০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভয়ের ভূখণ্ডে জীবন: অন্ধ্রপ্রদেশে মানুষ–বাঘ সংঘাতের গল্প তেলেঙ্গানার কৃষিক্ষেতে শিকড় গেড়েছে ভিনরাজ্যের শ্রমিকের হাত কূটনীতিকের দড়ির ওপর হাঁটা নতুন প্লেটোনিক বন্ধুত্বে বদলে যাচ্ছে একাকী নারীদের জীবন চীনের কড়া অফশোর কর নজরদারি, বিপাকে রপ্তানিকারকেরা হিমালয়ের নির্জন উপত্যকায় তুষার চিতার রক্ষায় এগিয়ে এলেন স্পিতির নারীরা আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের ভুলে গ্রাহকের হাতে বিপুল বিটকয়েন, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর বিপর্যয় সুইজারল্যান্ডের মধ্যযুগীয় বিস্ময়কর গ্রন্থাগার, শতাব্দী পেরিয়ে জ্ঞানের অমূল্য ভাণ্ডার ডোপামিন নিয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি: সুখ নয়, অস্থিরতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার শক্তি

পোকেমন-এর বিবর্তন: খেলার মাঠ থেকে বৈশ্বিক ঘটনা

পোকেমন-এর প্রথম আত্মপ্রকাশ

১৯৯৮ সালের ২৭ আগস্ট, অ্যালিসা বুয়েকার এবং তার মা-বাবা ক্যানসাসের টোপেকায় পোকেমন-এর প্রথম আমেরিকান লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নিনটেন্ডো থেকে তাকে একটি আমন্ত্রণপত্র এসেছিল, যাতে তাকে টোপেকা এয়ার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আসার জন্য বলা হয়েছিল। পোকেমন নিয়ে তার আগ্রহ ছিল, এবং সেই দিনটি তার জন্য স্মরণীয় হয়ে রইল।

এই দিনেই পোকেমন ছিল এক বিরাট সাফল্য। জাপানে এর আগে থেকেই পোকেমন ছিল জনপ্রিয়: গেমবয়-এ পোকেমন রেড, গ্রীন, এবং ব্লু বিক্রি হয়েছিল ১০ মিলিয়নেরও বেশি কপি, এবং পোকেমন ট্রেডিং কার্ড গেমটি এক বিশাল তরঙ্গ সৃষ্টি করেছিল। এর সাথে যোগ হয়েছিল পোকেমন-এর এনিমে, যা ছিল জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি শো-এর একটি।

প্রথম গেমের হিট হওয়া এবং পোকেমন কার্ডস

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ সালে পোকেমন রেড এবং ব্লু গেম দুটি আমেরিকায় মুক্তি পায়। খেলোয়াড়রা এই গেমে পোকেমন সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং লড়াই করার সুযোগ পেত, এবং তারা গেমবয়-এর মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে পোকেমন ট্রেড করতে পারত। মূল ১৫১টি পোকেমন সংগ্রহ করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

তবে শুধু গেমই নয়, পোকেমন কার্ডসও হয়েছিল এক জনপ্রিয় সংগ্রহযোগ্য বস্তু। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে পোকেমন ট্রেডিং কার্ড গেমও আমেরিকায় মুক্তি পায়। স্কুলে বাসে কিংবা টিফিনে, ছেলে-মেয়েরা কার্ডগুলো একে অপরের সাথে ট্রেড করত। পোকেমন কার্ডস সংগ্রহ ও লড়াই ছিল ৯০-এর দশকের অন্যতম প্রধান ফ্যাড।

পোকেমন: নস্টালজিয়া, ব্যবসা এবং কালচার

পোকেমন শুধু একটি শিশুদের গেম বা টিভি শো ছিল না, বরং এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা ছিল সময়ের সাথে সাথে আরও বড়। এটি ছিল শুধু খেলার দুনিয়া নয়, এক শক্তিশালী কমিউনিটির অংশও। পোকেমন এর পণ্য ছিল না শুধুমাত্র “নিনজা গেম” কিংবা “কার্ড সংগ্রহ,” বরং এর সাথে একটি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা জড়িয়ে ছিল।

ওয়েবসাইটের ভিডিও, টুইচ স্ট্রিম এবং ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে এই পোকেমন কালচার আরও জোরালো হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে, পুরানো এবং বিরল পোকেমন কার্ডগুলির মূল্যও বেড়ে যায়। ২০২৫ সালের মধ্যে, এক প্রথম সংস্করণের হোলোগ্রাফিক চারিজার এখন লাখ লাখ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

পোকেমন এবং তার জনপ্রিয়তা আজকের দিনে

পোকেমন-এর জনপ্রিয়তা এখনো চলমান। আজকাল পোকেমন গেমস, যেমন পোকেমন গো এবং পোকেমন টিসিজি পকেট, আমাদের ফোনে উপলব্ধ। পোকেমন-এর মূল স্লোগান “গেটা ক্যাচ ’এম অল” এখনও তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখনো অনেক প্রজন্মের মধ্যে এই মন্ত্র ধারণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষে, পোকেমন-এর প্রতি আগ্রহ কখনোই কমেনি। ১৯৯৮ সালের টোপিকাচু, ক্যানসাসের গৌরবময় দিন হোক কিংবা ২০২৫ সালে একটি পোকেমন প্যাক খুলে দেখতে পাওয়া, সবসময়েই এর মূল স্লোগান “গেটা ক্যাচ ’এম অল”-এর মধ্যে আনন্দ এবং উত্তেজনা থাকে।

