ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল ভোটের ফলাফল। ভিপি জিএস ও এজিএস এই তিনটি শীর্ষ পদেই জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির-সমর্থিত অদম্য যবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা। ঘোষিত ফলাফলে স্পষ্ট, দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও ভোটের রায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

ঘোষণা ও ভোটের সার্বিক চিত্র
বৃহস্পতিবার রাত একটায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তাফা হাসান মোট চল্লিশটি কেন্দ্রের মধ্যে আটত্রিশটির ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। নিবন্ধিত ভোটারের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা আরও জোরালো হয়েছে।
ভিপি পদে ফলাফল
সহসভাপতি পদে অদম্য যবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পাঁচ হাজার পাঁচশ চৌষট্টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক যবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন চার হাজার ছয়শ আটাশি ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় আটশ আশি।

জিএস পদে বড় ব্যবধান
সাধারণ সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন পাঁচ হাজার চারশ সত্তর ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন দুই হাজার দুইশ তিন ভোট। এই পদে ব্যবধান তিন হাজারেরও বেশি, যা নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।
এজিএস পদেও জয়
সহসাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন পাঁচ হাজার দুই ভোট। অপর প্রার্থী বি এম আতীকুর তানজিল পেয়েছেন তিন হাজার আটশ আটষট্টি ভোট। এখানেও জয় ধরে রেখেছে অদম্য যবিয়ান ঐক্য প্যানেল।

ভোটার উপস্থিতি ও নারী হল নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদের তথ্যমতে, মোট একুশ হাজারের কম ভোটারের মধ্যে প্রায় পঁয়ষট্টি শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী আবাসিক হল নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় সাতাত্তর শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















