০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে গোপনে ভিডিও ধারণের ভয় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বিদেশি যোদ্ধারা, সামনে ভয়াবহ মৃত্যুর গল্প ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবা, স্বস্তি মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ‘নেতিবাচক শক্তি’ আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে আবারও ট্রাম্প, স্কটল্যান্ড নিয়ে এখনই কথা নয়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮১)

  • নাঈম হক
  • ০৫:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 121

উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি……

অ্যান্থনি আরো বলেন যে “জানো, একবার তো ‘কুনমিং’ থেকে কুর্মিটোলায় ফিরে আসবার সময় ‘সি-১০৯’ তো একেবারেই খালি ছিলো” (অর্থাৎ অবশিষ্ট জ্বালানি বলে কিছু ছিল না, একেবারেই তলানিতে নেমে গিয়েছিল)। আরেকবার “চীনের দিকে উড়ছিলাম আমরা; বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি আমরা, আমাদের প্লেনটি অবতরণ শুরু করেছে মাত্র- দেখি যে নিচে রানওয়ের দু’ধারে পজিশন নিয়ে চীনের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট সেনাবাহিনী গোলাগুলি বিনিময়ে ব্যস্ত”।

১৯৪৫ সালের এপ্রিলের শেষের দিক থেকে অ্যান্থনির গ্রুপ ভারতবর্ষ ও বার্মায় অবস্থানরত চীনা সেনাদেরকে চীনে ফিরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ, ইত্যবসরে মিত্রবাহিনীর সেনাবল জাপানের বিরুদ্ধে একের পর এক করে প্রতিটি রণাঙ্গণে জাপানিদের হারিয়ে দিচ্ছিল, ফলে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে বার্মায়ও জাপানি বাহিনীর দিন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।

থাকাকালে, অ্যান্থনি সিলভা সাকুল্যে সাতষট্টি বার হিমালয় পর্বতমালার আঠারো মাস স্থায়ী “ট্যুর অব ডিউটি” (তথা বৈরী পরিবেশে)-তে “হাম্পের” উপর দিয়ে ওড়াউড়ি করেছেন এবং প্রতিবারই করেছেন বিভিন্ন ক্রু’দের সঙ্গে। একবার, শুধুমাত্র একবার “হয়েছিলো কি জানো?

ঘাঁটি ত্যাগ করেছি দেড় ঘণ্টা পূর্বে, উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি যখন হিমালয়ের সর্বোচ্চ “হাম্পের” উপর দিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেসময়ে। কি আর করা? আমরা তাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বরাবর একই উচ্চতায় থেকে (অলটিটিউড) গন্তব্যস্থল পর্যন্ত উড়তে বাধ্য হই; অথচ খেয়াল করি যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূ-খণ্ডের উচ্চতা (অলটিটিউড) কিন্তু ক্রমশ হ্রাস পেয়ে পেয়ে কমে যাচ্ছিল”।

অবশেষে ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যান্থনি ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পান, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসেন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮১)

০৫:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি……

অ্যান্থনি আরো বলেন যে “জানো, একবার তো ‘কুনমিং’ থেকে কুর্মিটোলায় ফিরে আসবার সময় ‘সি-১০৯’ তো একেবারেই খালি ছিলো” (অর্থাৎ অবশিষ্ট জ্বালানি বলে কিছু ছিল না, একেবারেই তলানিতে নেমে গিয়েছিল)। আরেকবার “চীনের দিকে উড়ছিলাম আমরা; বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি আমরা, আমাদের প্লেনটি অবতরণ শুরু করেছে মাত্র- দেখি যে নিচে রানওয়ের দু’ধারে পজিশন নিয়ে চীনের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট সেনাবাহিনী গোলাগুলি বিনিময়ে ব্যস্ত”।

১৯৪৫ সালের এপ্রিলের শেষের দিক থেকে অ্যান্থনির গ্রুপ ভারতবর্ষ ও বার্মায় অবস্থানরত চীনা সেনাদেরকে চীনে ফিরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ, ইত্যবসরে মিত্রবাহিনীর সেনাবল জাপানের বিরুদ্ধে একের পর এক করে প্রতিটি রণাঙ্গণে জাপানিদের হারিয়ে দিচ্ছিল, ফলে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে বার্মায়ও জাপানি বাহিনীর দিন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।

থাকাকালে, অ্যান্থনি সিলভা সাকুল্যে সাতষট্টি বার হিমালয় পর্বতমালার আঠারো মাস স্থায়ী “ট্যুর অব ডিউটি” (তথা বৈরী পরিবেশে)-তে “হাম্পের” উপর দিয়ে ওড়াউড়ি করেছেন এবং প্রতিবারই করেছেন বিভিন্ন ক্রু’দের সঙ্গে। একবার, শুধুমাত্র একবার “হয়েছিলো কি জানো?

ঘাঁটি ত্যাগ করেছি দেড় ঘণ্টা পূর্বে, উড়ছি আমরা- দুমদাম “সি-১০৯”-য়ের দু’দুটো ইঞ্জিনই ঠিকঠাকমতো কাজ করা বন্ধ করে দিল, আর দিলো তো দিলো বিমানটি যখন হিমালয়ের সর্বোচ্চ “হাম্পের” উপর দিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেসময়ে। কি আর করা? আমরা তাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বরাবর একই উচ্চতায় থেকে (অলটিটিউড) গন্তব্যস্থল পর্যন্ত উড়তে বাধ্য হই; অথচ খেয়াল করি যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূ-খণ্ডের উচ্চতা (অলটিটিউড) কিন্তু ক্রমশ হ্রাস পেয়ে পেয়ে কমে যাচ্ছিল”।

অবশেষে ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যান্থনি ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পান, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসেন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮০)