০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাঁক, অর্থনীতি খুললেও রাজনীতিতে অনাস্থা ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ভোটই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি, ভুলের সুযোগ নেই: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের আহ্বান অর্থনীতি সংস্কার না হলে রাষ্ট্রই প্রশ্নের মুখে পড়বে ইরান ঘিরে যুদ্ধ প্রস্তুতি তুঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির নজিরবিহীন সমাবেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনার সুর ‘ফিল দ্য থ্রিল’ উন্মোচন আইসিসির মিনেসোটাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদ ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে বিপুল অস্ত্র বিক্রিতে সবুজ সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের বেলুচিস্তানে একযোগে হামলা ব্যর্থ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত আটান্ন সন্ত্রাসী, শহীদ দশ

নারীর মস্তিষ্ক নিয়ে নতুন গবেষণা: এমআরআই স্ক্যান ৭৫ বার করে ভাঙলেন বহুদিনের মিথ

গবেষণায় কেন দরকার হলো নিজেকেই স্ক্যান করা

ইতিহাসজুড়ে স্নায়ুবিজ্ঞান পুরুষের মস্তিষ্ককেই ‘মানদণ্ড’ ধরে গবেষণা করেছে। ফলে নারীর শরীর ও হরমোনগত পার্থক্যগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারিনা হেলার এই বৈষম্যে ক্লান্ত হয়ে নিজেই নিজের মস্তিষ্ক ৭৫ বার এমআরআই স্ক্যান করলেন—টানা তিন দফায় ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। তার লক্ষ্য ছিল নারীর মস্তিষ্কে যৌন হরমোন কীভাবে কাজ করে, আর কেন এতদিন এ বিষয়ে গবেষণা হয়নি।

পুরোনো ধারণা ভুল প্রমাণ

হেলার জানালেন, বহুদিন বিজ্ঞান পুরুষের শরীরকেই আদর্শ ধরে নারীদের “ছোট সংস্করণ” ভাবত। এর ফলেই নারীর হরমোন–চক্র, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, এমনকি গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের পরিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা প্রায় ছিল না। বিশ্বে ৩০ কোটিরও বেশি নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার করেন, অথচ এগুলোর মস্তিষ্কে প্রভাব নিয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণা নেই। এই অজানা ক্ষেত্র নারীর বিষণ্নতা, ব্যথা, মুড সুইং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা ভুলভাবে নির্ণয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বন্ধের পর হরমোনগত ঝাঁকুনি

২৭ বছর বয়সে হেলার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতা। পাঁচ মাস মাসিক বন্ধ থাকা, ব্রণ, মুড সুইং—সবই হরমোনের হঠাৎ ওঠানামার ফল। তখনই তিনি বুঝলেন, নারীর হরমোনের প্রভাব নিয়ে তথ্যের ঘাটতি ভয়াবহ।

বিশ্বজুড়ে ব্রেন-স্টাডির ০.৫ শতাংশেও নারীর চক্র, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার, কিংবা গর্ভাবস্থার উল্লেখ থাকে না। অথচ নারীরা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি বিষণ্নতায় ভোগেন।

হরমোন বদলে মস্তিষ্কের আকারও বদলায়

হেলার নিজের রক্তে হরমোন মাপেন ও নিয়মিত মানসিক পরীক্ষা দেন। প্রথম পাঁচ সপ্তাহে (২৫টি স্ক্যান) তিনি কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাননি। দেখা গেল—ইস্ট্রোজেন বাড়লে তার হিপোক্যাম্পাসের আকারও বড় হচ্ছে, আর মস্তিষ্কের এই অংশই মুড ভালো থাকার সঙ্গে যুক্ত।

এর আগে প্রচলিত ধারণা ছিল মাসিকের আগে নারীরা নিতান্তই “মুডি” হয়ে ওঠেন। কিন্তু হেলারের গবেষণা দেখাল—হিপোক্যাম্পাস যখন ইস্ট্রোজেনে প্রসারিত হয়, তখন মনোভাব বরং উন্নত হয়। অর্থাৎ নারীর মুড চক্রের প্রতিটি পর্যায়ে আলাদা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে, যা পুরোনো মিথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

নারীর স্বাস্থ্য গবেষণায় বড় ঘাটতির প্রমাণ

এই গবেষণা আবারও দেখাল, নারীর মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার ঘাটতি শুধু বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা নয়—এটি ভুল চিকিৎসা, ভুল ধারণা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়াতে পারে। নারীর স্বাস্থ্য বুঝতে হলে হরমোন, চক্র ও মস্তিষ্কের পরিবর্তনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

