০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাঁক, অর্থনীতি খুললেও রাজনীতিতে অনাস্থা ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ভোটই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি, ভুলের সুযোগ নেই: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের আহ্বান অর্থনীতি সংস্কার না হলে রাষ্ট্রই প্রশ্নের মুখে পড়বে ইরান ঘিরে যুদ্ধ প্রস্তুতি তুঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির নজিরবিহীন সমাবেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনার সুর ‘ফিল দ্য থ্রিল’ উন্মোচন আইসিসির মিনেসোটাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদ ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে বিপুল অস্ত্র বিক্রিতে সবুজ সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের বেলুচিস্তানে একযোগে হামলা ব্যর্থ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত আটান্ন সন্ত্রাসী, শহীদ দশ

ক্যানসারের পথ ধরেই আলঝেইমারের নতুন চিকিৎসা দিগন্ত

আলঝেইমার চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে একটিমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই জটিল মস্তিষ্কজনিত রোগকে ক্যানসারের মতো বহুস্তরীয় রোগ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। ক্যানসার চিকিৎসায় যেমন একাধিক জৈবিক পথ ও লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করা হয়, তেমনই আলঝেইমারেও এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঝুঁকছে বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী আলঝেইমার। মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড ও টাউ নামের প্রোটিন জমে স্নায়ুকোষ নষ্ট হওয়াই এই রোগের মূল বৈশিষ্ট্য।

সীমিত সাফল্যের পর নতুন ভাবনা

এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ওষুধ রোগের গতি ধীর করতে অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো মস্তিষ্ক থেকে ক্ষতিকর অ্যামাইলয়েড পরিষ্কার করে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত অগ্রগতি কমাতে পারে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু একটি পথ বন্ধ করলে হবে না। বয়সজনিত প্রায় সব রোগেই একাধিক চিকিৎসার সমন্বয় দরকার।

ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসার দিকে ঝোঁক

রক্ত ও জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের বায়োমার্কার শনাক্তের প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব রোগী এক ধরনের নন। কারও ক্ষেত্রে টাউয়ের মাত্রা বেশি, কারও ক্ষেত্রে আবার একাধিক ধরনের ডিমেনশিয়া একসঙ্গে থাকে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, রোগের শুরুর দিকে চিকিৎসা শুরু হলে ফল ভালো হয় এবং নারী-পুরুষ বা ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওষুধের প্রতিক্রিয়াও আলাদা হতে পারে।

ব্যর্থ পরীক্ষাও শিক্ষা দিচ্ছে

নভো নরডিস্কের একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ আলঝেইমারে প্রত্যাশিত ফল না দিলেও গবেষকেরা এটিকে ব্যর্থতা নয়, বরং দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন। রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উপগোষ্ঠী বিশ্লেষণ করলে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন সূত্র মিলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন ওষুধ

বর্তমানে এমন ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা একসঙ্গে অ্যামাইলয়েড, টাউসহ একাধিক ক্ষতিকর প্রোটিনে কাজ করবে। কিছু প্রতিষ্ঠান এমন প্রযুক্তি এনেছে, যা ওষুধকে নিরাপদভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছে দিতে পারে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। অন্যদিকে, উন্নত স্ক্রিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সঠিক রোগী নির্বাচন করলে পরীক্ষামূলক ওষুধে উল্লেখযোগ্য স্মৃতিশক্তির উন্নতিও দেখা যাচ্ছে।

আশার বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলঝেইমার গবেষণা এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে ক্যানসার চিকিৎসা দুই দশক আগে ছিল। জটিল এই রোগকে বুঝতে বহু পথ ও লক্ষ্যে একসঙ্গে আঘাত করার কৌশলই ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধান এনে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন

ক্যানসারের পথ ধরেই আলঝেইমারের নতুন চিকিৎসা দিগন্ত

১১:০০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আলঝেইমার চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে একটিমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই জটিল মস্তিষ্কজনিত রোগকে ক্যানসারের মতো বহুস্তরীয় রোগ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। ক্যানসার চিকিৎসায় যেমন একাধিক জৈবিক পথ ও লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করা হয়, তেমনই আলঝেইমারেও এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঝুঁকছে বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী আলঝেইমার। মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড ও টাউ নামের প্রোটিন জমে স্নায়ুকোষ নষ্ট হওয়াই এই রোগের মূল বৈশিষ্ট্য।

সীমিত সাফল্যের পর নতুন ভাবনা

এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ওষুধ রোগের গতি ধীর করতে অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো মস্তিষ্ক থেকে ক্ষতিকর অ্যামাইলয়েড পরিষ্কার করে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত অগ্রগতি কমাতে পারে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু একটি পথ বন্ধ করলে হবে না। বয়সজনিত প্রায় সব রোগেই একাধিক চিকিৎসার সমন্বয় দরকার।

ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসার দিকে ঝোঁক

রক্ত ও জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের বায়োমার্কার শনাক্তের প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব রোগী এক ধরনের নন। কারও ক্ষেত্রে টাউয়ের মাত্রা বেশি, কারও ক্ষেত্রে আবার একাধিক ধরনের ডিমেনশিয়া একসঙ্গে থাকে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, রোগের শুরুর দিকে চিকিৎসা শুরু হলে ফল ভালো হয় এবং নারী-পুরুষ বা ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওষুধের প্রতিক্রিয়াও আলাদা হতে পারে।

ব্যর্থ পরীক্ষাও শিক্ষা দিচ্ছে

নভো নরডিস্কের একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধ আলঝেইমারে প্রত্যাশিত ফল না দিলেও গবেষকেরা এটিকে ব্যর্থতা নয়, বরং দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন। রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উপগোষ্ঠী বিশ্লেষণ করলে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন সূত্র মিলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন ওষুধ

বর্তমানে এমন ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা একসঙ্গে অ্যামাইলয়েড, টাউসহ একাধিক ক্ষতিকর প্রোটিনে কাজ করবে। কিছু প্রতিষ্ঠান এমন প্রযুক্তি এনেছে, যা ওষুধকে নিরাপদভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছে দিতে পারে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। অন্যদিকে, উন্নত স্ক্রিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সঠিক রোগী নির্বাচন করলে পরীক্ষামূলক ওষুধে উল্লেখযোগ্য স্মৃতিশক্তির উন্নতিও দেখা যাচ্ছে।

আশার বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলঝেইমার গবেষণা এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে ক্যানসার চিকিৎসা দুই দশক আগে ছিল। জটিল এই রোগকে বুঝতে বহু পথ ও লক্ষ্যে একসঙ্গে আঘাত করার কৌশলই ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধান এনে দিতে পারে।