০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি বিচ্ছেদের সবচেয়ে কঠিন সত্য জানালেন জেনিফার গার্নার বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ২০২৬ সালের ইতিবাচক সূচনা ইরানে বিক্ষোভে গুলি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও তীব্র আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ, তিন দিনে নিহত অন্তত সতেরো গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সহজ নয়: অর্থ উপদেষ্টা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যুক্ত হতে আগ্রহ জানাল বাংলাদেশ ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

থাইল্যান্ডে ‘মাফিয়া সন্ন্যাসী’ বিতর্ক: বৌদ্ধ সংঘ কি নিয়ন্ত্রণে আসছে?

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক-এর কাছের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ওয়াট রাই খিং। সোনালি বুদ্ধমূর্তির চারপাশে প্রতিদিন জড়ো হন গেরুয়া বসনের সন্ন্যাসীরা। প্রার্থনা করেন, ধ্যান করেন। সাধারণ মানুষও ভিড় করেন বিশ্বাস আর আশীর্বাদের আশায়। কিন্তু এই পবিত্র স্থানই গত বছর পরিণত হয় এক বিব্রতকর কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে। মন্দিরের প্রধান ভিক্ষুকে অভিযুক্ত করা হয় বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

একের পর এক কেলেঙ্কারি

ওয়াট রাই খিংয়ের ঘটনা ছিল শুধু শুরু। ২০২৫ সালজুড়ে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় পরিমণ্ডল কেঁপে ওঠে একের পর এক অভিযোগে। আরেক প্রভাবশালী মন্দিরের প্রধান ভিক্ষু পালিয়ে যান প্রতিবেশী দেশে। অভিযোগ, এক নারীর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। পুলিশ জানায়, ওই নারী বহু সন্ন্যাসীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিপুল অর্থ আদায় করেছেন। পরে দেশজুড়ে শতাধিক মন্দিরে অভিযান চালিয়ে বহু সন্ন্যাসীসহ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগের তালিকায় ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার মতো গুরুতর বিষয়ও।

এই অভিযান শেষ হওয়ার পরও অভিযোগ থামেনি। বছরের শেষ দিকে আবার এক সন্ন্যাসীকে গ্রেপ্তার করা হয় ঋণ জালিয়াতি চক্রে সহায়তার অভিযোগে। সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন উঠে যায়, ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে কীভাবে এত বড় অনিয়ম চলতে পারল।

ধর্মীয় সংকট ও রাজনীতির ছায়া

থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ সমাজে সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মতো বিস্তৃত ও ধারাবাহিক সংকট আগে দেখা যায়নি। দেশের অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সংবিধান অনুযায়ী রাজপরিবারের দায়িত্ব বৌদ্ধ ধর্ম রক্ষা করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজপরিবার ধর্মীয় বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ দেখাচ্ছে। মন্দিরের প্রধান নিয়োগে তাদের ক্ষমতা বেড়েছে, যা এই কেলেঙ্কারিগুলোর পর আরও আলোচনায় এসেছে।

সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশলও হতে পারে। আবার অনেকের আশঙ্কা, এত কেলেঙ্কারি সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি করছে যে পবিত্র বিষয়গুলো দীর্ঘদিন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

সংস্কার কি যথেষ্ট হবে

বিশ্বাস ফেরাতে বৌদ্ধ সংঘের সর্বোচ্চ পরিষদ আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর নিয়ম জারি করেছে। মন্দিরে নগদ অর্থ রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজনীতিকদের কেউ কেউ সন্ন্যাসীদের অসদাচরণের জন্য কঠোর শাস্তির প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে বাস্তবে এসব নিয়ম কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনিয়র সন্ন্যাসীদের পক্ষে ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা সহজ নয়। আবার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কিছু সন্ন্যাসীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় গভীর সংস্কার করলে সমাজের ক্ষমতাবান অংশও অস্বস্তিতে পড়তে পারে। তাই পুরো ব্যবস্থাকে শুদ্ধ করতে গেলে শুধু কয়েকজনকে দায়ী না করে কাঠামোগত সমস্যার দিকেও নজর দিতে হবে।

থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ সংঘের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই সংকট কি সত্যিকারের পরিবর্তনের পথ খুলবে, নাকি আবার সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি

থাইল্যান্ডে ‘মাফিয়া সন্ন্যাসী’ বিতর্ক: বৌদ্ধ সংঘ কি নিয়ন্ত্রণে আসছে?

