ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে বড় তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার জীর্ণ জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে একশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, মার্কিন কোম্পানিগুলো চাইলে ভেনেজুয়েলার নষ্ট হয়ে যাওয়া তেল অবকাঠামো নতুন করে গড়ে তুলতে পারে এবং উৎপাদনকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই আহ্বানের মুখে বিনিয়োগ নিয়ে স্পষ্ট দ্বিধায় রয়েছে বড় বড় তেল সংস্থা ও বিনিয়োগকারীরা।
হোয়াইট হাউসের বৈঠক ও ট্রাম্পের কৌশল
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের পর ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিকে ঘিরে নতুন জ্বালানি কৌশল সামনে আনছে। জানুয়ারির শুরুতে রাতারাতি অভিযানে নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দু তেল। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে তিনি বলেন, কোন কোন তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় যাবে সে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও কমতে পারে।
বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
ট্রাম্পের আশ্বাস সত্ত্বেও বড় তেল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে সতর্ক। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উচ্চ ব্যয় এবং অতীতের অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু তেল সংস্থা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলা কার্যত বিনিয়োগের অযোগ্য। অতীতে দু’বার সম্পদ জাতীয়করণের শিকার হওয়ার স্মৃতি এখনও তাদের কাছে তাজা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন না এলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে।
শেভরনের উপস্থিতি ও অন্যদের সতর্কতা
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় একমাত্র বড় মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন। প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালেও তাড়াহুড়ো করতে নারাজ। অন্যদিকে কিছু ছোট স্বাধীন কোম্পানি ও বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল ট্রাম্পের নীতির প্রশংসা করে ভেনেজুয়েলায় কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। তবে বড় জায়ান্টদের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
ভেনিজুয়েলার তেল খাতের বাস্তব চিত্র
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার উৎপাদন এখন বৈশ্বিক সরবরাহের খুব সামান্য অংশ। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বিনিয়োগ সংকটে দেশটির উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে। সত্তরের দশকে দৈনিক তেল উৎপাদন যেখানে ছিল কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল, এখন তা তার এক তৃতীয়াংশেরও কম। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি বড় প্রকল্পে অর্থায়নের ঝুঁকি কমাতে সরকারি ব্যাংকের সহায়তার কথাও ভাবা হচ্ছে।
লাভের ভাগাভাগি নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা
বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, বিনিয়োগের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, দ্রুত অর্থ ফেরত আনা। তাঁর মতে, এরপর ভেনেজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্র ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে লাভ ভাগ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এই সূত্র খুবই সহজ। কিন্তু বাস্তবে সেই সূত্র কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















