০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্বে হৃদয় ভারতে থমকে থাকা মৌসুমী বৃষ্টি, বৃষ্টির ঘাটতি ৩৫ শতাংশ; কৃষিতে সতর্কতা জোরদার রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড়, উচ্চ আদালতের বিচারকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত দাবি কংগ্রেসের তৃণমূলে শক্তি প্রদর্শন রিতব্রতের, সমর্থন বেড়ে ৬৫ বিধায়ক দাবি; ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী এমপিদের আবেদনে অবস্থান ব্যাখ্যার আহ্বান স্পিকারের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ বিটিএস-মাডোনা-শাকিরা একসঙ্গে, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো দৃশ্যম ৩ আগামীকাল অ্যামাজন প্রাইমে, ৩৩০ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার এবার ঘরে বসেই দেখুন রাইজের নতুন অ্যালবাম ‘II’ প্রথম দিনেই ৯ লাখ কপি বিক্রি, ‘Do Your Dance’ এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং চার বছর পর মাঠে বিটিএস, পুসানে দুই রাতে ১,১০,০০০ দর্শক ঝড় তুলল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

  • নাঈম হক
  • ০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 148

আমি আমার বাদিকের ডানার নিচে রানওয়ের বাতি দেখতে পেলাম- তাই কো-পাইলটকে পাওয়ার সাপ্লাই ‘অফ’ করে দিতে বললাম…

বর্ষার মৌসুমেও ১৩৪৫তম “এয়ার ট্রান্সপোর্ট কমান্ড” (এটিসি)-এর উড্ডয়ন বা ফ্লাইট-অপারেশনকে প্রচুর নাস্তানাবুদ অবস্থায় পড়তে হয়েছে। একবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে উড্ডয়নের সময়, লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড ল্যাং-এর মুখে কুর্মিটোলার একটি অভিজ্ঞতার কাহিনি শুনেছি: “সি-১০৯” জ্বালানি ও সাপ্লাই ভর্তি প্লেন নিয়ে কুর্মিটোলা থেকে “চেংটু”-তে যাই, “চেংটু”-তে-“মিয়িতকিয়িনা” পর্যন্ত যাওয়ার মতো পরিমাণ জ্বালানি রেখে সবটুকু ওখানেই রেখে আসি আমরা।

কিন্তু “মিয়িতকিয়িনা” ছাড়তে না ছাড়তেই আমরা “হেড-উয়িন্ডসের” মধ্যে পড়ে যাই এবং বর্ষার বিষম ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যে কুর্মিটোলায় ফিরে আসি। বড়ো রকমের সমস্যা হয়নি তবে “সি-১০৯” প্লেনের সামনের জানালায় কোনো (উয়িন্ডস্ক্রীন) ওয়াইপার ছিল না। ফলে হয়েছে কি জানো?

অবতরণকালে “ডাউন উয়িন্ড”-এ কোনো সমস্যা হচ্ছিল না, কিন্তু সমস্যা হয় যে চূড়ান্ত পর্যায়ে, অবতরণকালে ওয়াইপারবিহীন জানালা দিয়ে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমি বার ছয়েক ‘মাথার উপরে’ চক্কর দিলাম, কোনো সুবিধে করতে পারছিলাম না। এমন সময় ইঞ্জিনিয়ার বলল, “লেফটেন্যান্ট… মিটার দেখাচ্ছে যে ট্যাঙ্কে ফোঁটামাত্র জ্বালানি নেই, ওকে আপনি নিচেয় নামিয়ে আনুন।”

কি আর করা, পরবর্তী চক্করের সময় আমি খুব নিচে নেমে এলাম, “ল্যান্ডিং গীয়ার” আলগা করে দিলাম, আমি আমার বাদিকের ডানার নিচে রানওয়ের বাতি দেখতে পেলাম- তাই কো-পাইলটকে পাওয়ার সাপ্লাই ‘অফ’ করে দিতে বললাম এবং কো-পাইলট তা পালন করল। আমি প্রথমে বামদিকের এবং তারপরে ডানদিকের “রাডার” (হাল) বন্ধ করলাম।

