০৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ফ্রান্সের রাজনীতি অচল, দায় কার

ফ্রান্সের রাজনীতি এখন কার্যত থমকে আছে। বাজেট নেই, সরকার টলমল, সংসদ অচল। ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলো যেখানে আর্থিক শৃঙ্খলায় ফিরছে, সেখানে ফ্রান্স ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। টানা তিন বছর ধরে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির পাঁচ শতাংশের ওপরে। তবু ২০২৬ সালের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস হয়নি। মাস শেষ হওয়ার আগেই আরেক দফা সংসদীয় লড়াইয়ের মুখে দেশটি।

গত কয়েক বছরে ইতালি, গ্রিস ও স্পেন ইউরোপীয় নিয়ম মেনে ঘাটতি কমিয়েছে। অথচ ইউরোজোন সংকট যাদের উদ্ধার করেছিল ফ্রান্স, তাদের কাছেই এখন অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে প্যারিস। এই বাস্তবতা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বাজেট নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এখন গভীর রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রতীক।

ক্ষমতার শেষ প্রান্তে প্রেসিডেন্সি

বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পনেরো মাস চলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সক্রিয় থাকলেও ঘরের ভেতরে প্রায় অচল। জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে কুড়ি শতাংশের নিচে। বিভক্ত জাতীয় সংসদে তাঁর জোটের আসন সংখ্যা এতই কম যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ডান ও বাম উগ্র রাজনীতি এই স্থবিরতায় আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে।

এই অচলাবস্থার শুরু হয়েছিল পেনশন সংস্কার ঘিরে। অবসর বয়স বাষট্টি থেকে চৌষট্টিতে তোলার সিদ্ধান্ত জনসংখ্যাগত বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু বিরোধী দল ও ট্রেড ইউনিয়নের তীব্র আন্দোলনে সেই সংস্কার রাস্তায় গড়ায়। এরপর ইউরোপীয় নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের সাফল্যের পর আগাম সংসদ নির্বাচন ডেকে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হয়। ফলাফল হিসেবে কেন্দ্রীয় শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একের পর এক সরকার পতন

নতুন প্রধানমন্ত্রীদের কেউই টিকতে পারেননি। কেউ বাজেট প্রস্তাব দেন, সংসদ তা নাকচ করে। কেউ আংশিক বাজেট পাশ করাতে গিয়ে পেনশন সংস্কার স্থগিত করেন, আবার কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবু শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের বাজেট টেনে এনে ২০২৬ সালে চালাতে হচ্ছে। এতে আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

রাজনীতির প্রধান সব পক্ষই এখানে দায় এড়াতে পারে না। উগ্র বাম ও ডান শিবির ক্ষমতার পতনের অপেক্ষায়, সমাজতন্ত্রী ও সবুজপন্থীরা কর বাড়ানো ছাড়া সমাধান দেখাতে পারছে না, আর তথাকথিত রক্ষণশীলরাও ব্যয়বহুল ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দ্বিমুখী চাপ

এই সংকট এমন সময়ে, যখন ইউরোপ নিরাপত্তা হুমকির মুখে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হবে। অথচ ফ্রান্সের ঋণ ইতিমধ্যেই জিডিপির একশ সতেরো শতাংশ ছাড়িয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় মানে কাটছাঁট বা কর বৃদ্ধি, কিন্তু দেশটির কর হার ইতিমধ্যেই শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বাজারই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকদের শাসন করতে পারে। জানুয়ারির মধ্যে বাজেট সমাধান না হলে নতুন নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে। দায়িত্বের ভার কাঁধে পড়লে উগ্র রাজনীতিও হয়তো বাস্তবতায় ফিরতে বাধ্য হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ফ্রান্সের রাজনীতি অচল, দায় কার

০৪:৪১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্রান্সের রাজনীতি এখন কার্যত থমকে আছে। বাজেট নেই, সরকার টলমল, সংসদ অচল। ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলো যেখানে আর্থিক শৃঙ্খলায় ফিরছে, সেখানে ফ্রান্স ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। টানা তিন বছর ধরে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির পাঁচ শতাংশের ওপরে। তবু ২০২৬ সালের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস হয়নি। মাস শেষ হওয়ার আগেই আরেক দফা সংসদীয় লড়াইয়ের মুখে দেশটি।

গত কয়েক বছরে ইতালি, গ্রিস ও স্পেন ইউরোপীয় নিয়ম মেনে ঘাটতি কমিয়েছে। অথচ ইউরোজোন সংকট যাদের উদ্ধার করেছিল ফ্রান্স, তাদের কাছেই এখন অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে প্যারিস। এই বাস্তবতা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বাজেট নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এখন গভীর রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রতীক।

ক্ষমতার শেষ প্রান্তে প্রেসিডেন্সি

বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পনেরো মাস চলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সক্রিয় থাকলেও ঘরের ভেতরে প্রায় অচল। জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে কুড়ি শতাংশের নিচে। বিভক্ত জাতীয় সংসদে তাঁর জোটের আসন সংখ্যা এতই কম যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ডান ও বাম উগ্র রাজনীতি এই স্থবিরতায় আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে।

এই অচলাবস্থার শুরু হয়েছিল পেনশন সংস্কার ঘিরে। অবসর বয়স বাষট্টি থেকে চৌষট্টিতে তোলার সিদ্ধান্ত জনসংখ্যাগত বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু বিরোধী দল ও ট্রেড ইউনিয়নের তীব্র আন্দোলনে সেই সংস্কার রাস্তায় গড়ায়। এরপর ইউরোপীয় নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের সাফল্যের পর আগাম সংসদ নির্বাচন ডেকে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হয়। ফলাফল হিসেবে কেন্দ্রীয় শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একের পর এক সরকার পতন

নতুন প্রধানমন্ত্রীদের কেউই টিকতে পারেননি। কেউ বাজেট প্রস্তাব দেন, সংসদ তা নাকচ করে। কেউ আংশিক বাজেট পাশ করাতে গিয়ে পেনশন সংস্কার স্থগিত করেন, আবার কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবু শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের বাজেট টেনে এনে ২০২৬ সালে চালাতে হচ্ছে। এতে আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

রাজনীতির প্রধান সব পক্ষই এখানে দায় এড়াতে পারে না। উগ্র বাম ও ডান শিবির ক্ষমতার পতনের অপেক্ষায়, সমাজতন্ত্রী ও সবুজপন্থীরা কর বাড়ানো ছাড়া সমাধান দেখাতে পারছে না, আর তথাকথিত রক্ষণশীলরাও ব্যয়বহুল ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দ্বিমুখী চাপ

এই সংকট এমন সময়ে, যখন ইউরোপ নিরাপত্তা হুমকির মুখে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হবে। অথচ ফ্রান্সের ঋণ ইতিমধ্যেই জিডিপির একশ সতেরো শতাংশ ছাড়িয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় মানে কাটছাঁট বা কর বৃদ্ধি, কিন্তু দেশটির কর হার ইতিমধ্যেই শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বাজারই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকদের শাসন করতে পারে। জানুয়ারির মধ্যে বাজেট সমাধান না হলে নতুন নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে। দায়িত্বের ভার কাঁধে পড়লে উগ্র রাজনীতিও হয়তো বাস্তবতায় ফিরতে বাধ্য হবে।