নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশে ফেরার আগ্রহ ও প্রত্যাশা
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশে আবার ফিরে আসতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যাকে তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে একটি দক্ষ দলের নেতৃত্ব দিতে তিনি আগ্রহী। তাঁর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত করা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিদিন কাজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করা।
শপথগ্রহণ ও আনুষ্ঠানিকতা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বাগত জানানো হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস তাঁকে শপথ পাঠ করান। এ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারাও অংশ নেন।
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সমর্থন
অনুষ্ঠানে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পক্ষে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সেনেট অনুমোদন ও ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি নিজের লিংকডইন বার্তায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন পাওয়াকে তিনি সম্মানের বলে মনে করেন। পাশাপাশি তাঁকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ পথচলা
সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে মনোনয়ন শুনানিতে তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটি নতুন সরকার ও নতুন দিকনির্দেশনা বেছে নেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত পটভূমি
বাংলাদেশবিষয়ক মার্কিন নীতিতে কাজ করার দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। তাঁর কর্মজীবনে ঢাকায় পূর্বের একটি দায়িত্ব পালনও রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিষয়ক দপ্তরে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার হিসেবেও কাজ করেছেন।
এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক ব্যুরোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র স্থানান্তর দপ্তরের উপপরিচালক, হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকমিটিতে পিয়ারসন ফেলো, উত্তর কোরিয়া নীতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারীসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটির মার্কিন কূটনৈতিক মিশনেও তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।
দীর্ঘদিন রাষ্ট্রদূতবিহীন দূতাবাস
ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে পিটার হাসের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রদূতবিহীন ছিল। এই সময়টিতে পর্যায়ক্রমে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সরা দূতাবাসের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