 

 

Image

 

Image

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়ের ভূখণ্ডে জীবন: অন্ধ্রপ্রদেশে মানুষ–বাঘ সংঘাতের গল্প

পোকেমন-এর বিবর্তন: খেলার মাঠ থেকে বৈশ্বিক ঘটনা

০১:০০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পোকেমন-এর প্রথম আত্মপ্রকাশ

১৯৯৮ সালের ২৭ আগস্ট, অ্যালিসা বুয়েকার এবং তার মা-বাবা ক্যানসাসের টোপেকায় পোকেমন-এর প্রথম আমেরিকান লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নিনটেন্ডো থেকে তাকে একটি আমন্ত্রণপত্র এসেছিল, যাতে তাকে টোপেকা এয়ার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আসার জন্য বলা হয়েছিল। পোকেমন নিয়ে তার আগ্রহ ছিল, এবং সেই দিনটি তার জন্য স্মরণীয় হয়ে রইল।

এই দিনেই পোকেমন ছিল এক বিরাট সাফল্য। জাপানে এর আগে থেকেই পোকেমন ছিল জনপ্রিয়: গেমবয়-এ পোকেমন রেড, গ্রীন, এবং ব্লু বিক্রি হয়েছিল ১০ মিলিয়নেরও বেশি কপি, এবং পোকেমন ট্রেডিং কার্ড গেমটি এক বিশাল তরঙ্গ সৃষ্টি করেছিল। এর সাথে যোগ হয়েছিল পোকেমন-এর এনিমে, যা ছিল জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি শো-এর একটি।

প্রথম গেমের হিট হওয়া এবং পোকেমন কার্ডস

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ সালে পোকেমন রেড এবং ব্লু গেম দুটি আমেরিকায় মুক্তি পায়। খেলোয়াড়রা এই গেমে পোকেমন সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং লড়াই করার সুযোগ পেত, এবং তারা গেমবয়-এর মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে পোকেমন ট্রেড করতে পারত। মূল ১৫১টি পোকেমন সংগ্রহ করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

তবে শুধু গেমই নয়, পোকেমন কার্ডসও হয়েছিল এক জনপ্রিয় সংগ্রহযোগ্য বস্তু। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে পোকেমন ট্রেডিং কার্ড গেমও আমেরিকায় মুক্তি পায়। স্কুলে বাসে কিংবা টিফিনে, ছেলে-মেয়েরা কার্ডগুলো একে অপরের সাথে ট্রেড করত। পোকেমন কার্ডস সংগ্রহ ও লড়াই ছিল ৯০-এর দশকের অন্যতম প্রধান ফ্যাড।

পোকেমন: নস্টালজিয়া, ব্যবসা এবং কালচার

পোকেমন শুধু একটি শিশুদের গেম বা টিভি শো ছিল না, বরং এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা ছিল সময়ের সাথে সাথে আরও বড়। এটি ছিল শুধু খেলার দুনিয়া নয়, এক শক্তিশালী কমিউনিটির অংশও। পোকেমন এর পণ্য ছিল না শুধুমাত্র “নিনজা গেম” কিংবা “কার্ড সংগ্রহ,” বরং এর সাথে একটি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা জড়িয়ে ছিল।

ওয়েবসাইটের ভিডিও, টুইচ স্ট্রিম এবং ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে এই পোকেমন কালচার আরও জোরালো হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে, পুরানো এবং বিরল পোকেমন কার্ডগুলির মূল্যও বেড়ে যায়। ২০২৫ সালের মধ্যে, এক প্রথম সংস্করণের হোলোগ্রাফিক চারিজার এখন লাখ লাখ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

পোকেমন এবং তার জনপ্রিয়তা আজকের দিনে

পোকেমন-এর জনপ্রিয়তা এখনো চলমান। আজকাল পোকেমন গেমস, যেমন পোকেমন গো এবং পোকেমন টিসিজি পকেট, আমাদের ফোনে উপলব্ধ। পোকেমন-এর মূল স্লোগান “গেটা ক্যাচ ’এম অল” এখনও তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখনো অনেক প্রজন্মের মধ্যে এই মন্ত্র ধারণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষে, পোকেমন-এর প্রতি আগ্রহ কখনোই কমেনি। ১৯৯৮ সালের টোপিকাচু, ক্যানসাসের গৌরবময় দিন হোক কিংবা ২০২৫ সালে একটি পোকেমন প্যাক খুলে দেখতে পাওয়া, সবসময়েই এর মূল স্লোগান “গেটা ক্যাচ ’এম অল”-এর মধ্যে আনন্দ এবং উত্তেজনা থাকে।

 

 

Image

 

Image