হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রকাশ্য বাগবিতণ্ডার সময় ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে দেওয়া এই ভয়ংকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুখে উচ্চারিত কথাগুলোকে অনেকেই সরাসরি হুমকি এবং অতীত সহিংসতার স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন।
থানার ভেতরের উত্তপ্ত মুহূর্ত
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায়। পরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালামের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার সংস্কার করা হয়েছে এবং প্রশাসনে তাদের লোক রয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে বিতর্কিত বক্তব্য
ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনে ১৭ জন শহীদ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ এবং এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ওসির উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কোন সাহসে আন্দোলনকারীদের এভাবে কথা বলা হচ্ছে।

আটক নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন থানায় গিয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেন। পুলিশ প্রথমে রাজি না হলেও তর্ক ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
আইনগত ঝুঁকির আশঙ্কা
হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবীর মতে, প্রকাশ্যে দেওয়া এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে কোনো মামলার ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং তা গুরুতর আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা
অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহদী হাসান বলেন, তিনি রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলছিলেন এবং অসাবধানতাবশত ওই বক্তব্য বেরিয়ে গেছে। পরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এমন কথা বলা ঠিক হয়নি।
পুলিশ প্রশাসনের অবস্থান
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, তিনি ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে থাকা ছবি ও ভিডিও দেখানোর পর থানার ভেতরে কথাবার্তা হয় এবং সেই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আটক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়
নয়নের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, তিনি একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মনে হয়, তবে বর্তমানে তিনি ওই সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