#নারীরমস্তিষ্ক #মস্তিষ্কগবেষণা #হরমোনপরিবর্তন #কারিনাহেলার #এমআরআইস্ক্যান #নারীরস্বাস্থ্য #বিজ্ঞানসংবাদ #হরমোনচক্র #মুডসুইং #বৈজ্ঞানিকআবিষ্কার

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন

নারীর মস্তিষ্ক নিয়ে নতুন গবেষণা: এমআরআই স্ক্যান ৭৫ বার করে ভাঙলেন বহুদিনের মিথ

০৪:০২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

গবেষণায় কেন দরকার হলো নিজেকেই স্ক্যান করা

ইতিহাসজুড়ে স্নায়ুবিজ্ঞান পুরুষের মস্তিষ্ককেই ‘মানদণ্ড’ ধরে গবেষণা করেছে। ফলে নারীর শরীর ও হরমোনগত পার্থক্যগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারিনা হেলার এই বৈষম্যে ক্লান্ত হয়ে নিজেই নিজের মস্তিষ্ক ৭৫ বার এমআরআই স্ক্যান করলেন—টানা তিন দফায় ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। তার লক্ষ্য ছিল নারীর মস্তিষ্কে যৌন হরমোন কীভাবে কাজ করে, আর কেন এতদিন এ বিষয়ে গবেষণা হয়নি।

পুরোনো ধারণা ভুল প্রমাণ

হেলার জানালেন, বহুদিন বিজ্ঞান পুরুষের শরীরকেই আদর্শ ধরে নারীদের “ছোট সংস্করণ” ভাবত। এর ফলেই নারীর হরমোন–চক্র, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, এমনকি গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের পরিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা প্রায় ছিল না। বিশ্বে ৩০ কোটিরও বেশি নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার করেন, অথচ এগুলোর মস্তিষ্কে প্রভাব নিয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণা নেই। এই অজানা ক্ষেত্র নারীর বিষণ্নতা, ব্যথা, মুড সুইং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা ভুলভাবে নির্ণয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বন্ধের পর হরমোনগত ঝাঁকুনি

২৭ বছর বয়সে হেলার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতা। পাঁচ মাস মাসিক বন্ধ থাকা, ব্রণ, মুড সুইং—সবই হরমোনের হঠাৎ ওঠানামার ফল। তখনই তিনি বুঝলেন, নারীর হরমোনের প্রভাব নিয়ে তথ্যের ঘাটতি ভয়াবহ।

বিশ্বজুড়ে ব্রেন-স্টাডির ০.৫ শতাংশেও নারীর চক্র, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার, কিংবা গর্ভাবস্থার উল্লেখ থাকে না। অথচ নারীরা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি বিষণ্নতায় ভোগেন।

হরমোন বদলে মস্তিষ্কের আকারও বদলায়

হেলার নিজের রক্তে হরমোন মাপেন ও নিয়মিত মানসিক পরীক্ষা দেন। প্রথম পাঁচ সপ্তাহে (২৫টি স্ক্যান) তিনি কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাননি। দেখা গেল—ইস্ট্রোজেন বাড়লে তার হিপোক্যাম্পাসের আকারও বড় হচ্ছে, আর মস্তিষ্কের এই অংশই মুড ভালো থাকার সঙ্গে যুক্ত।

এর আগে প্রচলিত ধারণা ছিল মাসিকের আগে নারীরা নিতান্তই “মুডি” হয়ে ওঠেন। কিন্তু হেলারের গবেষণা দেখাল—হিপোক্যাম্পাস যখন ইস্ট্রোজেনে প্রসারিত হয়, তখন মনোভাব বরং উন্নত হয়। অর্থাৎ নারীর মুড চক্রের প্রতিটি পর্যায়ে আলাদা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে, যা পুরোনো মিথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

নারীর স্বাস্থ্য গবেষণায় বড় ঘাটতির প্রমাণ

এই গবেষণা আবারও দেখাল, নারীর মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার ঘাটতি শুধু বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা নয়—এটি ভুল চিকিৎসা, ভুল ধারণা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়াতে পারে। নারীর স্বাস্থ্য বুঝতে হলে হরমোন, চক্র ও মস্তিষ্কের পরিবর্তনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

#নারীরমস্তিষ্ক #মস্তিষ্কগবেষণা #হরমোনপরিবর্তন #কারিনাহেলার #এমআরআইস্ক্যান #নারীরস্বাস্থ্য #বিজ্ঞানসংবাদ #হরমোনচক্র #মুডসুইং #বৈজ্ঞানিকআবিষ্কার