০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
মন্ট্রিয়ালে রোটিসেরি চিকেন: ক্লাসিক কুইবেকois স্বাদের আধুনিক প্রকাশ ব্রুস হর্নসবি: ৭১-এও সঙ্গীতের সীমা ছাড়িয়ে চলছেন ক্রিপ্টো বাজারে নতুন অধ্যায়: যুক্তরাষ্ট্রে নরম নিয়মে শিল্পের সুযোগ বৃদ্ধি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণ করছে জাপানের চেরি ফুলের সময়সূচি পারিসে নয়, অ্যান্টওয়ার্প নিয়েছে ফ্যাশনের নেতৃত্ব ভারতীয় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে ৪৮৩ কর্মকর্তা বদলি, অন্য রাজ্যে মাত্র ২৩ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ: গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ দিক ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘অগুরুত্বপূর্ণ’ বললেন ম্যাক্রোঁ, ন্যাটো নিয়ে সমালোচনাও ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তেহরানের কড়া বার্তা, হামলা চলছেই

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮১)

  • নাঈম হক
  • ০৫:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 67

উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি……

অ্যান্থনি আরো বলেন যে “জানো, একবার তো ‘কুনমিং’ থেকে কুর্মিটোলায় ফিরে আসবার সময় ‘সি-১০৯’ তো একেবারেই খালি ছিলো” (অর্থাৎ অবশিষ্ট জ্বালানি বলে কিছু ছিল না, একেবারেই তলানিতে নেমে গিয়েছিল)। আরেকবার “চীনের দিকে উড়ছিলাম আমরা; বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি আমরা, আমাদের প্লেনটি অবতরণ শুরু করেছে মাত্র- দেখি যে নিচে রানওয়ের দু’ধারে পজিশন নিয়ে চীনের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট সেনাবাহিনী গোলাগুলি বিনিময়ে ব্যস্ত”।

১৯৪৫ সালের এপ্রিলের শেষের দিক থেকে অ্যান্থনির গ্রুপ ভারতবর্ষ ও বার্মায় অবস্থানরত চীনা সেনাদেরকে চীনে ফিরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ, ইত্যবসরে মিত্রবাহিনীর সেনাবল জাপানের বিরুদ্ধে একের পর এক করে প্রতিটি রণাঙ্গণে জাপানিদের হারিয়ে দিচ্ছিল, ফলে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে বার্মায়ও জাপানি বাহিনীর দিন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।

থাকাকালে, অ্যান্থনি সিলভা সাকুল্যে সাতষট্টি বার হিমালয় পর্বতমালার আঠারো মাস স্থায়ী “ট্যুর অব ডিউটি” (তথা বৈরী পরিবেশে)-তে “হাম্পের” উপর দিয়ে ওড়াউড়ি করেছেন এবং প্রতিবারই করেছেন বিভিন্ন ক্রু’দের সঙ্গে। একবার, শুধুমাত্র একবার “হয়েছিলো কি জানো?

ঘাঁটি ত্যাগ করেছি দেড় ঘণ্টা পূর্বে, উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি যখন হিমালয়ের সর্বোচ্চ “হাম্পের” উপর দিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেসময়ে। কি আর করা? আমরা তাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বরাবর একই উচ্চতায় থেকে (অলটিটিউড) গন্তব্যস্থল পর্যন্ত উড়তে বাধ্য হই; অথচ খেয়াল করি যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূ-খণ্ডের উচ্চতা (অলটিটিউড) কিন্তু ক্রমশ হ্রাস পেয়ে পেয়ে কমে যাচ্ছিল”।

অবশেষে ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যান্থনি ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পান, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসেন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্ট্রিয়ালে রোটিসেরি চিকেন: ক্লাসিক কুইবেকois স্বাদের আধুনিক প্রকাশ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮১)

০৫:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি……

অ্যান্থনি আরো বলেন যে “জানো, একবার তো ‘কুনমিং’ থেকে কুর্মিটোলায় ফিরে আসবার সময় ‘সি-১০৯’ তো একেবারেই খালি ছিলো” (অর্থাৎ অবশিষ্ট জ্বালানি বলে কিছু ছিল না, একেবারেই তলানিতে নেমে গিয়েছিল)। আরেকবার “চীনের দিকে উড়ছিলাম আমরা; বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি আমরা, আমাদের প্লেনটি অবতরণ শুরু করেছে মাত্র- দেখি যে নিচে রানওয়ের দু’ধারে পজিশন নিয়ে চীনের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট সেনাবাহিনী গোলাগুলি বিনিময়ে ব্যস্ত”।

১৯৪৫ সালের এপ্রিলের শেষের দিক থেকে অ্যান্থনির গ্রুপ ভারতবর্ষ ও বার্মায় অবস্থানরত চীনা সেনাদেরকে চীনে ফিরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ, ইত্যবসরে মিত্রবাহিনীর সেনাবল জাপানের বিরুদ্ধে একের পর এক করে প্রতিটি রণাঙ্গণে জাপানিদের হারিয়ে দিচ্ছিল, ফলে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে বার্মায়ও জাপানি বাহিনীর দিন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।

থাকাকালে, অ্যান্থনি সিলভা সাকুল্যে সাতষট্টি বার হিমালয় পর্বতমালার আঠারো মাস স্থায়ী “ট্যুর অব ডিউটি” (তথা বৈরী পরিবেশে)-তে “হাম্পের” উপর দিয়ে ওড়াউড়ি করেছেন এবং প্রতিবারই করেছেন বিভিন্ন ক্রু’দের সঙ্গে। একবার, শুধুমাত্র একবার “হয়েছিলো কি জানো?

ঘাঁটি ত্যাগ করেছি দেড় ঘণ্টা পূর্বে, উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি যখন হিমালয়ের সর্বোচ্চ “হাম্পের” উপর দিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেসময়ে। কি আর করা? আমরা তাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বরাবর একই উচ্চতায় থেকে (অলটিটিউড) গন্তব্যস্থল পর্যন্ত উড়তে বাধ্য হই; অথচ খেয়াল করি যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূ-খণ্ডের উচ্চতা (অলটিটিউড) কিন্তু ক্রমশ হ্রাস পেয়ে পেয়ে কমে যাচ্ছিল”।

অবশেষে ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যান্থনি ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পান, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসেন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)