১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপের স্বপ্ন ভেঙে ফিরছেন অভিবাসীরা, ক্ষুধা-হতাশায় সিউটা ছাড়ছে হাজারো মানুষ শুধু অনুদান নয়, টেকসই সংগীতশিল্প গড়তে বদলাতে হবে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো স্ট্রোক: প্রতিরোধ, দ্রুত চিকিৎসা ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের এক অবিচ্ছিন্ন লড়াই চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি

ইউরোপের কারখানায় ধাক্কা, এশিয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ইউরোপের শিল্পখাতে মন্দার চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইউরো অঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে এশিয়ার বড় উৎপাদন অর্থনীতিগুলো নতুন বছরে ঢুকছে তুলনামূলক শক্ত ভিত্তি নিয়ে। সাম্প্রতিক বেসরকারি জরিপগুলো দেখাচ্ছে, ইউরোপে চাহিদার দুর্বলতা শিল্প কার্যক্রমকে সংকুচিত করেছে, তবে এশিয়ায় রপ্তানি আদেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্যের চাহিদা উৎপাদনে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইউরো অঞ্চলে উৎপাদনে দীর্ঘ ছায়া
ডিসেম্বর মাসে ইউরো অঞ্চলের উৎপাদন খাত টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সংকোচনের মধ্যে পড়েছে। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে, নতুন অর্ডারও আশানুরূপ নয়। জরিপে দেখা গেছে, অঞ্চলজুড়ে প্রায় সব দেশেই শিল্প কার্যক্রমে নিম্নগতি। বিশেষ করে জার্মানিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে উৎপাদন সূচক নেমেছে দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ইতালি ও স্পেনও আবার সংকোচনের এলাকায় ফিরে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভোক্তা ও বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বছরকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে ভিন্ন সুর
ইউরোপের ভেতরেই তবে পুরো চিত্র একরকম নয়। ফ্রান্সে ডিসেম্বর মাসে উৎপাদন সূচক দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে, যা কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যেও শিল্প কার্যক্রমে গতি দেখা গেছে। সেখানে ডিসেম্বর মাসে উৎপাদন বেড়েছে গত পনেরো মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে। বাজেট-পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা ফিরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এশিয়ার কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
এশিয়ার উৎপাদন খাতের চিত্র ইউরোপের তুলনায় অনেকটাই উজ্জ্বল। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানিকারক দেশগুলোতে কয়েক মাসের মন্দার পর ডিসেম্বর মাসে আবার সম্প্রসারণ দেখা গেছে। চীনেও ছুটির আগের অর্ডার বাড়ায় কারখানা কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত গতি ফিরেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবু বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় অনেক উৎপাদক নতুন বছর নিয়ে আশাবাদী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রপ্তানির ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের বাইরে অন্য দেশ থেকে পণ্য নেওয়ার প্রবণতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির বাড়তি চাহিদা এশিয়ার উৎপাদন খাতকে বড় সহায়তা দিচ্ছে। তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী দেশগুলো এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। নতুন পণ্য বাজারে আসায় এবং বৈদেশিক চাহিদা বাড়ায় সেখানে বিক্রি ও ব্যবসায়িক আস্থা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও কাঁচামাল কেনাকাটায়।

অন্যান্য এশীয় অর্থনীতির অবস্থা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে শিল্প কার্যক্রমে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। ভারতে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর হলেও সামগ্রিকভাবে দেশটি এখনও আঞ্চলিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এদিকে সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে, যা এশিয়ার সামগ্রিক চিত্রকে আরও ইতিবাচক করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের স্বপ্ন ভেঙে ফিরছেন অভিবাসীরা, ক্ষুধা-হতাশায় সিউটা ছাড়ছে হাজারো মানুষ

ইউরোপের কারখানায় ধাক্কা, এশিয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস

০৭:২৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ইউরোপের শিল্পখাতে মন্দার চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইউরো অঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে এশিয়ার বড় উৎপাদন অর্থনীতিগুলো নতুন বছরে ঢুকছে তুলনামূলক শক্ত ভিত্তি নিয়ে। সাম্প্রতিক বেসরকারি জরিপগুলো দেখাচ্ছে, ইউরোপে চাহিদার দুর্বলতা শিল্প কার্যক্রমকে সংকুচিত করেছে, তবে এশিয়ায় রপ্তানি আদেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্যের চাহিদা উৎপাদনে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইউরো অঞ্চলে উৎপাদনে দীর্ঘ ছায়া
ডিসেম্বর মাসে ইউরো অঞ্চলের উৎপাদন খাত টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সংকোচনের মধ্যে পড়েছে। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে, নতুন অর্ডারও আশানুরূপ নয়। জরিপে দেখা গেছে, অঞ্চলজুড়ে প্রায় সব দেশেই শিল্প কার্যক্রমে নিম্নগতি। বিশেষ করে জার্মানিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে উৎপাদন সূচক নেমেছে দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ইতালি ও স্পেনও আবার সংকোচনের এলাকায় ফিরে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভোক্তা ও বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বছরকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে ভিন্ন সুর
ইউরোপের ভেতরেই তবে পুরো চিত্র একরকম নয়। ফ্রান্সে ডিসেম্বর মাসে উৎপাদন সূচক দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে, যা কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যেও শিল্প কার্যক্রমে গতি দেখা গেছে। সেখানে ডিসেম্বর মাসে উৎপাদন বেড়েছে গত পনেরো মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে। বাজেট-পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা ফিরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এশিয়ার কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
এশিয়ার উৎপাদন খাতের চিত্র ইউরোপের তুলনায় অনেকটাই উজ্জ্বল। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানিকারক দেশগুলোতে কয়েক মাসের মন্দার পর ডিসেম্বর মাসে আবার সম্প্রসারণ দেখা গেছে। চীনেও ছুটির আগের অর্ডার বাড়ায় কারখানা কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত গতি ফিরেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবু বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় অনেক উৎপাদক নতুন বছর নিয়ে আশাবাদী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রপ্তানির ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের বাইরে অন্য দেশ থেকে পণ্য নেওয়ার প্রবণতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির বাড়তি চাহিদা এশিয়ার উৎপাদন খাতকে বড় সহায়তা দিচ্ছে। তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী দেশগুলো এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। নতুন পণ্য বাজারে আসায় এবং বৈদেশিক চাহিদা বাড়ায় সেখানে বিক্রি ও ব্যবসায়িক আস্থা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও কাঁচামাল কেনাকাটায়।

অন্যান্য এশীয় অর্থনীতির অবস্থা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে শিল্প কার্যক্রমে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। ভারতে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর হলেও সামগ্রিকভাবে দেশটি এখনও আঞ্চলিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এদিকে সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে, যা এশিয়ার সামগ্রিক চিত্রকে আরও ইতিবাচক করছে।