আফ্রিকার মাটিতে পা রাখার পর সাফারিতে না যাওয়া প্রায় অসম্ভব। কাজের সফরের শেষ দিনে হঠাৎ করেই সুযোগ মিলেছিল কেনিয়ার নাইরোবি ন্যাশনাল পার্কে যাওয়ার। শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এমন এক জগৎ, যেখানে বুনো প্রকৃতি আর আধুনিক নগরী পাশাপাশি বাস করে।
শহরের কাছেই বন্য প্রাণীর রাজ্য
নাইরোবি শহরের কোলাহল পেরিয়ে পার্কের ফটকে পৌঁছাতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খোলা ছাদের ল্যান্ড ক্রুজারে উঠে শুরু হয় সাফারি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে জেব্রার দল, দূরে একা গাজেল শান্তভাবে ঘাস খাচ্ছে। শহরের এত কাছে এমন দৃশ্য যে কাউকে বিস্মিত করবে।
মাসাইদের প্রথম দেখা
পার্কের প্রবেশ মুখে লাল পোশাক আর রঙিন গহনায় সজ্জিত মাসাই জনগোষ্ঠীর মানুষেরদেখা মেলে। তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ আর সংগীত যেন স্বাগত জানায় আগন্তুকদের। এতদিন শুধু প্রামাণ্যচিত্রে দেখা মানুষদের সামনে থেকে দেখা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

জিরাফের চোখে চোখ
সাফারির শুরুতেই হঠাৎ সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে দুই জিরাফ। লম্বা গলা তুলে তারা যেন প্রশ্ন করছে, কে এই অতিথিরা। কিছুক্ষণ পর তারা আবার ঘাসে মন দেয়। আশপাশে আরও জিরাফ, জেব্রা আর নানা হরিণ ছড়িয়ে থাকে খোলা প্রান্তরে।
আকাশছোঁয়া ভবনের পাশে সাভানা
সবচেয়ে চমকপ্রদ মুহূর্ত আসে তখনই, যখন বিস্তৃত সাভানার পেছনে দেখা যায় নাইরোবির আকাশছোঁয়া ভবন। গাইড জানান, বন্যপ্রাণীরা শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোর একেবারে কাছেই ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃতি আর নগর জীবনের এই সহাবস্থান সত্যিই বিরল।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-581001645-5bcd85f8c9e77c005172f741.jpg)
ইতিহাস আর সংরক্ষণের বার্তা
উনিশশো ছেচল্লিশ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কের আয়তন প্রায় পনেরো হাজার ফুটবল মাঠের সমান। শতাধিক স্তন্যপায়ী প্রাণী আর প্রায় চারশ প্রজাতির পাখির আবাস এটি। হাতির দাঁত আর গণ্ডারের শিং পোড়ানোর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে শিকারবিরোধী বার্তা হিসেবে।
স্বল্প সময়ের গভীর স্মৃতি
প্রায় তিন ঘণ্টার সাফারি শেষে বাবুনদের দল চোখে পড়ে। সময়টা অল্প হলেও অভিজ্ঞতা ছিল গভীর। শহরের ছায়ায় দাঁড়িয়ে বুনো প্রাণীদের এমন কাছ থেকে দেখা যেন জীবন্ত প্রামাণ্যচিত্রে ঢুকে পড়ার মতো অনুভূতি। এই স্মৃতি আজীবন থেকে যাওয়ার মতো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