আমাদের প্লেনটি ভেজা রানওয়ে ধরে যাচ্ছিল। অবশেষে প্লেনটি থামল এবং মাটিতে নামলাম। আমি ইঞ্জিনিয়ারকে জ্বালানি ট্যাঙ্কে কতোটুকু তেল রয়েছে- মেপে দেখতে বললাম। ফিরে এসে ইঞ্জিনিয়ার বললেন যে “লেফটেন্যান্ট, ট্যাঙ্কে যা তেল রয়েছে তা দিয়ে (তেল মাপার) স্টিকের তলা পর্যন্ত সহজে ভেজেনি”।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭৯)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭৯)

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্বে হৃদয়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আমি আমার বাদিকের ডানার নিচে রানওয়ের বাতি দেখতে পেলাম- তাই কো-পাইলটকে পাওয়ার সাপ্লাই ‘অফ’ করে দিতে বললাম…

বর্ষার মৌসুমেও ১৩৪৫তম “এয়ার ট্রান্সপোর্ট কমান্ড” (এটিসি)-এর উড্ডয়ন বা ফ্লাইট-অপারেশনকে প্রচুর নাস্তানাবুদ অবস্থায় পড়তে হয়েছে। একবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে উড্ডয়নের সময়, লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড ল্যাং-এর মুখে কুর্মিটোলার একটি অভিজ্ঞতার কাহিনি শুনেছি: “সি-১০৯” জ্বালানি ও সাপ্লাই ভর্তি প্লেন নিয়ে কুর্মিটোলা থেকে “চেংটু”-তে যাই, “চেংটু”-তে-“মিয়িতকিয়িনা” পর্যন্ত যাওয়ার মতো পরিমাণ জ্বালানি রেখে সবটুকু ওখানেই রেখে আসি আমরা।

কিন্তু “মিয়িতকিয়িনা” ছাড়তে না ছাড়তেই আমরা “হেড-উয়িন্ডসের” মধ্যে পড়ে যাই এবং বর্ষার বিষম ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যে কুর্মিটোলায় ফিরে আসি। বড়ো রকমের সমস্যা হয়নি তবে “সি-১০৯” প্লেনের সামনের জানালায় কোনো (উয়িন্ডস্ক্রীন) ওয়াইপার ছিল না। ফলে হয়েছে কি জানো?

অবতরণকালে “ডাউন উয়িন্ড”-এ কোনো সমস্যা হচ্ছিল না, কিন্তু সমস্যা হয় যে চূড়ান্ত পর্যায়ে, অবতরণকালে ওয়াইপারবিহীন জানালা দিয়ে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমি বার ছয়েক ‘মাথার উপরে’ চক্কর দিলাম, কোনো সুবিধে করতে পারছিলাম না। এমন সময় ইঞ্জিনিয়ার বলল, “লেফটেন্যান্ট… মিটার দেখাচ্ছে যে ট্যাঙ্কে ফোঁটামাত্র জ্বালানি নেই, ওকে আপনি নিচেয় নামিয়ে আনুন।”

কি আর করা, পরবর্তী চক্করের সময় আমি খুব নিচে নেমে এলাম, “ল্যান্ডিং গীয়ার” আলগা করে দিলাম, আমি আমার বাদিকের ডানার নিচে রানওয়ের বাতি দেখতে পেলাম- তাই কো-পাইলটকে পাওয়ার সাপ্লাই ‘অফ’ করে দিতে বললাম এবং কো-পাইলট তা পালন করল। আমি প্রথমে বামদিকের এবং তারপরে ডানদিকের “রাডার” (হাল) বন্ধ করলাম।

আমাদের প্লেনটি ভেজা রানওয়ে ধরে যাচ্ছিল। অবশেষে প্লেনটি থামল এবং মাটিতে নামলাম। আমি ইঞ্জিনিয়ারকে জ্বালানি ট্যাঙ্কে কতোটুকু তেল রয়েছে- মেপে দেখতে বললাম। ফিরে এসে ইঞ্জিনিয়ার বললেন যে “লেফটেন্যান্ট, ট্যাঙ্কে যা তেল রয়েছে তা দিয়ে (তেল মাপার) স্টিকের তলা পর্যন্ত সহজে ভেজেনি”।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭৯)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৭৯)