ভেনেজুয়েলার তেল খাতে দুই দশক পর আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জাতীয়করণের কারণে একসময় দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া মার্কিন তেল জায়ান্ট এক্সন মোবিল আবার সেখানে ফেরার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে শেভরন জানিয়েছে, তারা অবিলম্বে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে প্রস্তুত।
ভেনেজুয়েলায় এক্সনের আগ্রহের নতুন ইঙ্গিত
এক্সন মোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় ফেরার বিষয়ে কোম্পানি মূল্যায়নে প্রস্তুত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি বিনিয়োগের জন্য উপযোগী নয়। তাঁর মতে, শিল্পের অবস্থা ও সম্পদের বাস্তব চিত্র বোঝার জন্য আগে একটি কারিগরি দল পাঠানো জরুরি। তবে সেই সফর তখনই সম্ভব হবে, যখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।

উডস আরও বলেন, অতীতে দুইবার এক্সনের সম্পদ জব্দ হয়েছে। ফলে তৃতীয়বার ফিরে আসতে হলে টেকসই বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং জ্বালানি আইনে বড় সংস্কার অপরিহার্য। বিশেষ করে হাইড্রোকার্বন আইন পরিবর্তন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

হোয়াইট হাউসের বৈঠক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই মন্তব্যগুলো এসেছে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার পালাবদলের পর এই বৈঠক দ্রুত আয়োজন করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত হন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, যা দেশটির জ্বালানি খাতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
শেভরনের তাৎক্ষণিক উৎপাদন পরিকল্পনা
শেভরনের ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক নেলসন জানান, ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীর বেশি সময়ের উপস্থিতি থাকা এই কোম্পানি বর্তমানে সেখানে কার্যরত একমাত্র মার্কিন তেল প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পিডিভিএসএর সঙ্গে যৌথ প্রকল্পে তারা অবিলম্বে উৎপাদন দ্বিগুণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি নিজেদের নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ কাঠামোর মধ্যেই আগামী আঠারো থেকে চব্বিশ মাসে উৎপাদন প্রায় অর্ধেক বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

পুরোনো বিরোধ ও আইনি দেনা
এক সময় এক্সন, শেভরন ও কনোকোফিলিপস ছিল পিডিভিএসএর প্রধান অংশীদার। হুগো চাভেজ সরকারের আমলে তেল শিল্প জাতীয়করণ হওয়ার পর এক্সন ও কনোকো দেশ ছেড়ে আন্তর্জাতিক সালিশে যায়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার কাছে এই দুই কোম্পানির পাওনা তেরো বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অবকাঠামো সংস্কার ও অর্থায়নের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রত্যাবর্তন কঠিন বলেও মত দেন সংশ্লিষ্ট নির্বাহীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















