০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সংকটে এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমাচ্ছে, অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করছে বাজেট লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বিশেষ নিলামে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার রংপুরে পুলিশ পেটানোর ভিডিও ভাইরাল, চাঁদাবাজি সন্দেহে বাসযাত্রীদের হামলা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও তাঁর স্ত্রী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করল বিজিবি শহরে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামে লোডশেডিং বাড়ছে তেলের দাম ১৫০ ডলারের ওপরে পৌঁছাতে পারে যদি যুদ্ধবিরতি না হয় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উত্তপ্ত: পশ্চিম তীরের আগুন আরও তীব্র ও অদৃশ্য আরটেমিস II মহাকাশচারীরা চাঁদের চারপাশের ঐতিহাসিক অভিযানের পর বাড়ি ফিরছেন ট্রাম্প বললেন, ইরানের প্রস্তাব হামলা বন্ধের জন্য যথেষ্ট নয়

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত, শত শত মানুষ নিখোঁজ

হংকংয়ের তাই পো জেলার একটি উচ্চভবন আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত এবং ২৭৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত তিন দশকের মধ্যে এটিই শহরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও পরিস্থিতি
বুধবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ড শুরু হওয়ার পর টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ৩২ তলা ভবনগুলো ঘিরে থাকা দাহ্য বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং এবং সবুজ নির্মাণ জাল আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।

দমকলকর্মীরা চরম তাপের কারণে ভবনের ওপরের তলায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ওয়াং ফুক কোর্ট নামের আবাসিক কমপ্লেক্সটিতে আটটি ব্লকে মোট ২,০০০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।


বাসিন্দাদের বিবরণ
৭১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, তার স্ত্রী ভবনের ভেতর আটকে পড়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরেক বাসিন্দা, ৬৬ বছর বয়সী হ্যারি চেয়াং বলেন, তিনি বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে একটি বড় শব্দ শোনেন এবং দেখেন পাশের ব্লকে আগুন ধরে গেছে।
তিনি বলেন, “আমি দ্রুত ঘরে ফিরে কিছু জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করি। এখন কোথায় রাত কাটাব, সেটাই ভাবছি।”


জরুরি সেবা ও সরকারি প্রতিক্রিয়া
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি জানান, নিহতদের মধ্যে একজন দমকলকর্মীও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি ২৯ জনের চিকিৎসা চলছে। প্রায় ৯০০ মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

জন লি বলেন,
“প্রথম কাজ হলো আগুন নেভানো এবং আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করা। এরপর চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন, এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হবে।”

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও আগুন নেভাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেন।


পরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব
আগুনের কারণে তাই পো রোডের একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা শহরের প্রধান মহাসড়কগুলোর একটি। বাস রুটও পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার অন্তত ছয়টি স্কুল বন্ধ থাকবে।


হংকংয়ের অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাস
এটি ১৯৯৬ সালের পর হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ওই বছর কৌলুনের একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুনে ৪১ জন নিহত হয়েছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ভবনের ভেতরে ওয়েল্ডিং কাজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এরপর ভবন নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ মানদণ্ডে বড় পরিবর্তন আনা হয়।


বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং নিয়ে উদ্বেগ
হংকং এখনো বিশ্বের শেষ কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে নির্মাণকাজে ব্যাপকভাবে বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ব্যবহার করা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণে সরকার ধাপে ধাপে এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পাবলিক কনস্ট্রাকশনের ৫০% ক্ষেত্রে ধাতব ফ্রেম বাধ্যতামূলক করেছে।


ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক প্রকল্প
১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবহারাধীন কমপ্লেক্সটি সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত হোম ওনারশিপ স্কিমের আওতাধীন। অনলাইনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন হংকং ডলার ব্যয়ে ভবনগুলোতে গত এক বছর ধরে সংস্কারকাজ চলছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মালিককে ১.৬ লাখ থেকে ১.৮ লাখ হংকং ডলার পর্যন্ত দিতে হয়েছে।


হংকংয়ে আবাসন সংকট
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হংকং। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা দূরের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়াও রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক অসন্তোষের কারণ।


#হংকংআগুন #উচ্চভবনঅগ্নিকাণ্ড #তাইপো #ওয়াংফুককোর্ট #এশিয়াসংবাদ #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকটে এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমাচ্ছে, অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করছে

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত, শত শত মানুষ নিখোঁজ

১১:৩৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

হংকংয়ের তাই পো জেলার একটি উচ্চভবন আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত এবং ২৭৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত তিন দশকের মধ্যে এটিই শহরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও পরিস্থিতি
বুধবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ড শুরু হওয়ার পর টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ৩২ তলা ভবনগুলো ঘিরে থাকা দাহ্য বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং এবং সবুজ নির্মাণ জাল আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।

দমকলকর্মীরা চরম তাপের কারণে ভবনের ওপরের তলায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ওয়াং ফুক কোর্ট নামের আবাসিক কমপ্লেক্সটিতে আটটি ব্লকে মোট ২,০০০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।


বাসিন্দাদের বিবরণ
৭১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, তার স্ত্রী ভবনের ভেতর আটকে পড়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরেক বাসিন্দা, ৬৬ বছর বয়সী হ্যারি চেয়াং বলেন, তিনি বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে একটি বড় শব্দ শোনেন এবং দেখেন পাশের ব্লকে আগুন ধরে গেছে।
তিনি বলেন, “আমি দ্রুত ঘরে ফিরে কিছু জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করি। এখন কোথায় রাত কাটাব, সেটাই ভাবছি।”


জরুরি সেবা ও সরকারি প্রতিক্রিয়া
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি জানান, নিহতদের মধ্যে একজন দমকলকর্মীও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি ২৯ জনের চিকিৎসা চলছে। প্রায় ৯০০ মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

জন লি বলেন,
“প্রথম কাজ হলো আগুন নেভানো এবং আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করা। এরপর চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন, এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হবে।”

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও আগুন নেভাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেন।


পরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব
আগুনের কারণে তাই পো রোডের একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা শহরের প্রধান মহাসড়কগুলোর একটি। বাস রুটও পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার অন্তত ছয়টি স্কুল বন্ধ থাকবে।


হংকংয়ের অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাস
এটি ১৯৯৬ সালের পর হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ওই বছর কৌলুনের একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুনে ৪১ জন নিহত হয়েছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ভবনের ভেতরে ওয়েল্ডিং কাজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এরপর ভবন নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ মানদণ্ডে বড় পরিবর্তন আনা হয়।


বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং নিয়ে উদ্বেগ
হংকং এখনো বিশ্বের শেষ কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে নির্মাণকাজে ব্যাপকভাবে বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ব্যবহার করা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণে সরকার ধাপে ধাপে এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পাবলিক কনস্ট্রাকশনের ৫০% ক্ষেত্রে ধাতব ফ্রেম বাধ্যতামূলক করেছে।


ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক প্রকল্প
১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবহারাধীন কমপ্লেক্সটি সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত হোম ওনারশিপ স্কিমের আওতাধীন। অনলাইনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন হংকং ডলার ব্যয়ে ভবনগুলোতে গত এক বছর ধরে সংস্কারকাজ চলছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মালিককে ১.৬ লাখ থেকে ১.৮ লাখ হংকং ডলার পর্যন্ত দিতে হয়েছে।


হংকংয়ে আবাসন সংকট
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হংকং। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা দূরের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়াও রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক অসন্তোষের কারণ।


#হংকংআগুন #উচ্চভবনঅগ্নিকাণ্ড #তাইপো #ওয়াংফুককোর্ট #এশিয়াসংবাদ #সারাক্ষণরিপোর্ট