১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ PM তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় স্নাতক হয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে এক হাজার পাঁচশ কোটি টাকার বেশি মূলধন উধাও

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন কমেছে এক হাজার পাঁচশ এক কোটি টাকার বেশি। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় এই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা।

বাজার মূলধনের বড় ধস
রোববার লেনদেন শুরুর সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ছিল ছয় লাখ ছিয়াশি হাজার তিনশ আটষট্টি কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার তা নেমে আসে ছয় লাখ পঁচাত্তর হাজার আটশ ছেষট্টি কোটি টাকায়। ফলে মাত্র চার কার্যদিবসেই বাজার থেকে উধাও হয়েছে এক হাজার পাঁচশ এক কোটি টাকার বেশি মূলধন।

দরপতনের চিত্র ও সূচকের অবস্থা
সপ্তাহজুড়ে মাত্র বত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে তিনশ পঁয়ত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল বাইশটির দর, আর চব্বিশটি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়নি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সব সূচকই দুই শতাংশের বেশি কমেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের শুরুতে ছিল চার হাজার নয়শ তেষট্টি পয়েন্টে, যা শেষে নেমে আসে চার হাজার আটশ একত্রিশ পয়েন্টে। বিজয় দিবসের ছুটির কারণে চার কার্যদিবসে সূচকটি কমেছে একশ বত্রিশ পয়েন্ট। এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইএক্স কমেছে সাত শতাংশের বেশি।

অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএস ত্রিশ কমেছে তিনচল্লিশ পয়েন্ট, শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে তেত্রিশ পয়েন্ট এবং এসএমই সূচক ডিএসএমইএক্স কমেছে চব্বিশ পয়েন্ট।

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে মূলধন কমলো ১১ হাজার কোটি টাকা

লেনদেনের গতি কমেছে
সূচকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল চারশ সতেরো কোটি টাকা, যা শেষে নেমে আসে তিনশ সাতাশি কোটি টাকায়। অর্থাৎ গড় লেনদেন কমেছে সাত শতাংশের বেশি।

খাতভিত্তিক দরপতন ও অল্প কিছু ব্যতিক্রম
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একুশটি খাতের মধ্যে মাত্র সাতটি খাতে দর বেড়েছে। ব্যাংক খাতে দর কমেছে প্রায় ছয় শতাংশ। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, যেখানে দর কমেছে প্রায় বত্রিশ শতাংশ।
বীমা খাতের মধ্যে সাধারণ বীমায় উনিশ শতাংশের বেশি দর বাড়লেও জীবন বীমায় দর কমেছে আটত্রিশ শতাংশের মতো। এ ছাড়া সিরামিক, করপোরেট বন্ড, খাদ্য, মিউচুয়াল ফান্ড, আবাসন ও বস্ত্র খাতে কিছুটা দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্র
প্রায় সব খাতেই লেনদেন কমেছে। ব্যতিক্রম হিসেবে জীবন বীমা, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও বস্ত্র খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন কমেছে গড়ে বায়ান্ন শতাংশের মতো।

সেরা দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
শীর্ষ দশ দরবৃদ্ধিকারীর মধ্যে বড় অংশই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের। ‘বি’ শ্রেণির বাঙ্গাস লিমিটেড প্রায় পনেরো শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের স্কিম, আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস এবং ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দরহারানো শেয়ার
দরহারানো শেয়ারের তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে ‘জেড’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠান। চিনি শিল্পের দুটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্যামপুর সুগার মিলসের দর কমেছে প্রায় একুশ শতাংশ। জিয়াল বাংলা সুগার মিলসের দরও কমেছে সতেরো শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এএফসি এগ্রো বায়োটেক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ধস
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চার কার্যদিবসে সব সূচকই দেড় শতাংশের বেশি কমেছে। ক্যাসপি সূচক কমেছে দুইশ সাতচল্লিশ পয়েন্ট। সিএসই ত্রিশ, সিএসসিএক্স, সিএসই পঞ্চাশ ও শরিয়াহভিত্তিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া আড়াইশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একশ ঊনষাটটির দর কমেছে। এখানেও বাঙ্গাস লিমিটেড শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী হলেও এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে এক হাজার পাঁচশ কোটি টাকার বেশি মূলধন উধাও

