞ্চলগুলোর কাছাকাছি কম–কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হবে। সমর্থকদের যুক্তি, আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অনিয়মিত বাতাস ও সূর্যনির্ভর জ্বালানির পাশে বেসলোড সরবরাহ করে গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখবে এবং বৈশ্বিক গ্যাস বাজারের ধাক্কা থেকে ভোক্তাকে কিছুটা সুরক্ষা দেবে। কিন্তু সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, নিয়ম সহজ বা দ্রুত করার নামে নিরাপত্তা মান শিথিল হয়ে যেতে পারে এবং প্রস্তাবিত কেন্দ্রের আশপাশের মানুষের মতামত উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। রিপোর্ট অবশ্য জোর দিয়ে বলেছে, “র‍্যাডিকাল রিসেট” মানে নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা ডিকমিশনিংয়ে ছাড় দেওয়া নয়; বরং এমন সব অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, যেগুলো প্রকল্প ব্যয়কে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। আগামী কয়েক বছর সরকার কীভাবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে, তা–ই নির্ধারণ করবে—পারমাণবিক শক্তি সত্যিই সস্তা, নির্ভরযোগ্য কম–কার্বন বিদ্যুৎ দিতে পারবে, নাকি আগের মতোই বিলম্ব আর ব্যয়ের ফাঁদে আটকে থাকবে।