০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাখাইনে নতুন গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক

রাখাইন রাজ্যে আবারও নতুন করে গোলাগুলি ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফে। শনিবার ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নাফ নদীর ওপার থেকে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার কয়েকটি বসতবাড়িতে গুলি এসে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভোর পাঁচটার পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সীমান্তবাসীর আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
হোয়াইক্যং ও আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে তারা ঘুম ভেঙে দেখেন ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে। কিছু বাড়ির টিনের চালে ও দেয়ালে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার নারী ও শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

সীমান্তের ওপারে ভোর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ, টেকনাফে আতঙ্ক | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, দীর্ঘদিন পর আবার এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সীমান্তবাসী চরম উদ্বেগে রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংঘর্ষ দীর্ঘ হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

কারা জড়িত থাকতে পারে সংঘর্ষে
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আরাকান আর্মিসহ একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনের উপস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছে। নাফ নদীর তীরবর্তী ও দ্বীপাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদার, তদন্ত চলছে
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ওপার থেকে ছোড়া গোলাগুলির প্রকৃত উৎস ও কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুরোনো স্মৃতি ফেরাল নতুন সংঘর্ষ
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় এক বছর ধরে সীমান্তে এমন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। নতুন করে এই সংঘর্ষ সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সীমান্ত এলাকায় বসবাস করা সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাখাইনে নতুন গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক

০৫:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

রাখাইন রাজ্যে আবারও নতুন করে গোলাগুলি ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফে। শনিবার ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নাফ নদীর ওপার থেকে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার কয়েকটি বসতবাড়িতে গুলি এসে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভোর পাঁচটার পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সীমান্তবাসীর আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
হোয়াইক্যং ও আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে তারা ঘুম ভেঙে দেখেন ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে। কিছু বাড়ির টিনের চালে ও দেয়ালে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার নারী ও শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

সীমান্তের ওপারে ভোর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ, টেকনাফে আতঙ্ক | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, দীর্ঘদিন পর আবার এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সীমান্তবাসী চরম উদ্বেগে রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংঘর্ষ দীর্ঘ হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

কারা জড়িত থাকতে পারে সংঘর্ষে
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আরাকান আর্মিসহ একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনের উপস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছে। নাফ নদীর তীরবর্তী ও দ্বীপাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদার, তদন্ত চলছে
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ওপার থেকে ছোড়া গোলাগুলির প্রকৃত উৎস ও কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুরোনো স্মৃতি ফেরাল নতুন সংঘর্ষ
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় এক বছর ধরে সীমান্তে এমন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। নতুন করে এই সংঘর্ষ সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সীমান্ত এলাকায় বসবাস করা সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।