০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস

চীনের নিরাপত্তা উদ্বেগের পর ৪৪০০-এর বেশি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিচে নামাচ্ছে স্পেসএক্স

চীনের পক্ষ থেকে মহাকাশ নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে স্পেসএক্স। ২০২৬ সালজুড়ে ৪৪০০-এর বেশি ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিচে নামানো হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য মহাকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপত্তা বাড়ানো।

কেন কক্ষপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
স্পেসএক্স জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত কক্ষপথে মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ ও ভবিষ্যতে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ঘনত্ব বেশি। এতে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে। কক্ষপথ কিছুটা নিচে নামালে তুলনামূলক কম ভিড়পূর্ণ এলাকায় স্যাটেলাইট পরিচালনা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সেগুলোকে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে আনা যাবে।

চীনের আপত্তি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই সিদ্ধান্তের আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বেইজিংয়ের এক প্রতিনিধি স্টারলিংক নেটওয়ার্ক নিয়ে সমালোচনা করেন। তার মতে, এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক যৌথভাবে ব্যবহৃত কক্ষপথে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং মহাকাশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

কীভাবে বদলাবে স্টারলিংকের কক্ষপথ
স্টারলিংকের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকোলস জানান, বর্তমানে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইটগুলোকে ধাপে ধাপে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় নামানো হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ৪৪০০-এর বেশি স্যাটেলাইট স্থানান্তর করা হবে।

নিরাপত্তায় কী সুবিধা মিলবে
নিকোলসের মতে, ৫০০ কিলোমিটারের নিচে মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সংখ্যা অনেক কম। ফলে সেখানে সংঘর্ষের সামগ্রিক ঝুঁকিও কমে যায়। একই সঙ্গে নিচু কক্ষপথে থাকলে স্যাটেলাইটের কার্যকাল শেষ হলে দ্রুত বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

মহাকাশ স্টেশনগুলোর কক্ষপথের তুলনা
সাধারণত নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের ইন্টারনেট স্যাটেলাইটগুলো ৫০০ থেকে ১২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ঘোরে। চীনের থিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন ঘোরে প্রায় ৩৪০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি লাভ
স্পেসএক্স জানিয়েছে, কক্ষপথ নিচে নামালে স্যাটেলাইটের পতন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের দিকে প্রত্যাশিত সৌর কার্যকলাপের নিম্ন পর্যায়ে এই পরিবর্তনের ফলে স্যাটেলাইটের পতন সময় ৮০ শতাংশের বেশি কমে আসবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

চীনের নিরাপত্তা উদ্বেগের পর ৪৪০০-এর বেশি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিচে নামাচ্ছে স্পেসএক্স

০৬:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের পক্ষ থেকে মহাকাশ নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে স্পেসএক্স। ২০২৬ সালজুড়ে ৪৪০০-এর বেশি ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিচে নামানো হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য মহাকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপত্তা বাড়ানো।

কেন কক্ষপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
স্পেসএক্স জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত কক্ষপথে মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ ও ভবিষ্যতে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ঘনত্ব বেশি। এতে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে। কক্ষপথ কিছুটা নিচে নামালে তুলনামূলক কম ভিড়পূর্ণ এলাকায় স্যাটেলাইট পরিচালনা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সেগুলোকে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে আনা যাবে।

চীনের আপত্তি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই সিদ্ধান্তের আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বেইজিংয়ের এক প্রতিনিধি স্টারলিংক নেটওয়ার্ক নিয়ে সমালোচনা করেন। তার মতে, এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক যৌথভাবে ব্যবহৃত কক্ষপথে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং মহাকাশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

কীভাবে বদলাবে স্টারলিংকের কক্ষপথ
স্টারলিংকের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকোলস জানান, বর্তমানে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইটগুলোকে ধাপে ধাপে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় নামানো হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ৪৪০০-এর বেশি স্যাটেলাইট স্থানান্তর করা হবে।

নিরাপত্তায় কী সুবিধা মিলবে
নিকোলসের মতে, ৫০০ কিলোমিটারের নিচে মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সংখ্যা অনেক কম। ফলে সেখানে সংঘর্ষের সামগ্রিক ঝুঁকিও কমে যায়। একই সঙ্গে নিচু কক্ষপথে থাকলে স্যাটেলাইটের কার্যকাল শেষ হলে দ্রুত বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

মহাকাশ স্টেশনগুলোর কক্ষপথের তুলনা
সাধারণত নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের ইন্টারনেট স্যাটেলাইটগুলো ৫০০ থেকে ১২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ঘোরে। চীনের থিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন ঘোরে প্রায় ৩৪০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি লাভ
স্পেসএক্স জানিয়েছে, কক্ষপথ নিচে নামালে স্যাটেলাইটের পতন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের দিকে প্রত্যাশিত সৌর কার্যকলাপের নিম্ন পর্যায়ে এই পরিবর্তনের ফলে স্যাটেলাইটের পতন সময় ৮০ শতাংশের বেশি কমে আসবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।