০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি বিচ্ছেদের সবচেয়ে কঠিন সত্য জানালেন জেনিফার গার্নার বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ২০২৬ সালের ইতিবাচক সূচনা ইরানে বিক্ষোভে গুলি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও তীব্র আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ, তিন দিনে নিহত অন্তত সতেরো গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সহজ নয়: অর্থ উপদেষ্টা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যুক্ত হতে আগ্রহ জানাল বাংলাদেশ ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফ্রান্সের রাজনীতি অচল, দায় কার

ফ্রান্সের রাজনীতি এখন কার্যত থমকে আছে। বাজেট নেই, সরকার টলমল, সংসদ অচল। ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলো যেখানে আর্থিক শৃঙ্খলায় ফিরছে, সেখানে ফ্রান্স ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। টানা তিন বছর ধরে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির পাঁচ শতাংশের ওপরে। তবু ২০২৬ সালের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস হয়নি। মাস শেষ হওয়ার আগেই আরেক দফা সংসদীয় লড়াইয়ের মুখে দেশটি।

গত কয়েক বছরে ইতালি, গ্রিস ও স্পেন ইউরোপীয় নিয়ম মেনে ঘাটতি কমিয়েছে। অথচ ইউরোজোন সংকট যাদের উদ্ধার করেছিল ফ্রান্স, তাদের কাছেই এখন অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে প্যারিস। এই বাস্তবতা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বাজেট নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এখন গভীর রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রতীক।

ক্ষমতার শেষ প্রান্তে প্রেসিডেন্সি

বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পনেরো মাস চলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সক্রিয় থাকলেও ঘরের ভেতরে প্রায় অচল। জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে কুড়ি শতাংশের নিচে। বিভক্ত জাতীয় সংসদে তাঁর জোটের আসন সংখ্যা এতই কম যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ডান ও বাম উগ্র রাজনীতি এই স্থবিরতায় আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে।

এই অচলাবস্থার শুরু হয়েছিল পেনশন সংস্কার ঘিরে। অবসর বয়স বাষট্টি থেকে চৌষট্টিতে তোলার সিদ্ধান্ত জনসংখ্যাগত বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু বিরোধী দল ও ট্রেড ইউনিয়নের তীব্র আন্দোলনে সেই সংস্কার রাস্তায় গড়ায়। এরপর ইউরোপীয় নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের সাফল্যের পর আগাম সংসদ নির্বাচন ডেকে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হয়। ফলাফল হিসেবে কেন্দ্রীয় শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একের পর এক সরকার পতন

নতুন প্রধানমন্ত্রীদের কেউই টিকতে পারেননি। কেউ বাজেট প্রস্তাব দেন, সংসদ তা নাকচ করে। কেউ আংশিক বাজেট পাশ করাতে গিয়ে পেনশন সংস্কার স্থগিত করেন, আবার কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবু শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের বাজেট টেনে এনে ২০২৬ সালে চালাতে হচ্ছে। এতে আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

রাজনীতির প্রধান সব পক্ষই এখানে দায় এড়াতে পারে না। উগ্র বাম ও ডান শিবির ক্ষমতার পতনের অপেক্ষায়, সমাজতন্ত্রী ও সবুজপন্থীরা কর বাড়ানো ছাড়া সমাধান দেখাতে পারছে না, আর তথাকথিত রক্ষণশীলরাও ব্যয়বহুল ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দ্বিমুখী চাপ

এই সংকট এমন সময়ে, যখন ইউরোপ নিরাপত্তা হুমকির মুখে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হবে। অথচ ফ্রান্সের ঋণ ইতিমধ্যেই জিডিপির একশ সতেরো শতাংশ ছাড়িয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় মানে কাটছাঁট বা কর বৃদ্ধি, কিন্তু দেশটির কর হার ইতিমধ্যেই শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বাজারই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকদের শাসন করতে পারে। জানুয়ারির মধ্যে বাজেট সমাধান না হলে নতুন নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে। দায়িত্বের ভার কাঁধে পড়লে উগ্র রাজনীতিও হয়তো বাস্তবতায় ফিরতে বাধ্য হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি

