০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাঁক, অর্থনীতি খুললেও রাজনীতিতে অনাস্থা ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ভোটই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি, ভুলের সুযোগ নেই: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের আহ্বান অর্থনীতি সংস্কার না হলে রাষ্ট্রই প্রশ্নের মুখে পড়বে ইরান ঘিরে যুদ্ধ প্রস্তুতি তুঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির নজিরবিহীন সমাবেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনার সুর ‘ফিল দ্য থ্রিল’ উন্মোচন আইসিসির মিনেসোটাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদ ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে বিপুল অস্ত্র বিক্রিতে সবুজ সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের বেলুচিস্তানে একযোগে হামলা ব্যর্থ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত আটান্ন সন্ত্রাসী, শহীদ দশ

আমাদের সবার শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করি, এবং গবেষণা দেখাতে শুরু করেছে যে এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর। তবে সব আশা শেষ হয়নি—একটি সাধারণ পুষ্টি উপাদান মাইক্রোপ্লাস্টিককে আমাদের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে ক্ষতি কমাতে পারে।

“খাদ্যব্যবস্থার সর্বত্রই প্লাস্টিক”

এটি মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু গবেষণা বলছে—প্রতি বছর আমরা খাবারের মাধ্যমে প্রায় ৩৯,০০০ থেকে ৫২,০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করি। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির যুগে কীভাবে আমরা প্লাস্টিক গিলছি, যখন বিভিন্ন গবেষণা দেখাচ্ছে এগুলো আমাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে?

২০২৪ সালের একটি গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যাভ্যাসে ব্যবহৃত ১৬ ধরনের প্রোটিন উৎসে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়—এসব খাবার থেকেই এক বেলার খাবারে ৭৪–২২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। এর মধ্যে পানির বোতল, খাদ্যপাত্র বা রান্নার সরঞ্জাম থেকে ঝরে পড়া কণা ধরা হয়নি। এছাড়া পানীয় জল, লবণ, চাল, মধু, গুঁড়া সাপ্লিমেন্ট, টি-ব্যাগ, প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড—সবকিছু থেকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করে। এমনকি ফল ও সবজিতেও দূষিত মাটি ও পানি থেকে শিকড়ের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমে।

প্লাস্টিক আমাদের খাদ্যব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে আছে, এবং গবেষণা এখনো আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ হৃদরোগ, কিছু ক্যানসার এবং বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো আমাদের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রদাহ সৃষ্টি করে, মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন আনে এবং পি-এফ-এ-এস (PFAS)ফ্যাথালেটবিসফেনল-এ–এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করায়।

তবে কিছুটা আশার আলো রয়েছে। গবেষকেরা ভাবছেন—খাদ্যতন্তু (ফাইবার) হয়তো আমাদের পরিপাকতন্ত্রে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক কমাতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয় যে ফাইবারের শোষণক্ষমতা মাইক্রোপ্লাস্টিককে আঁকড়ে ধরে মলের মাধ্যমে বের হতে সহায়তা করতে পারে।


কীভাবে ফাইবার মাইক্রোপ্লাস্টিক আটকাতে পারে

ধারণা হলো—দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার একধরনের জেল তৈরি করে, যা মাইক্রোপ্লাস্টিককে অন্ত্রভিত্তি পেরিয়ে রক্তপ্রবাহে ঢুকতে বাধা দেয়। ফলে প্লাস্টিকগুলো বর্জ্যের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।

মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখনো সরাসরি প্রমাণিত হয়নি। তবে এ বছরের শুরুর দিকে জাপানের টোকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখেছেন, কিছু অপাচ্য ফাইবার মাইক্রোপ্লাস্টিক বের করে দিতে সাহায্য করে। বিশেষত চিটোসান (Chitosan) নামের একটি ফাইবার গ্রহণ করা ইঁদুর অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক নিঃসরণ করে।

গবেষক প্রফেসর মুনেশিগে শিমিজু বলেন, “আমরা নিশ্চিত করেছি যে চিটোসান মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে যুক্ত হয়। যে খাদ্যে চিটোসানের গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেখানে এটি ব্যবহার করা সম্ভব।”

তবে সব ধরনের ফাইবার এই কাজ করে না, তাই কোন গঠন সবচেয়ে কার্যকর তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


ফাইবার পি-এফ-এ-এস দূর করতেও সাহায্য করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখিয়েছেন—ইঁদুরের দেহে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট পি-এফ-এ-এস (PFAS) দূর করতে সাহায্য করে। জেল-ধরনের ফাইবার অন্ত্রে পি-এফ-এ-এস–কে আটকে “চুম্বকের মতো” শরীর থেকে বের করে দেয়।

তবে কোন ধরনের খাদ্যতন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক বা পি-এফ-এ-এস বের করতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে—এ নিয়ে গবেষণা চলমান। যদিও এ কথা নিশ্চিত যে বেশি ফাইবার খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো পর্যন্ত বহু কারণে উপকারী।


মাইক্রোপ্লাস্টিক কমানোর আরও কিছু উপায়

ড. লিসা জিমারম্যান (Lisa Zimmermann), ফুড প্যাকেজিং ফোরামের গবেষক, নিজের প্লাস্টিক–সংস্পর্শ কমাতে স্থানীয় কৃষকের বাজার থেকে ফল-সবজি কেনেন, প্লাস্টিক-লেপা কাপ এড়িয়ে চলেন এবং প্লাস্টিক পাত্র মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করেন না।

তিনি বলেন, “তাপের কারণে প্লাস্টিকের কণার গতি ও নিঃসরণ বাড়ে। তাই আমি কাঁচ বা সিরামিক ব্যবহার করি। আপনি পুরোপুরি প্লাস্টিক এড়াতে পারবেন না, তবে কমানোর চেষ্টা করা যায়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন

আমাদের সবার শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করি, এবং গবেষণা দেখাতে শুরু করেছে যে এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর। তবে সব আশা শেষ হয়নি—একটি সাধারণ পুষ্টি উপাদান মাইক্রোপ্লাস্টিককে আমাদের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে ক্ষতি কমাতে পারে।

“খাদ্যব্যবস্থার সর্বত্রই প্লাস্টিক”

এটি মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু গবেষণা বলছে—প্রতি বছর আমরা খাবারের মাধ্যমে প্রায় ৩৯,০০০ থেকে ৫২,০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করি। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির যুগে কীভাবে আমরা প্লাস্টিক গিলছি, যখন বিভিন্ন গবেষণা দেখাচ্ছে এগুলো আমাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে?

২০২৪ সালের একটি গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যাভ্যাসে ব্যবহৃত ১৬ ধরনের প্রোটিন উৎসে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়—এসব খাবার থেকেই এক বেলার খাবারে ৭৪–২২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। এর মধ্যে পানির বোতল, খাদ্যপাত্র বা রান্নার সরঞ্জাম থেকে ঝরে পড়া কণা ধরা হয়নি। এছাড়া পানীয় জল, লবণ, চাল, মধু, গুঁড়া সাপ্লিমেন্ট, টি-ব্যাগ, প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড—সবকিছু থেকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করে। এমনকি ফল ও সবজিতেও দূষিত মাটি ও পানি থেকে শিকড়ের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমে।

প্লাস্টিক আমাদের খাদ্যব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে আছে, এবং গবেষণা এখনো আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ হৃদরোগ, কিছু ক্যানসার এবং বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো আমাদের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রদাহ সৃষ্টি করে, মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন আনে এবং পি-এফ-এ-এস (PFAS)ফ্যাথালেটবিসফেনল-এ–এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করায়।

তবে কিছুটা আশার আলো রয়েছে। গবেষকেরা ভাবছেন—খাদ্যতন্তু (ফাইবার) হয়তো আমাদের পরিপাকতন্ত্রে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক কমাতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয় যে ফাইবারের শোষণক্ষমতা মাইক্রোপ্লাস্টিককে আঁকড়ে ধরে মলের মাধ্যমে বের হতে সহায়তা করতে পারে।


কীভাবে ফাইবার মাইক্রোপ্লাস্টিক আটকাতে পারে

ধারণা হলো—দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার একধরনের জেল তৈরি করে, যা মাইক্রোপ্লাস্টিককে অন্ত্রভিত্তি পেরিয়ে রক্তপ্রবাহে ঢুকতে বাধা দেয়। ফলে প্লাস্টিকগুলো বর্জ্যের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।

মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখনো সরাসরি প্রমাণিত হয়নি। তবে এ বছরের শুরুর দিকে জাপানের টোকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখেছেন, কিছু অপাচ্য ফাইবার মাইক্রোপ্লাস্টিক বের করে দিতে সাহায্য করে। বিশেষত চিটোসান (Chitosan) নামের একটি ফাইবার গ্রহণ করা ইঁদুর অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক নিঃসরণ করে।

গবেষক প্রফেসর মুনেশিগে শিমিজু বলেন, “আমরা নিশ্চিত করেছি যে চিটোসান মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে যুক্ত হয়। যে খাদ্যে চিটোসানের গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেখানে এটি ব্যবহার করা সম্ভব।”

তবে সব ধরনের ফাইবার এই কাজ করে না, তাই কোন গঠন সবচেয়ে কার্যকর তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


ফাইবার পি-এফ-এ-এস দূর করতেও সাহায্য করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখিয়েছেন—ইঁদুরের দেহে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট পি-এফ-এ-এস (PFAS) দূর করতে সাহায্য করে। জেল-ধরনের ফাইবার অন্ত্রে পি-এফ-এ-এস–কে আটকে “চুম্বকের মতো” শরীর থেকে বের করে দেয়।

তবে কোন ধরনের খাদ্যতন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক বা পি-এফ-এ-এস বের করতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে—এ নিয়ে গবেষণা চলমান। যদিও এ কথা নিশ্চিত যে বেশি ফাইবার খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো পর্যন্ত বহু কারণে উপকারী।


মাইক্রোপ্লাস্টিক কমানোর আরও কিছু উপায়

ড. লিসা জিমারম্যান (Lisa Zimmermann), ফুড প্যাকেজিং ফোরামের গবেষক, নিজের প্লাস্টিক–সংস্পর্শ কমাতে স্থানীয় কৃষকের বাজার থেকে ফল-সবজি কেনেন, প্লাস্টিক-লেপা কাপ এড়িয়ে চলেন এবং প্লাস্টিক পাত্র মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করেন না।

তিনি বলেন, “তাপের কারণে প্লাস্টিকের কণার গতি ও নিঃসরণ বাড়ে। তাই আমি কাঁচ বা সিরামিক ব্যবহার করি। আপনি পুরোপুরি প্লাস্টিক এড়াতে পারবেন না, তবে কমানোর চেষ্টা করা যায়।”