গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে উত্তাপ বাড়ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আবার আলোচনায় উঠে এসেছে বরফে ঢাকা বিশাল এই দ্বীপটি। জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন বলে দাবি করলেও বাস্তবতা হলো, কেনার আগেই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বিস্তৃত সামরিক অধিকার।
শীতল যুদ্ধের চুক্তিতে অবারিত প্রবেশাধিকার
উনিশ শত একান্ন সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি শীতল যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে কার্যত মুক্তহস্তে কাজ করার সুযোগ পায় ওয়াশিংটন। এই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের যেকোনো স্থানে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারে। বিমান ও জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সেনা অবস্থান এবং অবতরণ ক্ষেত্র ব্যবহারের ক্ষমতাও এতে অন্তর্ভুক্ত।

ডেনিশ আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক মিকেল রুঙ্গে ওলেসেনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে প্রায় সবকিছুই পেতে পারে। তার ভাষায়, ভদ্রভাবে চাইলে বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
কেনার প্রস্তাব ঘিরে বিরোধ
এই বাস্তবতার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে জানান, এটি প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক ভাবনা। তবে গ্রিনল্যান্ডের জনগণ বিষয়টি স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছে। দ্বীপটির প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশ বিক্রির জন্য নয়।
ডেনমার্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করার কোনো আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের পঁচাশি শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের বিরোধী।

ইতিহাসের শিকড় ও বর্তমান বাস্তবতা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির সূচনা। তখন এক ডজনের বেশি ঘাঁটি গড়ে ওঠে। শীতল যুদ্ধ শেষে অধিকাংশ ঘাঁটি বন্ধ হলেও একটি এখনো চালু রয়েছে।
দুই হাজার চার সালে চুক্তি সংশোধন করে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে স্থানীয় জনগণের ওপর সামরিক কার্যক্রমের প্রভাব বিবেচনায় আসে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ মানেই সম্মতি।

উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ
ট্রাম্পের বক্তব্য এবং উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের মন্তব্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে উদ্বেগ বেড়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে হামলা হলে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অবসান ডেকে আনবে। ইউরোপীয় নেতারাও ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিক তার জনগণ।
খনিজ সম্পদও বড় আকর্ষণ
কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল গুরুত্বপূর্ণ খনিজও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব সম্পদ পেতে দ্বীপটি দখল বা কেনার প্রয়োজন নেই। গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথাই বারবার বলছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