ফ্রান্সের রাজনীতি অচল, দায় কার

০৪:৪১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্রান্সের রাজনীতি এখন কার্যত থমকে আছে। বাজেট নেই, সরকার টলমল, সংসদ অচল। ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলো যেখানে আর্থিক শৃঙ্খলায় ফিরছে, সেখানে ফ্রান্স ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। টানা তিন বছর ধরে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির পাঁচ শতাংশের ওপরে। তবু ২০২৬ সালের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস হয়নি। মাস শেষ হওয়ার আগেই আরেক দফা সংসদীয় লড়াইয়ের মুখে দেশটি।

গত কয়েক বছরে ইতালি, গ্রিস ও স্পেন ইউরোপীয় নিয়ম মেনে ঘাটতি কমিয়েছে। অথচ ইউরোজোন সংকট যাদের উদ্ধার করেছিল ফ্রান্স, তাদের কাছেই এখন অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে প্যারিস। এই বাস্তবতা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বাজেট নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এখন গভীর রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রতীক।

ক্ষমতার শেষ প্রান্তে প্রেসিডেন্সি

বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পনেরো মাস চলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সক্রিয় থাকলেও ঘরের ভেতরে প্রায় অচল। জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে কুড়ি শতাংশের নিচে। বিভক্ত জাতীয় সংসদে তাঁর জোটের আসন সংখ্যা এতই কম যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ডান ও বাম উগ্র রাজনীতি এই স্থবিরতায় আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে।

এই অচলাবস্থার শুরু হয়েছিল পেনশন সংস্কার ঘিরে। অবসর বয়স বাষট্টি থেকে চৌষট্টিতে তোলার সিদ্ধান্ত জনসংখ্যাগত বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু বিরোধী দল ও ট্রেড ইউনিয়নের তীব্র আন্দোলনে সেই সংস্কার রাস্তায় গড়ায়। এরপর ইউরোপীয় নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের সাফল্যের পর আগাম সংসদ নির্বাচন ডেকে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হয়। ফলাফল হিসেবে কেন্দ্রীয় শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একের পর এক সরকার পতন

নতুন প্রধানমন্ত্রীদের কেউই টিকতে পারেননি। কেউ বাজেট প্রস্তাব দেন, সংসদ তা নাকচ করে। কেউ আংশিক বাজেট পাশ করাতে গিয়ে পেনশন সংস্কার স্থগিত করেন, আবার কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবু শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের বাজেট টেনে এনে ২০২৬ সালে চালাতে হচ্ছে। এতে আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

রাজনীতির প্রধান সব পক্ষই এখানে দায় এড়াতে পারে না। উগ্র বাম ও ডান শিবির ক্ষমতার পতনের অপেক্ষায়, সমাজতন্ত্রী ও সবুজপন্থীরা কর বাড়ানো ছাড়া সমাধান দেখাতে পারছে না, আর তথাকথিত রক্ষণশীলরাও ব্যয়বহুল ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দ্বিমুখী চাপ

এই সংকট এমন সময়ে, যখন ইউরোপ নিরাপত্তা হুমকির মুখে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হবে। অথচ ফ্রান্সের ঋণ ইতিমধ্যেই জিডিপির একশ সতেরো শতাংশ ছাড়িয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় মানে কাটছাঁট বা কর বৃদ্ধি, কিন্তু দেশটির কর হার ইতিমধ্যেই শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বাজারই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকদের শাসন করতে পারে। জানুয়ারির মধ্যে বাজেট সমাধান না হলে নতুন নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে। দায়িত্বের ভার কাঁধে পড়লে উগ্র রাজনীতিও হয়তো বাস্তবতায় ফিরতে বাধ্য হবে।