ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার দখল আরও শক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে সশস্ত্র পুলিশ ও মুখোশধারী মিলিশিয়ার উপস্থিতি বেড়েছে। রাস্তায় চেকপোস্ট, বাসে উঠিয়ে যাত্রীদের জেরা, ব্যক্তিগত মুঠোফোন তল্লাশি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
মাদুরো গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তা অভিযানের বিস্তার
নিষ্কাশিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র গ্রেপ্তার করার পর থেকেই সরকারবিরোধী প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে তৎপর হয় কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী খুঁজে বেড়াচ্ছে এমন সব নাগরিককে, যারা ওই গ্রেপ্তারকে সমর্থন করেছে বলে সন্দেহ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনে অন্তত চৌদ্দ জন সাংবাদিক ও ছয় জন সাধারণ নাগরিককে আটক করা হয়। অধিকাংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও আতঙ্ক কাটেনি।

রাষ্ট্রীয় শোভাযাত্রা ও নীরব ভয়
কারাকাসে সরকারপন্থী বড় শোভাযাত্রার আয়োজন করে ক্ষমতাসীনরা। টেলিভিশনে প্রচারিত এসব কর্মসূচিতে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানানো হলেও রাস্তায় রাস্তায় ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ মানুষ নীরব, কারণ সর্বত্র নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজর। চেকপোস্টে যাত্রীদের হোয়াটসঅ্যাপসহ বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেউ মাদুরো, ট্রাম্প কিংবা আগ্রাসন শব্দ ব্যবহার করেছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
জরুরি অবস্থা ও নাগরিক অধিকার সংকট
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রোদ্রিগেজ নব্বই দিনের জরুরি অবস্থা জারি করে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছেন। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রতি সমর্থন জানানো যে কাউকে তাৎক্ষণিক আটক ও তল্লাশির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নাগরিক অধিকার আরও সংকুচিত করবে।

দৈনন্দিন জীবনে আতঙ্কের ছায়া
পশ্চিমাঞ্চলের জুলিয়া প্রদেশে এক সবজি বিক্রেতা মাদুরোর গ্রেপ্তারের খবরে উল্লাস করায় দুই দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তির বিনিময়ে ঘুষ আদায় করা হয়েছে। এমন ঘটনা এখন বহু পরিবারের কাছে আতঙ্কের গল্প হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই দমন অভিযানের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, এমন সময়ই তা জোরদার হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন কাজ করবে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে আলোচনা এখনও অগ্রাধিকার পায়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে।

নীরবতা কেন এত গভীর
ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ মানুষ মাদুরোর শাসনের বিরোধী হলেও তার পতনে প্রকাশ্য উদযাপন নেই। ভারী নিরাপত্তা উপস্থিতি আর সম্ভাব্য প্রতিশোধের ভয়ই এই নীরবতার বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বরং সরকারপন্থী সমাবেশ আর নিন্দাবার্তা জোরেশোরে প্রচারিত হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















