০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

দুবাইয়ে আবার চড়ছে সোনার দাম, কেন বাড়ছে এই উত্থান

দুবাইয়ের সোনার বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। গয়নার ক্রেতাদের বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাজারে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুচরা দর বেড়েছে। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি গ্রাম প্রায় ৫২২ দশমিক ২৫ দিরহাম এবং ২২ ক্যারেট প্রায় ৪৮৩ দশমিক ৫০ দিরহামে লেনদেন হচ্ছে, যা প্রায় সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

ডিসেম্বরে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি
ডিসেম্বর জুড়ে দুবাইয়ের সোনার বাজারে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মাসের শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকলেও অল্প সময়ের জন্য ২৪ ক্যারেট সোনা ৫০৪ দিরহামের নিচে এবং ২২ ক্যারেট প্রায় ৪৬৬ দশমিক ৫০ দিরহামে নেমে আসে। তবে এই পতন স্থায়ী হয়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দাম আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে জল্পনার চেয়ে স্থায়ী চাহিদাই বেশি কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সহায়ক সংকেত
বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপা প্রায় রেকর্ড দামের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতির তথ্য সামনে আসায় সুদের হার আরও কমতে পারে এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। এতে সোনার মতো সুদহীন সম্পদের আকর্ষণ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের লাভের পথে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক দীর্ঘ সরকারি অচলাবস্থা কিছু অর্থনৈতিক সূচককে প্রভাবিত করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলছে। সুদের হার কমানোর ধারা চললেও ভবিষ্যৎ নীতির গতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপদ বিনিয়োগ
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার চাহিদা বাড়াচ্ছে। ভেনেজুয়েলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ এবং ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ার খবরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছে, যা বাজারে বাড়তি সমর্থন দিচ্ছে।

মূল্যবান ধাতুর জন্য স্মরণীয় বছর
চলতি বছরটি মূল্যবান ধাতুর জন্য ব্যতিক্রমী হিসেবে ধরা হচ্ছে। সোনা ও রুপা উভয়ই বহু দশকের মধ্যে সেরা বার্ষিক পারফরম্যান্সের পথে। বছরের শুরু থেকে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর রুপার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক ক্রয় এবং বিনিয়োগ তহবিলে ধারাবাহিক প্রবাহ এই উত্থানের প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে প্লাটিনামও দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

দুবাইয়ের ক্রেতাদের জন্য অর্থ কী
দুবাইয়ের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি দ্বিমুখী। যারা বছরের শুরুতে সোনা কিনেছেন তারা ভালো মুনাফায় রয়েছেন। তবে যারা এখন কিনতে চান, তাদের প্রায় সর্বোচ্চ দামে গয়না বা সোনা কিনতে হচ্ছে। বছরের শেষের দিকের চাহিদা এবং বৈশ্বিক সহায়ক কারণগুলো থাকায় কাছাকাছি সময়ে বড় ধরনের দাম কমার সম্ভাবনা কম। ফলে ক্রেতাদের জন্য সময় নির্বাচন ও বাজেট পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

দুবাইয়ে আবার চড়ছে সোনার দাম, কেন বাড়ছে এই উত্থান

০৭:২১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দুবাইয়ের সোনার বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। গয়নার ক্রেতাদের বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাজারে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুচরা দর বেড়েছে। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি গ্রাম প্রায় ৫২২ দশমিক ২৫ দিরহাম এবং ২২ ক্যারেট প্রায় ৪৮৩ দশমিক ৫০ দিরহামে লেনদেন হচ্ছে, যা প্রায় সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

ডিসেম্বরে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি
ডিসেম্বর জুড়ে দুবাইয়ের সোনার বাজারে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মাসের শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকলেও অল্প সময়ের জন্য ২৪ ক্যারেট সোনা ৫০৪ দিরহামের নিচে এবং ২২ ক্যারেট প্রায় ৪৬৬ দশমিক ৫০ দিরহামে নেমে আসে। তবে এই পতন স্থায়ী হয়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দাম আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে জল্পনার চেয়ে স্থায়ী চাহিদাই বেশি কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সহায়ক সংকেত
বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপা প্রায় রেকর্ড দামের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতির তথ্য সামনে আসায় সুদের হার আরও কমতে পারে এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। এতে সোনার মতো সুদহীন সম্পদের আকর্ষণ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের লাভের পথে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক দীর্ঘ সরকারি অচলাবস্থা কিছু অর্থনৈতিক সূচককে প্রভাবিত করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলছে। সুদের হার কমানোর ধারা চললেও ভবিষ্যৎ নীতির গতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপদ বিনিয়োগ
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার চাহিদা বাড়াচ্ছে। ভেনেজুয়েলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ এবং ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ার খবরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছে, যা বাজারে বাড়তি সমর্থন দিচ্ছে।

মূল্যবান ধাতুর জন্য স্মরণীয় বছর
চলতি বছরটি মূল্যবান ধাতুর জন্য ব্যতিক্রমী হিসেবে ধরা হচ্ছে। সোনা ও রুপা উভয়ই বহু দশকের মধ্যে সেরা বার্ষিক পারফরম্যান্সের পথে। বছরের শুরু থেকে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর রুপার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক ক্রয় এবং বিনিয়োগ তহবিলে ধারাবাহিক প্রবাহ এই উত্থানের প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে প্লাটিনামও দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

দুবাইয়ের ক্রেতাদের জন্য অর্থ কী
দুবাইয়ের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি দ্বিমুখী। যারা বছরের শুরুতে সোনা কিনেছেন তারা ভালো মুনাফায় রয়েছেন। তবে যারা এখন কিনতে চান, তাদের প্রায় সর্বোচ্চ দামে গয়না বা সোনা কিনতে হচ্ছে। বছরের শেষের দিকের চাহিদা এবং বৈশ্বিক সহায়ক কারণগুলো থাকায় কাছাকাছি সময়ে বড় ধরনের দাম কমার সম্ভাবনা কম। ফলে ক্রেতাদের জন্য সময় নির্বাচন ও বাজেট পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।