০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
ইরানে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত, সতর্ক তেহরান; মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ বন্ধের তাগিদ, প্রকল্পে বাড়ছে খরচ ও সংকট ইরানে বিক্ষোভের আগুনেও কেন ভাঙছে না ক্ষমতার ভিত ডকইয়ার্ডের নিরাপত্তারক্ষীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, কেরানীগঞ্জে চাঞ্চল্য দুবাইয়ে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ৫৬০ দিরহামের আরও কাছে কেজিবির বিরুদ্ধে এক নিঃশব্দ বিদ্রোহ: এক সাধারণ কেরানির অসম লড়াই ভেনেজুয়েলা অভিযান ভারতের জন্য এক গুরুতর সতর্কবার্তা ইরান নিয়ে দ্বিমুখী পথে ট্রাম্প কূটনীতি ও হামলার হুমকির মাঝেই গোপন বার্তা অস্কারজয়ী স্পর্শে বিশ্ব সিনেমার নির্মাতা আর্থার কোহেনের বিদায় ভারত থেকে অবৈধভাবে ইলিশ আমদানি, বেনাপোলে আটক ৩ টন

শীতজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ঢাকার শিশু হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ চরমে

শীত মৌসুম শুরুর পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নবজাতক ও শিশুরা। শুষ্ক আবহাওয়া, বায়ুদূষণ ও অতিরিক্ত ধুলাবালির প্রভাবে শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ভাইরাল জ্বর ও পরিপাকতন্ত্রজনিত রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা হ্রাস ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন, সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার মতো উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ দ্রুত নিউমোনিয়া বা হাঁপানিজনিত জটিলতায় রূপ নিচ্ছে।

শিশু হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসা চাপ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে শয্যা সংকট প্রকট। একটিও শয্যা খালি নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। চিকিৎসকেরা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর অনেক শিশুকে ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং শ্বাসকষ্ট বা সংক্রমণের মাত্রা বাড়লে ভর্তি করা হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ মৌসুমি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

রোগীর পরিসংখ্যান ও ক্লিনিক্যাল চিত্র

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কয়েক দিনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশকে ভর্তি করতে হয়েছে। একই সময়ে ডায়রিয়া, সাধারণ সর্দি-কাশি ও হাঁপানিজনিত সমস্যায়ও বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। একদিনেই বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি শিশু চিকিৎসা নেয়, যার মধ্যে জরুরি বিভাগে শ্বাসকষ্ট ও তীব্র সংক্রমণ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

ভর্তি শিশুদের শারীরিক ভোগান্তি

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি শিশুদের কষ্ট স্পষ্ট। কয়েক মাস বয়সী শিশুদের কেউ কেউ জন্মের পর থেকেই রিকারেন্ট রেসপিরেটরি ইনফেকশনে ভুগছে এবং একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার জটিলতায় আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়েছে। নবজাতকদের মধ্যেও ডায়রিয়াজনিত পানিশূন্যতা দেখা যাচ্ছে, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবার এক বছরের কিছু বেশি বয়সী শিশুরা সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও শ্বাসকষ্টের কারণে নেবুলাইজেশন ও অক্সিজেন থেরাপির আওতায় চিকিৎসা পাচ্ছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা

শিশু শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা, ভাইরাল সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ সর্বাধিক হয়। নবজাতকদের ক্ষেত্রে গোসল করাতে বিশেষ সতর্কতা জরুরি, যাতে হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি না থাকে। শিশুদের শরীর উষ্ণ রাখা, পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং খোলা খাবার বা খোলা পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাক দিয়ে পানি পড়ার সময় প্যাকেটজাত পানীয় দিলে সংক্রমণ ও জটিলতা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা

চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। শীতকালের অধিকাংশ সংক্রমণই ভাইরাসজনিত হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুর জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত যোগ্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।

বিশ্ব বাস্তবতা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে নিউমোনিয়া এখনও শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। শীতকালে শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে না নেওয়া, ধুলাবালি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই শিশুদের সুস্থ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত, সতর্ক তেহরান; মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শীতজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ঢাকার শিশু হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ চরমে

১২:২০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

শীত মৌসুম শুরুর পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নবজাতক ও শিশুরা। শুষ্ক আবহাওয়া, বায়ুদূষণ ও অতিরিক্ত ধুলাবালির প্রভাবে শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ভাইরাল জ্বর ও পরিপাকতন্ত্রজনিত রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা হ্রাস ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন, সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার মতো উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ দ্রুত নিউমোনিয়া বা হাঁপানিজনিত জটিলতায় রূপ নিচ্ছে।

শিশু হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসা চাপ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে শয্যা সংকট প্রকট। একটিও শয্যা খালি নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। চিকিৎসকেরা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর অনেক শিশুকে ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং শ্বাসকষ্ট বা সংক্রমণের মাত্রা বাড়লে ভর্তি করা হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ মৌসুমি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

রোগীর পরিসংখ্যান ও ক্লিনিক্যাল চিত্র

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কয়েক দিনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশকে ভর্তি করতে হয়েছে। একই সময়ে ডায়রিয়া, সাধারণ সর্দি-কাশি ও হাঁপানিজনিত সমস্যায়ও বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। একদিনেই বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি শিশু চিকিৎসা নেয়, যার মধ্যে জরুরি বিভাগে শ্বাসকষ্ট ও তীব্র সংক্রমণ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

ভর্তি শিশুদের শারীরিক ভোগান্তি

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি শিশুদের কষ্ট স্পষ্ট। কয়েক মাস বয়সী শিশুদের কেউ কেউ জন্মের পর থেকেই রিকারেন্ট রেসপিরেটরি ইনফেকশনে ভুগছে এবং একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার জটিলতায় আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়েছে। নবজাতকদের মধ্যেও ডায়রিয়াজনিত পানিশূন্যতা দেখা যাচ্ছে, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবার এক বছরের কিছু বেশি বয়সী শিশুরা সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও শ্বাসকষ্টের কারণে নেবুলাইজেশন ও অক্সিজেন থেরাপির আওতায় চিকিৎসা পাচ্ছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা

শিশু শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা, ভাইরাল সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ সর্বাধিক হয়। নবজাতকদের ক্ষেত্রে গোসল করাতে বিশেষ সতর্কতা জরুরি, যাতে হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি না থাকে। শিশুদের শরীর উষ্ণ রাখা, পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং খোলা খাবার বা খোলা পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাক দিয়ে পানি পড়ার সময় প্যাকেটজাত পানীয় দিলে সংক্রমণ ও জটিলতা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা

চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। শীতকালের অধিকাংশ সংক্রমণই ভাইরাসজনিত হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুর জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত যোগ্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।

বিশ্ব বাস্তবতা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে নিউমোনিয়া এখনও শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। শীতকালে শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে না নেওয়া, ধুলাবালি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই শিশুদের সুস্থ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।