১১:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন কমেছে এক হাজার পাঁচশ এক কোটি টাকার বেশি। অধিকাংশ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় এই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা।

বাজার মূলধনের বড় ধস
রোববার লেনদেন শুরুর সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ছিল ছয় লাখ ছিয়াশি হাজার তিনশ আটষট্টি কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার তা নেমে আসে ছয় লাখ পঁচাত্তর হাজার আটশ ছেষট্টি কোটি টাকায়। ফলে মাত্র চার কার্যদিবসেই বাজার থেকে উধাও হয়েছে এক হাজার পাঁচশ এক কোটি টাকার বেশি মূলধন।

দরপতনের চিত্র ও সূচকের অবস্থা
সপ্তাহজুড়ে মাত্র বত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে তিনশ পঁয়ত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল বাইশটির দর, আর চব্বিশটি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়নি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সব সূচকই দুই শতাংশের বেশি কমেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের শুরুতে ছিল চার হাজার নয়শ তেষট্টি পয়েন্টে, যা শেষে নেমে আসে চার হাজার আটশ একত্রিশ পয়েন্টে। বিজয় দিবসের ছুটির কারণে চার কার্যদিবসে সূচকটি কমেছে একশ বত্রিশ পয়েন্ট। এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইএক্স কমেছে সাত শতাংশের বেশি।

অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএস ত্রিশ কমেছে তিনচল্লিশ পয়েন্ট, শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে তেত্রিশ পয়েন্ট এবং এসএমই সূচক ডিএসএমইএক্স কমেছে চব্বিশ পয়েন্ট।

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে মূলধন কমলো ১১ হাজার কোটি টাকা

লেনদেনের গতি কমেছে
সূচকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল চারশ সতেরো কোটি টাকা, যা শেষে নেমে আসে তিনশ সাতাশি কোটি টাকায়। অর্থাৎ গড় লেনদেন কমেছে সাত শতাংশের বেশি।

খাতভিত্তিক দরপতন ও অল্প কিছু ব্যতিক্রম
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একুশটি খাতের মধ্যে মাত্র সাতটি খাতে দর বেড়েছে। ব্যাংক খাতে দর কমেছে প্রায় ছয় শতাংশ। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, যেখানে দর কমেছে প্রায় বত্রিশ শতাংশ।
বীমা খাতের মধ্যে সাধারণ বীমায় উনিশ শতাংশের বেশি দর বাড়লেও জীবন বীমায় দর কমেছে আটত্রিশ শতাংশের মতো। এ ছাড়া সিরামিক, করপোরেট বন্ড, খাদ্য, মিউচুয়াল ফান্ড, আবাসন ও বস্ত্র খাতে কিছুটা দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্র
প্রায় সব খাতেই লেনদেন কমেছে। ব্যতিক্রম হিসেবে জীবন বীমা, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও বস্ত্র খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন কমেছে গড়ে বায়ান্ন শতাংশের মতো।

সেরা দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
শীর্ষ দশ দরবৃদ্ধিকারীর মধ্যে বড় অংশই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের। ‘বি’ শ্রেণির বাঙ্গাস লিমিটেড প্রায় পনেরো শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের স্কিম, আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস এবং ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দরহারানো শেয়ার
দরহারানো শেয়ারের তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে ‘জেড’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠান। চিনি শিল্পের দুটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্যামপুর সুগার মিলসের দর কমেছে প্রায় একুশ শতাংশ। জিয়াল বাংলা সুগার মিলসের দরও কমেছে সতেরো শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এএফসি এগ্রো বায়োটেক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ধস
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চার কার্যদিবসে সব সূচকই দেড় শতাংশের বেশি কমেছে। ক্যাসপি সূচক কমেছে দুইশ সাতচল্লিশ পয়েন্ট। সিএসই ত্রিশ, সিএসসিএক্স, সিএসই পঞ্চাশ ও শরিয়াহভিত্তিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া আড়াইশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একশ ঊনষাটটির দর কমেছে। এখানেও বাঙ্গাস লিমিটেড শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী হলেও এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।