যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৮.২ শতাংশ হয়েছে। বাজারের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে এই প্রবৃদ্ধি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গতি ধরে রাখা কঠিন হবে।
ভারতের প্রবৃদ্ধির নতুন রেকর্ড
পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.২ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৭.৮ শতাংশের চেয়ে বেশি। এটি গত ছয় প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
রয়টার্সের জরিপে ৬১ অর্থনীতিবিদ গড়ে ৭.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেও বাস্তব প্রবৃদ্ধি সেই অনুমান ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হবে বলে ধারণা করেছিল, যা থেকেও অনেক উপরে ফল এসেছে।
মার্কিন শুল্কের প্রভাব
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ভারতের রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ায় এর প্রভাব সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্পষ্ট হতে শুরু করে।

এই সময়ে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২.৬ ট্রিলিয়ন রুপিতে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৭ ট্রিলিয়ন রুপি। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে আগের বছরের তুলনায় ১১.৯ শতাংশ কমে গেছে।
অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোরদার ভূমিকা
বাহ্যিক চাপ বাড়লেও দেশের ভেতরে ভোগব্যয় বেড়েছে ৭.৯ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৭ শতাংশের চেয়ে বেশি। মূলধনী বিনিয়োগও ৭.৩ শতাংশ বেড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ৭ শতাংশ সীমার ওপরে রয়েছে।
চাহিদা বাড়াতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক এক শতাংশের বেশি নীতিসুদের হার কমিয়েছে। সরকারও অক্টোবর মাসে ভোক্তা কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে, ফলে উৎসব মৌসুমের আগে মানুষের হাতে অতিরিক্ত টাকা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
এলঅ্যান্ডটি ফাইন্যান্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ রজনী ঠাকুর বলেন, শক্তিশালী ভোগব্যয় প্রবৃদ্ধিতে বড় সহায়তা দিয়েছে। উৎপাদন খাতে ৯.১ শতাংশ এবং আর্থিক, রিয়েল এস্টেট ও পেশাদার সেবা খাতে ১০.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল ‘অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ।’

তবে ক্যাপিটাল ইকনমিকস সতর্ক করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বহাল থাকলে পরবর্তী প্রান্তিকে বহিঃখাত আরও চাপের মুখে পড়বে। তাদের মতে, শক্তিশালী ভোগব্যয় কিছুটা চাপ কমালেও বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখা “খুব কঠিন” হবে।
মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার
অক্টোবরে ভারতের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি নেমে আসে রেকর্ড ০.২৫ শতাংশে। এতে রিজার্ভ ব্যাংকের জন্য নীতিসুদের হার আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
#অর্থনীতি #ভারত #যুক্তরাষ্ট্রের #শুল্ক #জিডিপি #প্রবৃদ্ধি #বাণিজ্যযুদ্ধ #বাজারবিশ্লেষণ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















