ভেনিজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পাঠানোর সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এলেও বাস্তবতার পথে কাঁটা ছড়ানো। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত মিলতেই তেল কোম্পানি ও জাহাজ সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসেছে। কিন্তু জাহাজের ঘাটতি, পুরোনো ট্যাংকার, বন্দর অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা আর বীমা জটিলতায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ধীরগতির হয়ে পড়ছে।
জাহাজ ও বন্দরের চাপে শুরুতেই বাধা
দীর্ঘ অবরোধে ভেনিজুয়েলার তেল আটকে আছে পুরোনো ট্যাংকার ও স্থল ভিত্তিক ট্যাংকে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ট্যাংকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ছায়ায় থাকা জাহাজের সঙ্গে লেনদেন বীমা ও আইনি জটিলতা তৈরি করছে, ফলে লোডিংয়ের গতি কমছে। বন্দরে তেল তোলার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।
বড় ব্যবসায়ীদের অনুমতির দৌড়
এই পরিস্থিতিতে বড় আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ীরা সরকারি অনুমোদন ও লোডিং স্লট পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ ফেরাতে দ্রুত উদ্যোগের ঘোষণা এলেও কাগজে অনুমতির পর বাস্তবে জাহাজ জোগাড় করতে সময় লাগছে। প্রথম চালান নিয়ে আশাবাদ থাকলেও সময়সূচি বারবার বদলাচ্ছে।

জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের কৌশল
বন্দর চাপ কমাতে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। আমুয়াই উপসাগর সহ ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এই পদ্ধতি আগে ব্যবহার হয়েছে। তবে এতে খরচ বেশি এবং দক্ষ জনবল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে।
ছোট জাহাজের অভাব বড় বাধা
বড় ট্যাংকার থেকে বন্দরে তেল আনতে যে ছোট জাহাজ দরকার, তার ঘাটতি প্রকট। যন্ত্রপাতির দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ও সমস্যাকে বাড়াচ্ছে। ফলে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে তেল পাঠানো সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে, নতুন চাহিদা সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।

লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়
এক সময় ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পাঠাত। সেই মাত্রায় ফিরতে হলে জমে থাকা ট্যাংকার ও স্থলভাগের মজুত একসঙ্গে খালি করতে হবে। বাস্তবে নির্ধারিত সময়ে এই কাজ শেষ করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধান তেল টার্মিনালে লোডিং স্লট নিয়ে প্রতিযোগিতাও তীব্র।
মিশ্রণের প্রস্তুতি ও শেষ চ্যালেঞ্জ
ভারী ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন ও পরিশোধন সহজ করতে বিশেষ মিশ্রণের দরকার হয়। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উপাদান আগেভাগে জোগাড় করা না গেলে রপ্তানির পথে আরেকটি বাধা তৈরি হবে। সব মিলিয়ে সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের পথে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