০৪:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক-এর কাছের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ওয়াট রাই খিং। সোনালি বুদ্ধমূর্তির চারপাশে প্রতিদিন জড়ো হন গেরুয়া বসনের সন্ন্যাসীরা। প্রার্থনা করেন, ধ্যান করেন। সাধারণ মানুষও ভিড় করেন বিশ্বাস আর আশীর্বাদের আশায়। কিন্তু এই পবিত্র স্থানই গত বছর পরিণত হয় এক বিব্রতকর কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে। মন্দিরের প্রধান ভিক্ষুকে অভিযুক্ত করা হয় বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

একের পর এক কেলেঙ্কারি

ওয়াট রাই খিংয়ের ঘটনা ছিল শুধু শুরু। ২০২৫ সালজুড়ে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় পরিমণ্ডল কেঁপে ওঠে একের পর এক অভিযোগে। আরেক প্রভাবশালী মন্দিরের প্রধান ভিক্ষু পালিয়ে যান প্রতিবেশী দেশে। অভিযোগ, এক নারীর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। পুলিশ জানায়, ওই নারী বহু সন্ন্যাসীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিপুল অর্থ আদায় করেছেন। পরে দেশজুড়ে শতাধিক মন্দিরে অভিযান চালিয়ে বহু সন্ন্যাসীসহ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগের তালিকায় ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার মতো গুরুতর বিষয়ও।

এই অভিযান শেষ হওয়ার পরও অভিযোগ থামেনি। বছরের শেষ দিকে আবার এক সন্ন্যাসীকে গ্রেপ্তার করা হয় ঋণ জালিয়াতি চক্রে সহায়তার অভিযোগে। সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন উঠে যায়, ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে কীভাবে এত বড় অনিয়ম চলতে পারল।

ধর্মীয় সংকট ও রাজনীতির ছায়া

থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ সমাজে সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মতো বিস্তৃত ও ধারাবাহিক সংকট আগে দেখা যায়নি। দেশের অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সংবিধান অনুযায়ী রাজপরিবারের দায়িত্ব বৌদ্ধ ধর্ম রক্ষা করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজপরিবার ধর্মীয় বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ দেখাচ্ছে। মন্দিরের প্রধান নিয়োগে তাদের ক্ষমতা বেড়েছে, যা এই কেলেঙ্কারিগুলোর পর আরও আলোচনায় এসেছে।

সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশলও হতে পারে। আবার অনেকের আশঙ্কা, এত কেলেঙ্কারি সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি করছে যে পবিত্র বিষয়গুলো দীর্ঘদিন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

সংস্কার কি যথেষ্ট হবে

বিশ্বাস ফেরাতে বৌদ্ধ সংঘের সর্বোচ্চ পরিষদ আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর নিয়ম জারি করেছে। মন্দিরে নগদ অর্থ রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজনীতিকদের কেউ কেউ সন্ন্যাসীদের অসদাচরণের জন্য কঠোর শাস্তির প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে বাস্তবে এসব নিয়ম কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনিয়র সন্ন্যাসীদের পক্ষে ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা সহজ নয়। আবার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কিছু সন্ন্যাসীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় গভীর সংস্কার করলে সমাজের ক্ষমতাবান অংশও অস্বস্তিতে পড়তে পারে। তাই পুরো ব্যবস্থাকে শুদ্ধ করতে গেলে শুধু কয়েকজনকে দায়ী না করে কাঠামোগত সমস্যার দিকেও নজর দিতে হবে।

থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ সংঘের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই সংকট কি সত্যিকারের পরিবর্তনের পথ খুলবে, নাকি আবার সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে।