১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জীবন সংকটে, ওল্ডহামের সার্জনকে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্সের রকেট, তৈরি হতে পারে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য অ্যারন রজার্সের বিস্ফোরক অভিযোগ, ডায়ানা রুসিনি-মাইক ভ্রাবেল কাণ্ডে এনএফএল নীতির প্রশ্ন ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ, বাড়ছে উদ্বেগ ইবোলা আতঙ্কে হাসপাতালে যাচ্ছেন না গর্ভবতী নারীরা, কঙ্গোতে বাড়ছে মাতৃমৃত্যু গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে নতুন জটিলতা, স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় হামাস ট্রাম্প বলছেন আলোচনা চলছে, ইরানের দাবি—কোনো বৈঠকই হচ্ছে না বছরের পর বছর অপেক্ষার পর ফিরছে টিভি সিরিজ, দর্শকের ধৈর্যের পরীক্ষা অভিনয় থেকে গানে স্টর্ম রিডের নতুন পরিচয়, এবার সামনে আসছে তাঁর অন্য এক রূপ মুখ নয়, এবার হাত! তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন সৌন্দর্য প্রবণতায় বাড়ছে হাতের যত্ন

চীনের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য হুমকি

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র দামযুদ্ধের মধ্যে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতা এতটাই নির্মম যে এটি করপোরেট মুনাফা, কর্মসংস্থান, মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সামাজিক মনোবল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি চীনা অর্থনীতি নিয়ে তিন পর্বের বিশ্লেষণের দ্বিতীয় অংশ।


সস্তা পণ্যের রাজ্য: চীন

সিঙ্গেলস’ ডে (১১ নভেম্বর) উদযাপনে চীনা পণ্যে অনলাইন বাজারে বিশাল ছাড় দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে বসেও কেউ ৪০ শতাংশ ছাড়ে লেনোভো থিঙ্কপ্যাড কিনতে পারে, সঙ্গে মাত্র কয়েক ডলারে হেডসেট, ব্যাকপ্যাক ও ওয়্যারলেস মাউস।

চীনের অভ্যন্তরে তো ছাড় আরও বিস্ময়কর।
• এক কাপ বাবল চা ১–২ ইউয়ান (১৮–৩৬ সিঙ্গাপুর সেন্ট)
• রেস্তোরাঁর সেট মেন্যু ৩–৫ ইউয়ান (৫৪–৯০ সেন্ট)
• উচ্চমূল্যের পণ্যেও একই অবস্থা—বিওয়াইডি সিগাল প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইভি মিলছে ৫৫,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার), যা আসল দামের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি ছাড়
• স্মার্টফোন ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে ২৫–৪০ শতাংশ ছাড়


নির্মম দামযুদ্ধ: ‘ইনভলিউশন’

চীনে এক ধরনের ‘রেস-টু-দ্য-বটম’ প্রতিযোগিতা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে “ইনভলিউশন”—যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাজারদখলের জন্য দামের ওপর নির্মম চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনের ওপর আরও ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কোভিড-১৯–এর পর সম্পত্তিখাত ভেঙে পড়ায় চীন সরকার ঘরোয়া উৎপাদন—বিশেষ করে ইভি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল—এ আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করে। সরকারি ও স্থানীয় তহবিল ঢালাওভাবে এসব খাতে প্রবাহিত হয়, বাধা কমানো হয়, ফলে বাজারে ঢুকে পড়ে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এসব খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ গত এক দশকে জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপি পতন ঠেকানো গেলেও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে পড়ে।


ইভি, সোলার ও ই-কমার্সে সর্বাত্মক প্রতিযোগিতা

• একসময় প্রায় ৫০০ ইভি নির্মাতা ছিল, এখন নেমে এসেছে প্রায় ১০০–এ।
• তারা বাজার ধরে রাখতে একে অপরের দাম কেটে দিচ্ছে।
• একই অবস্থা ব্যাটারি, সোলার প্যানেল ও স্টিল শিল্পে।
• ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত অফার ও ছাড় দিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

এই ছাড় ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলেও কোম্পানির মুনাফা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বি.সি.এ রিসার্চের হিসাবে, প্রায় ১,৫০,০০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ—ক্ষতি লুকিয়ে চলছে এবং টিকে আছে ভর্তুকির ওপর।

চীনের ৪০ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কি থেমে গেলো?

মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) আরও তীব্র হচ্ছে

সম্পত্তি খাত ধসে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয় দাম কমছিল। তার ওপর এই নির্মম দামযুদ্ধ আরও এক স্তর যোগ করেছে। ফলে—

• পণ্যের দাম কমছে
• করপোরেট আয় কমছে
• ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে
• কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে
• সামাজিক মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জীবন সংকটে, ওল্ডহামের সার্জনকে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার

চীনের ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য হুমকি

০৬:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

চীনের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র দামযুদ্ধের মধ্যে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতা এতটাই নির্মম যে এটি করপোরেট মুনাফা, কর্মসংস্থান, মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সামাজিক মনোবল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি চীনা অর্থনীতি নিয়ে তিন পর্বের বিশ্লেষণের দ্বিতীয় অংশ।


সস্তা পণ্যের রাজ্য: চীন

সিঙ্গেলস’ ডে (১১ নভেম্বর) উদযাপনে চীনা পণ্যে অনলাইন বাজারে বিশাল ছাড় দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে বসেও কেউ ৪০ শতাংশ ছাড়ে লেনোভো থিঙ্কপ্যাড কিনতে পারে, সঙ্গে মাত্র কয়েক ডলারে হেডসেট, ব্যাকপ্যাক ও ওয়্যারলেস মাউস।

চীনের অভ্যন্তরে তো ছাড় আরও বিস্ময়কর।
• এক কাপ বাবল চা ১–২ ইউয়ান (১৮–৩৬ সিঙ্গাপুর সেন্ট)
• রেস্তোরাঁর সেট মেন্যু ৩–৫ ইউয়ান (৫৪–৯০ সেন্ট)
• উচ্চমূল্যের পণ্যেও একই অবস্থা—বিওয়াইডি সিগাল প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইভি মিলছে ৫৫,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার), যা আসল দামের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি ছাড়
• স্মার্টফোন ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে ২৫–৪০ শতাংশ ছাড়


নির্মম দামযুদ্ধ: ‘ইনভলিউশন’

চীনে এক ধরনের ‘রেস-টু-দ্য-বটম’ প্রতিযোগিতা চলছে, যাকে বলা হচ্ছে “ইনভলিউশন”—যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাজারদখলের জন্য দামের ওপর নির্মম চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনের ওপর আরও ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

কোভিড-১৯–এর পর সম্পত্তিখাত ভেঙে পড়ায় চীন সরকার ঘরোয়া উৎপাদন—বিশেষ করে ইভি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল—এ আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করে। সরকারি ও স্থানীয় তহবিল ঢালাওভাবে এসব খাতে প্রবাহিত হয়, বাধা কমানো হয়, ফলে বাজারে ঢুকে পড়ে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এসব খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ গত এক দশকে জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপি পতন ঠেকানো গেলেও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে পড়ে।


ইভি, সোলার ও ই-কমার্সে সর্বাত্মক প্রতিযোগিতা

• একসময় প্রায় ৫০০ ইভি নির্মাতা ছিল, এখন নেমে এসেছে প্রায় ১০০–এ।
• তারা বাজার ধরে রাখতে একে অপরের দাম কেটে দিচ্ছে।
• একই অবস্থা ব্যাটারি, সোলার প্যানেল ও স্টিল শিল্পে।
• ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত অফার ও ছাড় দিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।

এই ছাড় ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলেও কোম্পানির মুনাফা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বি.সি.এ রিসার্চের হিসাবে, প্রায় ১,৫০,০০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ—ক্ষতি লুকিয়ে চলছে এবং টিকে আছে ভর্তুকির ওপর।

চীনের ৪০ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কি থেমে গেলো?

মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) আরও তীব্র হচ্ছে

সম্পত্তি খাত ধসে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয় দাম কমছিল। তার ওপর এই নির্মম দামযুদ্ধ আরও এক স্তর যোগ করেছে। ফলে—

• পণ্যের দাম কমছে
• করপোরেট আয় কমছে
• ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে
• কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে
• সামাজিক মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে