ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর খারকিভে শুক্রবার ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় একটি বহুতল আবাসিক ভবন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত দুজন নিহত হন এবং আহত হন আরও পঁচিশ জন। তবে মস্কো এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণটি ইউক্রেনীয় গোলাবারুদের কারণে হয়ে থাকতে পারে।
ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, প্রাথমিকভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারী ও তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ইউক্রেনের টেলিভিশনে বলেন, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানে এবং প্রায় সম্পূর্ণভাবে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি ভেতরে কেউ আটকে আছে কি না, তা খুঁজে দেখছে।
আহতদের অবস্থা
আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আহত পঁচিশ জনের মধ্যে ষোল জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গভর্নর জানান, ভবনের নিচতলায় দোকান ও একটি ক্যাফে থাকায় বিস্ফোরণের সময় সেখানে ক্রেতারাও উপস্থিত থাকতে পারেন, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়েছে।

রাশিয়ার অস্বীকার ও পাল্টা দাবি
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, খারকিভে রুশ হামলার খবর সত্য নয়। তাদের দাবি, বিস্ফোরণের আগে প্রকাশিত ভিডিওতে ঘন ধোঁয়া দেখা যায়, যা ইঙ্গিত করে সেখানে সঞ্চিত ইউক্রেনীয় সামরিক গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই খবর ছড়িয়ে নতুন বছরের আগের রাতে দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে একটি হোটেলে হামলার প্রসঙ্গ থেকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটাশে পৌঁছেছে বলে রাশিয়া-নিযুক্ত প্রশাসনের দাবি।
বারবার হামলার লক্ষ্য খারকিভ
রাশিয়া সীমান্ত থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারকিভ শহরটি দুই হাজার বাইশ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকেই বড় ধরনের চাপ সামাল দিয়েছিল। এরপর থেকে রাশিয়ার বাহিনী দেশের পূর্বাঞ্চল দখলের দিকে মনোযোগ দেওয়ায় খারকিভ নিয়মিত আকাশপথে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ এই হামলা শহরের বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















