০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

চীনের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য হুমকি

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র দামযুদ্ধের মধ্যে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতা এতটাই নির্মম যে এটি করপোরেট মুনাফা, কর্মসংস্থান, মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সামাজিক মনোবল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি চীনা অর্থনীতি নিয়ে তিন পর্বের বিশ্লেষণের দ্বিতীয় অংশ।


সস্তা পণ্যের রাজ্য: চীন

সিঙ্গেলস’ ডে (১১ নভেম্বর) উদযাপনে চীনা পণ্যে অনলাইন বাজারে বিশাল ছাড় দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে বসেও কেউ ৪০ শতাংশ ছাড়ে লেনোভো থিঙ্কপ্যাড কিনতে পারে, সঙ্গে মাত্র কয়েক ডলারে হেডসেট, ব্যাকপ্যাক ও ওয়্যারলেস মাউস।

চীনের অভ্যন্তরে তো ছাড় আরও বিস্ময়কর।
• এক কাপ বাবল চা ১–২ ইউয়ান (১৮–৩৬ সিঙ্গাপুর সেন্ট)
• রেস্তোরাঁর সেট মেন্যু ৩–৫ ইউয়ান (৫৪–৯০ সেন্ট)
• উচ্চমূল্যের পণ্যেও একই অবস্থা—বিওয়াইডি সিগাল প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইভি মিলছে ৫৫,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার), যা আসল দামের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি ছাড়
• স্মার্টফোন ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে ২৫–৪০ শতাংশ ছাড়


নির্মম দামযুদ্ধ: ‘ইনভলিউশন’

চীনে এক ধরনের ‘রেস-টু-দ্য-বটম’ প্রতিযোগিতা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে “ইনভলিউশন”—যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাজারদখলের জন্য দামের ওপর নির্মম চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনের ওপর আরও ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কোভিড-১৯–এর পর সম্পত্তিখাত ভেঙে পড়ায় চীন সরকার ঘরোয়া উৎপাদন—বিশেষ করে ইভি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল—এ আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করে। সরকারি ও স্থানীয় তহবিল ঢালাওভাবে এসব খাতে প্রবাহিত হয়, বাধা কমানো হয়, ফলে বাজারে ঢুকে পড়ে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এসব খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ গত এক দশকে জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপি পতন ঠেকানো গেলেও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে পড়ে।


ইভি, সোলার ও ই-কমার্সে সর্বাত্মক প্রতিযোগিতা

• একসময় প্রায় ৫০০ ইভি নির্মাতা ছিল, এখন নেমে এসেছে প্রায় ১০০–এ।
• তারা বাজার ধরে রাখতে একে অপরের দাম কেটে দিচ্ছে।
• একই অবস্থা ব্যাটারি, সোলার প্যানেল ও স্টিল শিল্পে।
• ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত অফার ও ছাড় দিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

এই ছাড় ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলেও কোম্পানির মুনাফা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বি.সি.এ রিসার্চের হিসাবে, প্রায় ১,৫০,০০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ—ক্ষতি লুকিয়ে চলছে এবং টিকে আছে ভর্তুকির ওপর।

চীনের ৪০ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কি থেমে গেলো?

মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) আরও তীব্র হচ্ছে

সম্পত্তি খাত ধসে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয় দাম কমছিল। তার ওপর এই নির্মম দামযুদ্ধ আরও এক স্তর যোগ করেছে। ফলে—

• পণ্যের দাম কমছে
• করপোরেট আয় কমছে
• ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে
• কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে
• সামাজিক মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

চীনের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য হুমকি

০৬:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র দামযুদ্ধের মধ্যে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতা এতটাই নির্মম যে এটি করপোরেট মুনাফা, কর্মসংস্থান, মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সামাজিক মনোবল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি চীনা অর্থনীতি নিয়ে তিন পর্বের বিশ্লেষণের দ্বিতীয় অংশ।


সস্তা পণ্যের রাজ্য: চীন

সিঙ্গেলস’ ডে (১১ নভেম্বর) উদযাপনে চীনা পণ্যে অনলাইন বাজারে বিশাল ছাড় দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে বসেও কেউ ৪০ শতাংশ ছাড়ে লেনোভো থিঙ্কপ্যাড কিনতে পারে, সঙ্গে মাত্র কয়েক ডলারে হেডসেট, ব্যাকপ্যাক ও ওয়্যারলেস মাউস।

চীনের অভ্যন্তরে তো ছাড় আরও বিস্ময়কর।
• এক কাপ বাবল চা ১–২ ইউয়ান (১৮–৩৬ সিঙ্গাপুর সেন্ট)
• রেস্তোরাঁর সেট মেন্যু ৩–৫ ইউয়ান (৫৪–৯০ সেন্ট)
• উচ্চমূল্যের পণ্যেও একই অবস্থা—বিওয়াইডি সিগাল প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইভি মিলছে ৫৫,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার), যা আসল দামের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি ছাড়
• স্মার্টফোন ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে ২৫–৪০ শতাংশ ছাড়


নির্মম দামযুদ্ধ: ‘ইনভলিউশন’

চীনে এক ধরনের ‘রেস-টু-দ্য-বটম’ প্রতিযোগিতা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে “ইনভলিউশন”—যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাজারদখলের জন্য দামের ওপর নির্মম চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনের ওপর আরও ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কোভিড-১৯–এর পর সম্পত্তিখাত ভেঙে পড়ায় চীন সরকার ঘরোয়া উৎপাদন—বিশেষ করে ইভি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল—এ আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করে। সরকারি ও স্থানীয় তহবিল ঢালাওভাবে এসব খাতে প্রবাহিত হয়, বাধা কমানো হয়, ফলে বাজারে ঢুকে পড়ে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এসব খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ গত এক দশকে জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপি পতন ঠেকানো গেলেও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে পড়ে।


ইভি, সোলার ও ই-কমার্সে সর্বাত্মক প্রতিযোগিতা

• একসময় প্রায় ৫০০ ইভি নির্মাতা ছিল, এখন নেমে এসেছে প্রায় ১০০–এ।
• তারা বাজার ধরে রাখতে একে অপরের দাম কেটে দিচ্ছে।
• একই অবস্থা ব্যাটারি, সোলার প্যানেল ও স্টিল শিল্পে।
• ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত অফার ও ছাড় দিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

এই ছাড় ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলেও কোম্পানির মুনাফা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বি.সি.এ রিসার্চের হিসাবে, প্রায় ১,৫০,০০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ—ক্ষতি লুকিয়ে চলছে এবং টিকে আছে ভর্তুকির ওপর।

চীনের ৪০ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কি থেমে গেলো?

মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) আরও তীব্র হচ্ছে

সম্পত্তি খাত ধসে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয় দাম কমছিল। তার ওপর এই নির্মম দামযুদ্ধ আরও এক স্তর যোগ করেছে। ফলে—

• পণ্যের দাম কমছে
• করপোরেট আয় কমছে
• ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে
• কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে
• সামাজিক মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে